প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গোল করার পর উদযাপন করা স্বাভাবিক। অনেক সময় সেই উদযাপন বুনো হয়ে উঠতে পারে। সর্বশেষ ম্যাচে ভিয়ারিয়ালের বিরুদ্ধে গোল করার পর ভিনিসিয়ুস জুনিয়র তেমনই একটি বাঁধভাঙা উদযাপন করেছিলেন। উচ্ছ্বাসের মাত্রা আরো বেড়ে যায় যখন রিয়াল মাদ্রিদের কোচ জোসে মরিনহো শিষ্যদের সঙ্গে যোগ দেন।
কিন্তু মুহূর্তেই সেই আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়। জুড বেলিংহামের পাসে গোল করার আগে আক্রমণ বিল্ড আপের সময় ভিনিসিয়ুস প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের চুল টেনে ধরেন। ভিএআরের সহায়তায় গোল বাতিল হওয়ার পর শাস্তি হিসেবে রেফারি ইসিদ্রো দিয়াস দে মেরা ব্রাজিলিয়ান তারকাকে লাল কার্ড দেখান।
ভিনিসিয়ুসের লাল কার্ড নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। একই অপরাধে একজনকে লাল কার্ড এবং অপরজনকে হলুদ কার্ড দেখানোর কারণে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্প্যানিশ সংবাদ মাধ্যম মার্কাও এই সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে।
চলুন বিস্তারিত জানা যাক। ১৮ মাস আগে একই ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছিল মায়োর্কা-লেগানেসের ম্যাচে। সেদিন ছিল ২০২৫ সালের ১৯ এপ্রিল। লা লিগার গোলশূন্য ড্রয়ের ম্যাচে ক্লেমঁ নেউয়ের চুল টেনে ধরেছিলেন মায়োর্কার মিডফিল্ডার দানি রদ্রিগেস। রেফারি আলেহান্দ্রো মুনিজ রুইজ ঘটনাটি দেখলেও তাকে লাল কার্ড নয়, বরং হলুদ কার্ড দেখান।
গত ১০ অক্টোবর রিয়াল মাদ্রিদ-ভিয়ারিয়াল ম্যাচেও একই ঘটনা ঘটে। এবার নাথান সালিবার চুল টেনে ধরেন ভিনিসিয়ুস। গোল করার আগে ভিনিসিয়ুস প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের চুল টেনে ধরেন। পরে ভিএআরের মাধ্যমে রেফারি ইসিদ্রো দিয়াস গোল বাতিল করেন এবং সরাসরি ভিনিকে লাল কার্ড দেখান। এই ম্যাচে ভিএআরের দায়িত্বে ছিলেন মুনিজ রুইজ। তার হস্তক্ষেপে ভিডিও দেখে রিয়াল মাদ্রিদের ফরোয়ার্ডকে লাল কার্ড দেখানো হয়। তাই ১-০ গোলের জয়ের পরও বিতর্কিত ঘটনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
রিয়াল দীর্ঘদিন ধরেই রেফারির বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ করে আসছে। এমন ঘটনার পর পুরোনো রেকর্ড খুঁজে রেফারির সমালোচনা করা হচ্ছে। দুই ম্যাচেই মুনিজ রুইজ উপস্থিত থাকায় সমালোচনা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। রিয়াল সমর্থকরা দাবি করছেন রেফারি দ্বিচারিতা করছেন।
২০২০ সালের ২৮ নভেম্বরের এক ম্যাচের সিদ্ধান্তও রিয়ালের বিপক্ষে গেছে। নিজেদের বক্সে মার্সেলোর চুল টেনে ধরেছিলেন আলাভেসের এক ডিফেন্ডার। রিয়ালের খেলোয়াড়রা তখন লাল কার্ড ও পেনাল্টির দাবি করেছিলেন। কিন্তু রেফারি আদ্রিয়ান করডেরো ভেগা কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। ভিএআরও কোনো ফাউল নিয়ে পর্যালোচনা করেনি। সেদিন রিয়াল ২-১ গোলে হেরেছিল।
তবে চুল টানার কারণে লাল কার্ড দেখানোর নিয়ম নেই। শাস্তি দেওয়ার আগে ফাউলের তীব্রতা বুঝতে হবে। আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ডের (আইএফএবি) ১২ নম্বর আইনে বলা হয়েছে, বল দখলের লড়াইয়ের বাইরে গিয়ে যদি কোনো খেলোয়াড় ইচ্ছাকৃতভাবে এবং জোরপূর্বক প্রতিপক্ষের কারো চুল টানেন, তবে সেটি উগ্র বা সহিংস আচরণ হিসেবে গণ্য হবে। তখন সরাসরি লাল কার্ড দেখাতে পারবেন রেফারি।
অন্যদিকে, যদি চুল টানার ঘটনা বল দখলের স্বাভাবিক লড়াইয়ের অংশ হয়, অথবা তার তীব্রতা ও আঘাত করার উদ্দেশ্য কম থাকে, তবে রেফারি সেটিকে উগ্র আচরণ হিসেবে বিবেচনা নাও করতে পারেন। অখেলোয়াড়সুলভ আচরণ হিসেবে গণ্য করে খেলোয়াড়কে হলুদ কার্ড বা সতর্কবার্তা দিতে পারেন রেফারি।
তিনটি ঘটনার তুলনা করলে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। প্রতিবারই প্রতিপক্ষের চুল টানার অভিযোগ থাকলেও শাস্তির ভিন্নতা রয়েছে। কোথাও হলুদ কার্ড, কোথাও সরাসরি লাল কার্ড, আবার কোথাও কোনো শাস্তিই হয়নি। এই পার্থক্যই রেফারিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক বাড়িয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন