প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মোহাম্মদ আশরাফুলের ওপর দিয়ে ঝড়টি বয়ে গেছে। বিদেশের মাটিতে সাম্প্রতিক ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং বারবার ভেঙে পড়েছে। আবুধাবির ত্রিদেশীয় সিরিজে দুই ম্যাচের কোনোটিতেই পুরো ৫০ ওভার টিকতে পারেনি দল। গুটিয়ে গেছে ১৭২ ও ১৬০ রানে। বড় ব্যবধানে হার এসেছে, তাও আবার জিম্বাবুয়ে এবং আফগানিস্তানের কাছে। শনিবার, সেই ব্যর্থতার দায় চুকিয়ে জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচের পদ হারালেন আশরাফুল।
শনিবার রাতে একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিসিবি জানায়, জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচের দায়িত্বে পরিবর্তন আনা হয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে নিয়োগ পাওয়া আশরাফুলকে এই সময়ে দলের সঙ্গে কাজ করার জন্য বোর্ড কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, তাঁকে বোর্ডের অন্য একটি দায়িত্বে রাখা হবে, তবে সেটি কী হবে, তা এখনো ঠিক হয়নি।
মিরপুরে শনিবার দুপুরে খেলোয়াড়দের সঙ্গে অনুশীলন শেষ করার পরেই আশরাফুলকে সিদ্ধান্তটি জানানো হয়। বিদায়ের খবর শুনে আশরাফুল খুব অবাক হননি। সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় তিনি শুধু বলেছেন, ‘এখন আমি আর জাতীয় দলের সঙ্গে নেই, অপেক্ষায় আছি পরের দায়িত্বের।’
শনিবার দলের সঙ্গে অনুশীলনে আশরাফুল বেশ হাসিখুশি মেজাজেই ছিলেন। আপাতত আশরাফুলের জায়গায় ভারপ্রাপ্ত ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব পালন করবেন বিসিবির হাই পারফরম্যান্স বিভাগের প্রধান কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন। নতুন কোচ নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত তিনিই ব্যাটিং বিভাগ সামলাবেন। বিসিবি ব্যাটিং কোচ হিসেবে বিদেশি কাউকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং বেশ কয়েকজন ব্যাটিং কোচের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে।
জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ হিসেবে আশরাফুলের পেছনের এক বছর সময়টা খুব খারাপ কাটেনি, বিশেষ করে টেস্টে। তাঁর সময়ে আট টেস্টের পাঁচটিতে বাংলাদেশ জিতেছে। ড্র হয়েছে একটি, হার হয়েছে দুটি। জয়ের হার প্রায় ৬৩ শতাংশ। সাদা বলেও এসেছে বড় কিছু মুহূর্ত। মার্চে ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে হারিয়েছে দল। জুনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জিতেছে ওয়ানডে সিরিজ, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম।
সবচেয়ে বড় গল্পটি ডারউইনের। অস্ট্রেলিয়া সফরের প্রস্তুতি ম্যাচে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের কাছে বাংলাদেশ মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হয়েছিল। এক সপ্তাহের ব্যবধানে সেই দলই টেস্টের প্রথম ইনিংসে তুলেছে ৪২৬ রান। তানজিদ হাসান করেছেন ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি, ১০১ রান। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কোনো বাংলাদেশি ব্যাটারের এটি প্রথম শতক। শান্ত করেছেন ৮৪, মিরাজ ৬৫। ২২৮ রানের লিড নিয়ে নয় উইকেটের জয়, শেষ পর্যন্ত সিরিজ ১-১ ড্র হয়েছে।
তবে আশরাফুলের বিদায়ের কারণ লুকিয়ে আছে সাম্প্রতিক ওয়ানডে ক্রিকেটের ফলাফলে। আবুধাবিতে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ৩৩.৪ ওভারে ১৭২ রানে ইনিংস শেষ হয়েছে, হার ৯৯ রানে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ের চিত্র আরও খারাপ। ৪১.২ ওভারে ১৬০ রানেই থেমে যায় দলের ইনিংস। আরেকটি বড় ব্যবধানে হার এবং সিরিজ থেকে বিদায়।
হিসাব অনুযায়ী, শেষ ছয় ওয়ানডের পাঁচটিতেই বাংলাদেশ হেরেছে। ম্যাচ শেষে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয় মেনে নিয়েছেন, বিদেশে দলের ব্যাটিং ইউনিট ধারাবাহিকভাবে খারাপ করছে। তাঁর মতে, সমস্যাটি মানসিকতার।
এশিয়ান গেমসেও একই গল্প। সেমিফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৩ ওভারে ১১১ রান করেছে বাংলাদেশ। ছয় ওভারের মধ্যেই পড়ে গিয়েছিল চার উইকেট, রান তখন ৪৫। ব্রোঞ্জ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার ১৬৫ রানের জবাবে অলআউট হয়েছে ১০২, হার ৬৩ রানে। এশিয়ান গেমসের ক্রিকেটে বাংলাদেশকে এই প্রথম কোনো পদক ছাড়াই ফিরতে হলো।
ঘটনাচক্রে, ব্যাটিংয়ের দায়িত্ব আবারও সালাহউদ্দিনের হাতে গেল। গত নভেম্বরে আশরাফুলকে বিশেষ ব্যাটিং কোচ করার সময়েই পদত্যাগপত্র দিয়েছিলেন তিনি। ব্যাটারদের ব্যর্থতা নিয়ে সমালোচনা তখন তাঁকেও ছুঁয়ে গিয়েছিল। পরে আলোচনার পর পদত্যাগ প্রত্যাহার করেন সালাহউদ্দিন, আর বোর্ড জানায়, দুজনই থাকবেন।
আগামী ২৮ অক্টোবর থেকে মিরপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজ শুরু হবে। সালাহউদ্দিনের জন্য সেটি হবে প্রথম পরীক্ষা। আরও বড় পরীক্ষা অপেক্ষা করছে ওয়ানডে বিশ্বকাপে, যার আর এক বছরের মতো বাকি।
পরিসংখ্যান বলছে, আশরাফুলের অধ্যায় পুরোপুরি ব্যর্থতার ছিল না। টেস্টে জয় এসেছে, অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর স্মৃতিও রয়েছে। কিন্তু বিদেশের মাটিতে ওয়ানডেতে একই ভুলের পুনরাবৃত্তিই শেষ পর্যন্ত তাঁর বিদায়ের কারণ হয়ে দাঁড়াল। কোচ বদলালেই কি বাংলাদেশের ব্যাটিং বদলে যাবে? সালাহউদ্দিন বা নতুন কোনো কোচ এসে আসলে কী বদলাতে পারেন, সেই অপেক্ষায় বাংলাদেশের ক্রিকেট!
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন