০৯:১৬ পি.এম
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে অভিযোগ উঠেছে, বন বিভাগের কর্মকর্তার দায়িত্বহীনতার কারণে এলাকার লোকজন একটি মেছোবাঘকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে পৌরসভার ছিলিমপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের অবহেলা ও উদ্ধার তৎপরতার ব্যর্থতার কারণেই ক্ষুব্ধ লোকজন মেছোবাঘকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে।
এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার সকাল ৯টার সময় ছিলিমপুর গ্রামের মরহুম আব্দুল আহাদ চৌধুরীর বাড়িতে, বাড়ির কেয়ারটেকার ফিরোজ মিয়া একটি মেছোবাঘ দেখতে পান আমগাছে। খবরটি মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে এবং উৎসুক এলাকাবাসীর মধ্যে বাঘ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণীটি দেখতে সেখানে লোকজন ভিড় জমায়।
আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় প্রসাধনী জব্দ, দুইজন গ্রেপ্তার
পরে সুনামগঞ্জ জেলা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ফরেস্টার) মো. আনিসুর রহমানকে বিষয়টি জানানো হলে দুপুর ১২টার দিকে তিনি এবং জগন্নাথপুর থানার এসআই অনিক রায়ের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশ ভিড় সামলে লোকজনকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিলেও ফরেস্টার আনিসুর রহমান প্রাণীটিকে উদ্ধার করতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেননি বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। বন বিভাগের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি বা প্রয়োজনীয় উদ্ধার সরঞ্জাম না থাকার কারণে প্রাণীটি ধরার জন্য ওই কর্মকর্তা শুধু একটি চটের ব্যাগ নিয়ে আসেন। বিষয়টি দেখে উপস্থিত জনতার মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়ার পর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় প্রাণীটিকে গাছ থেকে নিচে নামায়। তবে গাছ থেকে নামার পর মেছোবাঘটি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় উপস্থিত জনতার একাংশ লাঠি ও টেঁটা নিয়ে প্রাণীটির ওপর হামলা চালায়। অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে, উপর্যুপরি হামলায় ঘটনাস্থলেই প্রাণীটির মৃত্যু ঘটে।
জগন্নাথপুর পৌরসভার ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং সাবেক প্যানেল মেয়র সাফরোজ ইসলাম মুন্না বলেছেন, জেলা বন বিভাগের কর্মকর্তার দায়িত্বহীনতায় একটি বন্যপ্রাণীর নির্মম মৃত্যু ঘটেছে এবং এটি দুঃখজনক। আধুনিক কোনো সরঞ্জাম বা প্রয়োজনীয় কর্মী ছাড়াই কেবলমাত্র একটি চটের ব্যাগ নিয়ে প্রাণীটি ধরতে আসেন তিনি। এ কারণে প্রাণীটিকে উদ্ধারে সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে, উৎসুক লোকজন আতঙ্কে প্রাণীটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলেন।
এ বিষয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, মেছোবিড়ালটিকে অনেকেই বাঘ মনে করে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। বিষয়টি জানার পর আমি সুনামগঞ্জ বন বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তবে প্রাণীটিকে এভাবে পিটিয়ে হত্যা করা অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন।
আরও পড়ুন: বৃহস্পতিবার সিলেটের কিছু এলাকায় ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না
এদিকে, সুনামগঞ্জ জেলা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিসুর রহমান জানিয়েছেন ভিন্ন কথা। তিনি মুঠোফোনে বলেন, এটি একটি মেছোবিড়াল ছিল। আমরা ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর প্রাণীটি গাছ থেকে নেমে জঙ্গলে চলে যায়। পরে আমরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করি। এরপর কী ঘটেছে, তা জানা নেই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন