প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে স্বামী ও স্ত্রী শুধুমাত্র পার্থিব জীবনের চাওয়া-পাওয়া পূরণের মাধ্যম নয়, বরং তারা উভয় জগতে একে অপরের সঙ্গী হিসেবে বিবেচিত। কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে, স্ত্রী পরকালে তার স্বামীর সঙ্গী হিসেবে থাকবে। তবে প্রশ্ন উঠছে, জান্নাতে আল্লাহ যে অনিন্দ্যসুন্দরী হুর দান করবেন, তারা কি স্বামীর কাছে বেশি প্রিয় হবেন, নাকি স্ত্রীরা? রূপ ও গুণের দিক থেকে কে এগিয়ে থাকবে, মুমিন স্ত্রী না হুর? নিম্নে এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হয়েছে।
হুরদের পরিচয় ও বৈশিষ্ট্য
হুর হলো সেই নারীরা, যাদের আল্লাহ জান্নাতে মুমিন পুরুষদের সঙ্গী বানাবেন। তারা সৌন্দর্য ও গুণাবলিতে অনন্য হয়ে থাকবেন। পবিত্র কোরআনের একাধিক আয়াতে আল্লাহ তাদের প্রশংসা করেছেন। যেমন বলা হয়েছে, ‘তারা পরিধান করবে মিহি ও পুরু রেশমি বস্ত্র এবং মুখোমুখি হয়ে বসবে। অনুরূপ আমি তাদের সঙ্গিনী দান করব আয়তলোচনা হুর।’ (সুরা : দুখান, আয়াত : ৫৩-৫৪)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যদি জান্নাতি কোনো নারী দুনিয়াবাসীদের দিকে উঁকি দেয়, তাহলে আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী সব কিছু আলোকিত এবং সুরভিত হয়ে যাবে। আর তার মাথার ওড়না দুনিয়া ও তার সব কিছুর চেয়ে উত্তম।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৭৯৬)
জান্নাতে মুমিন নারীর সৌন্দর্য
কোরআন ও হাদিসের বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, আল্লাহ জান্নাতে মুমিন নারীর সৌন্দর্যকে বৃদ্ধি করবেন। মানুষের মধ্যে যেসব অপূর্ণতা ছিল, আল্লাহ তা জান্নাতে দূর করে দেবেন। ফলে তাদের সৌন্দর্য বহু গুণে বৃদ্ধি পাবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তাদের আমি সৃষ্টি করেছি বিশেষরূপে, তাদের করেছি কুমারী, সোহাগিনি ও সমবয়স্কা, ডান দিকের লোকদের জন্য।’ (সুরা : ওয়াকিয়া, আয়াত : ৩৫-৩৮)
আয়াতের ব্যাখ্যায় রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যেসব নারী পৃথিবীতে বৃদ্ধা, ছানিপড়া চোখ বা দুর্বল দৃষ্টিসম্পন্ন, তারা জান্নাতে বাড়ন্ত বয়সের তরুণীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৩২৯৬)
কে বেশি সুন্দর ও মর্যাদাবান হবে?
ইমাম কুরতুবি (রহ.) উল্লেখ করেন, এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভিন্নতা রয়েছে যে জান্নাতে হুর বেশি সুন্দর হবে, নাকি মানুষ? কিছু আলেম বলেছেন, হুর মানুষের চেয়ে বেশি সুন্দর ও মর্যাদাবান হবে। কারণ কোরআনে তাদের তুলনায় রহিত রূপ ও গুণের বর্ণনা এসেছে। অন্যরা বলেছেন, মানুষ হুরদের চেয়ে ৭০ হাজার গুণ বেশি সুন্দর হবে। হাইয়ান বিন আবি জাবালাহ (রহ.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই পৃথিবীর যে নারী জান্নাতে প্রবেশ করবে, তারা হুরদের ওপর প্রাধান্য পাবে দুনিয়ায় তাদের করা নেক আমলের জন্য।’ (তাফসিরে কুরতুবি : ২০/১৬৫)
আল্লামা শামসুদ্দিন সাফিরি (রহ.) পৃথিবীর নারীদের অধিক মর্যাদাবান ও সুন্দর হওয়ার মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তিনি এই হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেন—উম্মে সালমা (রা.) বলেন, আমি বললাম : ‘হে আল্লাহর রাসুল! পৃথিবীর নারীরা উত্তম, নাকি হুর? তিনি বললেন, বরং পৃথিবীর নারীরা হুরদের থেকে উত্তম। যেমন—কাপড়ের বাইরের অংশের তুলনায় ভেতরের অংশ। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! সেটা কিসের বিনিময়ে? তিনি বলেন, দুনিয়াতে তাদের নামাজ, রোজা ও ইবাদতের বিনিময়ে।’ (তাবরানি, হাদিস : ৮৭০; আল মাজালিসুল ওয়াজিয়্যাহ : ২/৩৫)
হুর কি নবসৃষ্ট মানুষ
হাসান বসরি (রহ.)-সহ একদল আলেম বলেছেন, কোরআনে বর্ণিত ‘হুরুল ঈন’ তথা হুর দ্বারা নবী ও মুমিনদের মুমিন স্ত্রী উদ্দেশ্য। যাদেরকে জান্নাতে উত্তম অবয়বে নবরূপে সৃষ্টি করা হবে। (তাফসিরে কুরতুবি : ২০/১৬৬)
অর্থাৎ জান্নাতে মুমিন পুরুষরা হুর নামক যে অপরূপ সুন্দর নারীদের লাভ করবে, তারা মূলত পৃথিবীর মুমিন নারী। পৃথক কোনো সত্তা নয়। তবে বিশুদ্ধ ও প্রসিদ্ধ মত হলো জান্নাতি হুররা আল্লাহর পৃথক সৃষ্টি। আল্লাহ মুমিন বান্দাদের জন্য তাদের সৃষ্টি করবেন। কারণ পবিত্র কোরআনে আল্লাহ হুরদের সম্পর্কে বলেছেন, ‘তাদের মধ্যে আছে বহু আনত নয়না, যাদের পূর্বে কোনো মানুষ অথবা জিন স্পর্শ করেনি।’ (সুরা : আর-রহমান, আয়াত : ৫৬; তাফসিরে কুরতুবি : ২০/১৬৬)
আয়াতে ‘যাদের পূর্বে কোনো মানুষ অথবা জিন স্পর্শ করেনি’ বাক্য থেকে বোঝা যায়, তারা পৃথিবীর নারী বা স্ত্রীদের বাইরে অন্য কেউ হবে।
আল্লাহ সবাইকে দ্বিনের সঠিক জ্ঞান দান করুন। আমিন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন