প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় বাঘের আক্রমণের ফলে নারীসহ তিনজন আহত হয়েছেন। বাঘটিকে নিরাপদে উদ্ধার করার লক্ষ্যে সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেল থেকে ঢাকা থেকে আগত ছয় সদস্যের বন বিভাগের একটি বিশেষ দল কাজ শুরু করেছে। তবে, এখনো বাঘটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ড্রোন ব্যবহার করে সেটিকে শনাক্ত করার জন্য নজরদারি চালাচ্ছে।
এর আগে, রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে স্থানীয়রা বাঘটিকে দেখতে পান, কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সেটি আর কারো নজরে আসেনি বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এদিকে, লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের আমঝোল সীমান্তে বাঘের আতঙ্ক এখনও কাটেনি। বাঘের আক্রমণে নারীসহ তিনজন আহত হওয়ার পর থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা লাঠিসোঁটা নিয়ে রাত-দিন পাহারা দিচ্ছেন। বাঘটিকে শনাক্ত করতে ড্রোন দিয়ে নজরদারি চালানো হচ্ছে, কিন্তু উদ্ধার এখনও সম্ভব হয়নি।
জানা যায়, রোববার সন্ধ্যায় আমঝোল এলাকায় বাঘের আক্রমণে শরিফা বেগম, আফসার হোসেন ও নজরুল ইসলাম আহত হন। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রোববার বিকেলে ধানক্ষেতে ছাগল খুঁজতে গিয়ে শরিফা বেগম বাঘের আক্রমণের শিকার হন। এরপর তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে আরও দুজন বাঘের হামলার শিকার হন। ঘটনার পর থেকে সীমান্ত এলাকার মানুষ বাঘ আতঙ্কে রাত কাটাচ্ছেন। বাঘটি রাতভর দেখা গেলেও সোমবার সকাল থেকে সেটি মিলছে না।
রোববার মধ্যরাতে ড্রোন ক্যামেরায় বাঘটিকে শনাক্ত করা সম্ভব হলেও শেষ রাতের দিকে সেটি ক্যামেরার নজরদারির বাইরে চলে যায়। সোমবারও ড্রোন উড়িয়ে বাঘটির অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছে। একইসঙ্গে সীমান্ত এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে বিজিবি।
এদিকে, বাঘটিকে নিরাপদে উদ্ধার করতে সোমবার বিকেলে ঢাকা থেকে বন বিভাগের ৬ জনের একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে।
রংপুরের সামাজিক বন বিভাগের উপ-বন সংরক্ষক ও বিভাগীয় বন-কর্মকর্তা মো. নূরুল ইসলাম জানিয়েছেন, "আমাদের মনে হচ্ছে এখানে আর বাঘটি নেই। রোববার রাতেই সে তার নিজ গন্তব্যে চলে গেছে।"
বাঘটি উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত সীমান্ত এলাকার মানুষের আতঙ্ক কাটছে না। স্থানীয়রা এখন বন বিভাগের বিশেষ দলের অভিযান এবং বিজিবির নজরদারির দিকে তাকিয়ে রয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন