প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে প্রায় তিন দশক আগে হবিগঞ্জে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প করপোরেশন (বিসিক) শিল্পনগরী প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। তবে দীর্ঘ সময় ধরে চলমান অব্যবস্থাপনা, অবকাঠামোগত দুর্বলতা এবং কার্যকর উদ্যোগের অভাবের কারণে বর্তমানে এটি বিভিন্ন সংকটে ভুগছে। গ্যাস, পানি, ড্রেনেজ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
এছাড়া, বহিরাগতদের অবাধ যাতায়াতের সুযোগে প্রায়ই চুরি ও ডাকাতির ঘটনা ঘটছে, কিন্তু নিরাপত্তা জোরদারের জন্য কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এর ফলে উদ্যোক্তারা বিপাকে পড়েছেন এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীরাও আগ্রহ হারাচ্ছেন।
১৯৯৮ সালে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ধুলিয়াখালে ১৫ একর জমির ওপর বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হয়। উদ্যোক্তাদের আকৃষ্ট করার জন্য ৬০টি প্লট স্বল্পমূল্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৫০টিতে কারখানা গড়ে উঠেছে, তবে একটি প্লট মামলা-জটিলতায় আটকে রয়েছে। বাকি ৯টি প্লট বরাদ্দের পরও আজ পর্যন্ত অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে এসব প্লট নিয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় শিল্পমালিকদের মধ্যে ক্ষোভ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
গ্যাস ও পানির সংকট সবচেয়ে বড় ভোগান্তি। গ্যাস সংযোগ না পাওয়ার কারণে অনেক উদ্যোক্তা বাধ্য হয়ে সিলিন্ডার গ্যাসে সীমিত পরিসরে উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিষ্ঠার সময় নির্মিত বড় আকারের পানির ট্যাংকও আজ পর্যন্ত চালু হয়নি। ফলে প্রতিদিন কারখানাগুলোকে পানির সংকটে ভুগতে হচ্ছে। অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে পণ্য পরিবহনেও নিয়মিত সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
মালিকদের অভিযোগ, অবকাঠামোগত সংকটের পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতাও এখন বড় উদ্বেগের বিষয়। বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশের কারণে প্রায়ই চুরির ঘটনা ঘটছে। বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ২০০ শ্রমিক কর্মরত থাকলেও তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাব রয়েছে। এ অবস্থায় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের আগ্রহ দেখিয়েও অনেক উদ্যোক্তা শেষ পর্যন্ত বিনিয়োগ থেকে সরে যাচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কাশফুল, খাজা ফ্লাওয়ার মিলস, তাওকাল ইন্ডাস্ট্রিজ, প্রাইম ফুড, খাজা কেমিক্যাল, শহীদ কেমিক্যাল, জেমস ফুড, হার্টস বাংলাদেশ, মবিল ফ্যাক্টরি, আসাদ ফুড, তুলা ফ্যাক্টরি ও মুড়ি-চিড়ার কারখানাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সেখানে উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার করছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এতে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
হবিগঞ্জ বিসিক শিল্প মালিক সমিতির সহ-সভাপতি মীর জমিলুন্নবী ফয়সাল বলেন, "এখানে সমস্যার শেষ নেই। একাধিক বরাদ্দপ্রাপ্ত প্লটে আজও কোনো কারখানা হয়নি, কিন্তু বিসিক কর্তৃপক্ষ বরাদ্দ বাতিলও করেনি। পানি ও গ্যাসের সংকট তীব্র। ড্রেনেজ ব্যবস্থা নাজুক। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।"
তিনি আরও বলেন, "অগ্নিকাণ্ডের সময় আগুন নেভানোর জন্য পাইপলাইনের পানি কিংবা কোনো জলাধার নেই। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও দুর্বল। মালিক সমিতির সঙ্গে বিসিক কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। সমিতির মেয়াদ তিন বছর আগে শেষ হলেও নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, এখানে এখনো কোনো বর্জ্য শোধনাগার গড়ে ওঠেনি।"
অভিযোগের বিষয়ে বিসিক কর্তৃপক্ষ জানায়, গ্যাস সংযোগের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে। পানির সংকটের বিষয়টিও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদারে কারখানাগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছে যে দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান হবে।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ বিসিক শিল্পনগরীর সহকারী মহাব্যবস্থাপক বিল্লাল হোসেন ভূঁইয়া বলেন, "দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সমস্যা নিরসনে কাজ শুরু হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ২০০ শ্রমিক নিয়মিত কর্মরত আছেন। গ্যাস সংযোগের কারণে তিন থেকে চারটি প্রতিষ্ঠান উৎপাদনে যেতে পারছে। পানির সংকটও দ্রুত কেটে যাবে বলে আশা করছি।"
তিনি আরও জানান, বিসিক কার্যালয় নিজেই জনবল সংকটে ভুগছে। কর্মকর্তাদের পাঁচটি পদের বিপরীতে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র দুজন। এছাড়া অফিস স্টাফের চারটি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও সেবাদান কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন