প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কখনো সাদা-কালো পারিবারিক অ্যালবাম, কখনো পুরোনো বলিউড সিনেমার পোস্টার—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন যেন ফিরে এসেছে আশির দশক। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (Artificial Intelligence) ব্যবহার করে নিজেদের বর্তমান ছবিকে আশির দশকের আবহে রূপ দিচ্ছেন ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীরা।
গত কয়েক দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ফিড, স্টোরি ও প্রোফাইলজুড়ে দেখা যাচ্ছে এই ভিন্টেজ লুকের অসংখ্য ছবি। এআইয়ের মাধ্যমে তৈরি এসব ছবিতে অনেক সময় এতটাই বাস্তবসম্মত পুরোনো দিনের আবহ ফুটে উঠছে যে, দেখলে মনে হতে পারে ছবিগুলো সত্যিই কয়েক দশক আগে তোলা।
ছবিতে ফিরছে ৮০-এর দশকের ফ্যাশন
এই ট্রেন্ডের ছবিগুলোতে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ছে সে সময়ের পোশাক, চুলের স্টাইল ও ফটোগ্রাফির ধরন।
নারীদের ছবিতে দেখা যাচ্ছে রঙিন শাড়ি, বড় আকারের চুলের স্টাইল, ঐতিহ্যবাহী গয়না ও উষ্ণ স্টুডিও লাইটিং। পুরুষদের ক্ষেত্রে উঠে আসছে হাই-ওয়েস্ট ট্রাউজার, রঙিন শার্ট, গোঁফ ও আশির দশকের জনপ্রিয় হেয়ারস্টাইল।
ছবির সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে অ্যানালগ ক্যামেরার মতো গ্রেইন, সফট ফোকাস, উষ্ণ রঙ ও সামান্য বিবর্ণ টোন। ফলে আধুনিক ডিজিটাল ছবিও দেখতে হয়ে উঠছে পুরোনো ফিল্ম ক্যামেরায় তোলা ছবির মতো।
কয়েকটি নির্দেশনাতেই তৈরি হচ্ছে ভিন্টেজ ছবি
এ ধরনের ছবি তৈরির জন্য ব্যবহারকারীরা নিজেদের ছবি এআই প্ল্যাটফর্মে আপলোড করে নির্দিষ্ট নির্দেশনা বা প্রম্পট দিচ্ছেন। সেখানে পোশাক, চুল, ব্যাকগ্রাউন্ড, আলো এবং ছবির সময়কাল সম্পর্কে বিস্তারিত বলা হচ্ছে।
কেউ চাইছেন পুরোনো বাংলাদেশি পারিবারিক অ্যালবামের মতো ছবি, আবার কেউ বেছে নিচ্ছেন আশির দশকের বলিউড স্টুডিও পোর্ট্রেট বা ম্যাগাজিন কভারের স্টাইল।
প্রযুক্তিগত জ্ঞান খুব বেশি না থাকলেও এখন সহজেই এসব ছবি তৈরি করা যাচ্ছে। ফলে ট্রেন্ডটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
নস্টালজিয়াই মূল আকর্ষণ
এই ট্রেন্ডের জনপ্রিয়তার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে নস্টালজিয়া। আশির দশকের সঙ্গে যাঁদের সরাসরি স্মৃতি রয়েছে, তাঁরা ফিরে পাচ্ছেন পুরোনো সময়ের আবহ। আর নতুন প্রজন্মের কাছে তৈরি হচ্ছে এমন একটি সময়কে দেখার সুযোগ, যে সময় তারা নিজেরা দেখেনি।
অনেকে আবার বাবা-মা বা পরিবারের পুরোনো ছবির আদলে নিজেদের ছবি তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করছেন। ফলে ব্যক্তিগত স্মৃতির সঙ্গে আধুনিক এআই প্রযুক্তির একটি নতুন ধরনের সংযোগ তৈরি হচ্ছে।
ছবি আপলোডের আগে সতর্কতা জরুরি
তবে এআই প্ল্যাটফর্মে ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহারের ক্ষেত্রে গোপনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। কোনো প্ল্যাটফর্মে ছবি আপলোড করার আগে সেই প্ল্যাটফর্মের Privacy Policy, ডেটা সংরক্ষণ এবং ছবি কীভাবে ব্যবহার করা হতে পারে—এসব বিষয় জেনে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে ব্যক্তিগত, পারিবারিক বা সংবেদনশীল ছবি এআই টুলে ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
প্রযুক্তির অগ্রগতিতে এখন কয়েকটি নির্দেশনার মাধ্যমেই কয়েক দশক আগের সময়ের আবহ তৈরি করা সম্ভব। আর সেই প্রযুক্তির হাত ধরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্তমানে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ‘৮০-এর দশকের ভিন্টেজ ফটো ট্রেন্ড’।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন