মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:১৯ পি.এম
ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা
নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার ঘটাতে এবং টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের জন্য বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এ বিষয়ে আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিদ্যুৎ বিভাগে পাওয়া বিভিন্ন দরপত্রের মূল্য এবং বর্তমান বাজারদর বিবেচনায় ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় প্রতি ইউনিট সর্বোচ্চ ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ প্রণোদনার অংশ হিসেবে ২০ শতাংশ মুনাফা এবং ১১.২৫ শতাংশ প্রিমিয়াম যুক্ত করে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। যদি কোনো গ্রাহক নির্ধারিত ব্যয়ের চেয়ে কম খরচে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে সক্ষম হন, তাহলে সাশ্রয়কৃত অর্থ তার লভ্যাংশ হিসেবে গণ্য হবে।
নেট মিটারিং নির্দেশিকা, ২০২৫ অনুযায়ী, যেসব গ্রাহক ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭-এর মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করে নিজেদের ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করবেন, তাদের জন্য পরবর্তী তিন বছর অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০৩০ পর্যন্ত গ্রিডে সরবরাহ করা প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে মূল্য প্রদান করা হবে।
বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলো গ্রাহকদের তথ্য সংরক্ষণ করবে, জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা বিদ্যুতের পরিমাণ নিরূপণ করবে এবং প্রণোদনা ও বিদ্যুতের মূল্যসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করবে। প্রণোদনার অর্থ গ্রাহকের ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে পাঠানো হবে। নগদ অর্থ প্রদান করা যাবে না। তবে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭-এর পর স্থাপিত সিস্টেমের ক্ষেত্রে এ প্রণোদনা প্রযোজ্য হবে না।
প্রজ্ঞাপনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে ব্যবহৃত সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, ইনভার্টার, মিটারসহ সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এবং টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা) দ্বারা নির্ধারিত কারিগরি মানদণ্ড অনুযায়ী হতে হবে।
এ সংক্রান্ত নীতিগত সহায়তা প্রদান করার জন্য বিদ্যুৎ বিভাগ ইতিমধ্যে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টার স্থাপন করেছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলোর আওতাধীন সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কার্যালয় থেকেও এ বিষয়ে সহায়তা পাওয়া যাবে। ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে এ প্রজ্ঞাপন কার্যকর হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নতুন বিমান চলাচল বিধিমালা প্রণয়নের আহ্বান বিনিয়োগ ও যাত্রীবান্ধব
৪২ বছর পর বেসামরিক বিমান চলাচল বিধিমালা-১৯৮৪ সংশোধন করে নতুন বিধিমালা তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। বেসামরিক বিমান চলাচল বিধিমালা-২০২৬ প্রস্তাবিত খসড়ায় ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি যাত্রীসেবার মান, বিমান চলাচলের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে নতুন বিধিমালার খসড়া চূড়ান্তকরণের বিষয়ক সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী বলেন, বেসামরিক বিমান খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। তাই নতুন বিধিমালা অবশ্যই ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব হতে হবে। একইসাথে যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন এবং বেসামরিক বিমান চলাচলে সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় বিধান সংযুক্ত করতে হবে।
এয়ারলাইন্স প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, নতুন বিধিমালা প্রণয়নে বেসরকারি খাতের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ-সংক্রান্ত বিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। উড়োজাহাজের জটিল যন্ত্রাংশের রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও ওভারহল সংক্রান্ত বিদ্যমান জটিলতা নিরসনের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, কেপটাউন কনভেনশনের শর্ত অনুসরণ করে বিমান-সম্পর্কিত সম্পদের আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ও লিজিংয়ের অধিকার সুরক্ষায় ‘অপরিবর্তনীয় নিবন্ধন বাতিল ও রপ্তানি অনুমোদন’ (আইডেরা) বিষয়ক বিধান যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বিমানবন্দরের অবকাঠামোর অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রতি তিন মাস অন্তর পরিদর্শন ও মহড়া আয়োজনের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
দেশি-বিদেশি এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা বৃদ্ধি করার জন্য আন্তর্জাতিক মানের মেইনটেন্যান্স, রিপেয়ার অ্যান্ড ওভারহল (এমআরও) ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, বেসরকারি খাতের সহযোগিতায় বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
এছাড়া, বেসরকারি উদ্যোগে বেসামরিক বিমানবন্দর স্থাপন ও সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া সহজতর করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
সভায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।
নতুন বিধিমালার প্রস্তাবিত বিভিন্ন ধারা নিয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) টিউশন ফি বৃদ্ধি, সেশনজট, ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশে বিলম্ব, ইন্টারনেট সমস্যাসহ বিভিন্ন অব্যবস্থাপনার কারণে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি হওয়ার আগ্রহ কমে যাচ্ছে। গত দুই শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে কোনো বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি। এর আগে, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হয়েছিলেন মাত্র দুজন।
ফরেন সেল সূত্রে জানা গেছে, গত সাত বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক, স্নাতকোত্তর, এমফিল ও পিএইচডিতে মোট ২৪ জন বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে অধ্যয়নরত রয়েছেন ১৭ জন। ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ভর্তি শুরু হওয়ার পর ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৮জন বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হন। তবে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে পিএইচডিতে একজন এবং অনার্সে একজন ভর্তি হয়েছেন, গত দুই বছরে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি।
কয়েকজন বিদেশী শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, ভর্তি সময় প্রতিশ্রুত সুবিধার অর্ধেকও পাচ্ছেন না। চার বছরের ভিসা নিয়ে এলেও সেশনজটে নির্ধারিত সময়ে পড়াশোনা শেষ না হওয়ায় ভিসা নবায়নে ভোগান্তি হচ্ছে। পাশাপাশি ভাষাগত সমস্যাও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে বিদেশি শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার পেছনে ফরেন সেলের কার্যকর অফিসের অভাব এবং প্রয়োজনীয় লোকবলের সংকটকে দায়ী করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাদের দাবি, নির্দিষ্ট ও কার্যকর অফিস না থাকায় বিদেশি শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনের সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। ফলে প্রয়োজনীয় সেবা ও দাপ্তরিক সহযোগিতা দিতে নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে। এসব অব্যবস্থাপনার কারণে দিন দিন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে।
গাম্বিয়া থেকে আসা ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ আর্থিক ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ। অন্যান্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো যেখানে আবাসিক হলগুলোতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নিয়মিত খাবার, মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা ও মাসিক বৃত্তি প্রদান করা হয়, সেখানে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদেশি শিক্ষার্থীদের খাবার, দৈনন্দিন জীবনযাপন ও চিকিৎসার খরচ নিজেদের পকেট থেকে বহন করতে হয়। পাশাপাশি, অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ ও সামাজিকভাবে একীভূত হওয়ার সুযোগ-সহায়তার অভাবে বিদেশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সময় নিজেদের স্বাগত ও সহযোগিতাপ্রাপ্ত মনে করা কঠিন হয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় বিদেশি শিক্ষার্থীদের এমনভাবে বিবেচনা করে, যেন আমরা এখানে অস্তিত্বই রাখি না। এ সমস্যা সমাধানে বিদেশি শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো সক্রিয়ভাবে সমাধানের জন্য একটি কার্যকর আন্তর্জাতিক প্রশাসন বা ফরেন অ্যাফেয়ার্স বিভাগ চালু করা প্রয়োজন। পাশাপাশি বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য মাসিক বৃত্তির ব্যবস্থা, আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক আন্তঃসাংস্কৃতিক (ক্রস-কালচারাল) অনুষ্ঠান আয়োজন এবং শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের ওরিয়েন্টেশনের ব্যবস্থা করা উচিত।
এদিকে ফরেন সেলের কর্মকর্তা এস. এম. শাহদৎ হোসেন বলেন, স্ট্রাকচার অনুযায়ী ফরেন সেলের অফিস থাকলেও কার্যকর উপস্থিতি নেই। নির্দিষ্ট লোকবল না থাকায় বিদেশি শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনের সময় দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। ফলে লোকবল, দাপ্তরিক ও অবকাঠামোগত সংকট রয়েছে। বিদেশি শিক্ষার্থীদের অন্যতম বড় সমস্যা আবাসন। আবাসন সংকটের কারণে তাদের অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে। পাশাপাশি দেশীয় শিক্ষার্থীদের তুলনায় তাদের টিউশন ও হল ফিও বেশি। বিশেষ করে বিদেশি শিক্ষার্থীদের হল ফি প্রায় ছয় গুণ বেশি। এর সঙ্গে হলের মান, আলাদা ডাইনিং ও টিউটরের ব্যবস্থা না থাকায় তাদের নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সদিচ্ছা ও কার্যকর উদ্যোগ থাকলে ফরেন সেলকে আরও সক্রিয় ও কার্যকর করা সম্ভব। নির্দিষ্ট লোকবল নিয়োগ, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করা এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক ও কার্যকর সুযোগ-সুবিধা চালু করা গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করা এবং তাদের শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করা সম্ভব হবে।
এবিষয়ে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স ডিভিশনের পরিচালক অধ্যাপক ড. নাছির উদ্দিন মিঝি বলেন, আমি এখন আর ফরেন সেল এর পরিচালক নাই দায়িত্ব চেন্জ হয়েছে খুব তাড়াতাড়ি প্রশাসন কর্তৃক চিঠি দেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান একাধিকবার কল করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফজরের নামাজ পড়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন বাবা। কিছু সময় পরে, একই পথে মসজিদের দিকে যাচ্ছিলেন ছেলে। সড়কের পাশে পড়ে থাকা একটি মরদেহ দেখে তিনি থমকে দাঁড়িয়ে যান। কাছে গিয়ে দেখেন, সেটি তারই বাবা শাহাদাত হোসেন।
যশোরের বাঘারপাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় অবসরপ্রাপ্ত এই শিক্ষক নিহত হওয়ার পর, তার ছেলে রেজাউল ইসলাম এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্যের মুখোমুখি হন।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার করিমপুর গ্রামের ওসমান ডাক্তারের বাড়ির সামনে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত শাহাদাত হোসেন (৭৫) বাঘারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি গাজীপুরের টঙ্গীর হারবাইদ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং পরবর্তীতে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার ধলগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে অবসর গ্রহণ করেন।
স্থানীয়দের মতে, ফজরের আজানের পর নামাজ পড়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন শাহাদাত হোসেন। যশোর-নড়াইল মহাসড়ক পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির অজ্ঞাত একটি মোটরযান তাকে ধাক্কা দেয়, ফলে তিনি সড়কের ওপর ছিটকে পড়ে মারা যান।
ঘটনার কিছুক্ষণ পর, তার ছেলে রেজাউল ইসলামও মসজিদের উদ্দেশ্যে বের হন। পথে সড়কের পাশে পড়ে থাকা মরদেহটি প্রথমে চিনতে না পারলেও, কাছে গিয়ে বুঝতে পারেন, সেটি তার বাবা শাহাদাত হোসেন।
শিক্ষকতার পাশাপাশি, তিনি করিমপুর গ্রামে ‘অগ্রদূত সমবায় সমিতি’ গড়ে তোলাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। স্থানীয়দের কাছে তিনি একজন সমাজহিতৈষী ও ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজালাল আলম এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশে ডেঙ্গু রোগে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে এডিস মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৩২৪ জন।
এখন পর্যন্ত চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট ১০২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জন মারা গেছেন।
এছাড়া জানুয়ারিতে ২, ফেব্রুয়ারিতে ২, মে মাসে ১, জুনে ১৩ এবং জুলাইয়ে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে এখন পর্যন্ত আরও ৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু বিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু নিয়ে মোট ৩৬ হাজার ১৭০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩৪ হাজার ৩৮৫ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি আছেন ২ হাজার ৬৮৩ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ১৪২ জন, দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে ১৩৮ জন এবং ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বাইরে ২৯৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।
অন্যান্য বিভাগের মধ্যে বরিশালে ১২১, চট্টগ্রামে ১৩৯, খুলনায় ২৪৬, ময়মনসিংহে ৮৭, রাজশাহীতে ১১৪, রংপুরে ৩৪ এবং সিলেটে ৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ