মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:৪৮ পি.এম
গাজায় শীতের আগমনে নতুন মানবিক সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় ঘরবাড়ি হারানো ফিলিস্তিনিরা একদিকে ধসে পড়ার ঝুঁকিতে থাকা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছেন, অন্যদিকে তাঁবুতে আশ্রয় নিলে বৃষ্টি, বন্যা ও তীব্র ঠান্ডার মুখোমুখি হচ্ছেন। ফলে নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে হাজারো পরিবারের জীবন এখন দুই ধরনের বিপদের মধ্যে আটকে গেছে।
গাজার বিভিন্ন এলাকায় যুদ্ধের সময় ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোতে এখনো বহু বাস্তুচ্যুত মানুষ বসবাস করছেন। ভবনের দেয়াল ও ছাদ থেকে প্রায়ই কংক্রিটের টুকরো খসে পড়ছে। তবুও আসন্ন শীতের ঝড়-বৃষ্টি থেকে বাঁচতে পরিবারগুলো এসব ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনাকে তুলনামূলক নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বেছে নিচ্ছে।
কিন্তু এসব ভবনে থাকলেও বিপদ কাটছে না। ছাদ ও দেয়ালের ফাটল দিয়ে বৃষ্টির পানি ঢুকে অস্থায়ী বসবাসের জায়গা ভিজিয়ে দিচ্ছে। বাসিন্দারা প্লাস্টিক ও কাপড়ের টুকরো দিয়ে ফাটল বন্ধ করে ঠান্ডা বাতাস ঠেকানোর চেষ্টা করছেন। এমনকি পানি সংগ্রহ করতে যাওয়ার সময়ও তাঁদের ধসে পড়ার আশঙ্কায় থাকা দেয়াল ও ভবনের নিচ দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
‘আমাদের আর কোনো উপায় নেই’
গাজার ইসলামিক ইউনিভার্সিটির ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে আশ্রয় নিয়েছেন বাস্তুচ্যুত মাহের আওয়াদ খাদের। তিনি জানান, সেখানে বসবাস করার সময় প্রায়ই তাদের ওপর পাথর ও কংক্রিটের টুকরো পড়ে। পানি আনতে গেলেও বিপদের মুখে পড়তে হয়।
মাহের সেখানে প্রায় চার-পাঁচ মাস ধরে অবস্থান করছেন। তাঁর কোনো চাকরি বা আয়ের উৎস নেই। পরিবারের জন্য বিকল্প আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার মতো আর্থিক সামর্থ্যও নেই। তিনি অভিযোগ করেন, এখন পর্যন্ত কোনো মানবিক সহায়তাকারী সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান তাদের পাশে দাঁড়ায়নি।
একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষতিগ্রস্ত আরেকটি ভবনের নিচে পরিবার নিয়ে থাকছেন তাহের হাজ্জো। আগের শীতেও ভবনটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়েছিল। প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও থেকে কংক্রিট ও ধ্বংসাবশেষ খসে পড়ত।
আসন্ন শীতের কথা মাথায় রেখে তিনি এখন সন্তানদের সুরক্ষায় আশপাশের জায়গা বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে শক্ত করার চেষ্টা করছেন। তবে এতে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা মিলছে না। ভবনের ছাদ যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কার মধ্যে কীভাবে দিন কাটছে, জানতে চাইলে তাহেরের উত্তর, তাদের কিছুই করার নেই।
ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে প্রাণহানির আশঙ্কা
গাজায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে বসবাসের বিপদ এরই মধ্যে প্রাণহানির ঘটনায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। গত মাসে গাজা সিটির সাবরা এলাকায় আল-সাআদা আবাসিক ভবন ধসে ২১ জন নিহত হন। তাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এর কয়েক দিন পর একই এলাকায় আরেকটি ক্ষতিগ্রস্ত ভবনও ধসে পড়ে।
এসব ঘটনায় যুদ্ধের সময় ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোতে আশ্রয় নেওয়া হাজারো মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
গাজার গণপূর্ত ও আবাসন মন্ত্রণালয় এবং প্রকৌশল সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মাঠপর্যায়ের মূল্যায়নের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, পুরো গাজা উপত্যকায় প্রায় ৩ হাজার ভবনকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব ভবন যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। তা সত্ত্বেও বিকল্প আশ্রয়ের অভাবে অনেক পরিবার সেগুলোতেই অবস্থান করছে।
শীতকালে ভারী বৃষ্টি, ঝোড়ো হাওয়া ও প্রতিকূল আবহাওয়া ভবনগুলোর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এতে আগে থেকেই দুর্বল হয়ে পড়া দেয়াল ও ছাদ ধসে পড়ার আশঙ্কা আরও বাড়বে।
জরুরি সহায়তা চেয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। গাজা সিটির কর্মকর্তারা ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে বসবাসরত মানুষদের সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সংস্থা ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর জরুরি সহায়তা চেয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, শীতের প্রতিকূল আবহাওয়া বাস্তুচ্যুত মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলবে।
স্থানীয় পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলো মেরামত, শক্তিশালী করা কিংবা বিপজ্জনক স্থাপনাগুলো থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সরঞ্জাম ও নির্মাণসামগ্রী তাদের হাতে নেই।
এদিকে, ধসে পড়া ভবনের নিচে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে ভারী যন্ত্রপাতি, উদ্ধারযান ও কংক্রিট কাটার সরঞ্জাম প্রবেশেরও আহ্বান জানিয়েছে গাজার সিভিল ডিফেন্স। প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ঘাটতির কারণে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর জন্য অস্থায়ী প্রস্তুতকৃত আবাসন ও জরুরি আশ্রয় উপকরণ সরবরাহের দাবিও উঠেছে। তবে এসব সহায়তার উদ্যোগ বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত মাহের ও তাহেরের মতো হাজারো পরিবারের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—আজ রাতে তারা কোথায় নিরাপদে ঘুমাবেন?
যুদ্ধের কারণে ঘরবাড়ি হারানো এসব মানুষের জন্য বাস্তুচ্যুতি এখন শুধু নতুন করে বোমা হামলা বা উচ্ছেদের আশঙ্কায় সীমাবদ্ধ নয়। বরং মাথার ওপর থাকা ছাদটি যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়বে কি না, সেই আতঙ্কও তাদের প্রতিদিনের জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাত তখন সাড়ে ১২টা। হাসপাতালে জরুরি বিভাগে গুরুতর আহত এক নারী পড়ে আছেন। তার হাত-পা ভেঙে গেছে এবং পরনের কাপড়ও ছিঁড়ে গেছে। পাশে কোনো স্বজন নেই, পরিচয় জানার মতো কেউ নেই। যাঁরা তাকে রাস্তা থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে এনেছেন, তারাও জানান, তারা ওই নারীর আত্মীয় নন।
এমন অসহায় অবস্থায় খবর পেয়ে আড়াইহাজারের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুর রহমান গভীর রাতে হাসপাতালে ছুটে যান। প্রথমে তিনি ওই নারীর জন্য সালোয়ার-কামিজ কেনার ব্যবস্থা করেন। এরপর অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে এবং একজন আনসার সদস্যকে সঙ্গে দিয়ে তাকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
রাতের নিস্তব্ধতায় যখন অধিকাংশ মানুষ ঘুমাচ্ছেন, তখন অচেনা এক নারীর পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ মানবিকতার এক গল্প হয়ে উঠেছে। পরিচয় নেই, আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই, পাশে থাকার মতো স্বজনও নেই; এমন একজন বিপন্ন মানুষের প্রয়োজনকে উপেক্ষা করেননি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
ঘটনাটি সোমবার রাত ১১টার দিকে গোপালদী পৌরসভার কলগাছিয়া এলাকায় ঘটে। একটি অজ্ঞাত গাড়ি ওই নারীকে চাপা দিয়ে চলে যায়। আনুমানিক ৩৫ থেকে ৪০ বছর বয়সি ওই নারী দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন। এ সময় তার হাত-পা ভেঙে যায় এবং পরনের কাপড়চোপড় ছিঁড়ে যায়।
পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক গোলাম সারোয়ার আহত নারীর অবস্থা গুরুতর দেখে দ্রুত তাকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন।
কিন্তু উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার ব্যবস্থা করবে কে? আহত নারীকে হাসপাতালে নিয়ে আসা লোকজন জানান, তারা তাকে রাস্তা থেকে উদ্ধার করে এনেছেন। তারা ওই নারীর আত্মীয়স্বজন নন। ফলে পরবর্তী চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার মতো কেউ তখন সামনে ছিলেন না।
এমন পরিস্থিতিতে রাত সাড়ে ১২টার দিকে ওই ব্যক্তিরা ইউএনও মো. আসাদুর রহমানের বাসায় গিয়ে ঘটনাটি জানান। খবর শুনে তিনি আর দেরি করেননি। সরাসরি চলে যান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখানে আহত নারীর অবস্থা দেখে প্রথমে তার জন্য সালোয়ার-কামিজ কেনার ব্যবস্থা করেন। এরপর দ্রুত ঢাকায় নেওয়ার জন্য নিজের খরচে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করেন। চিকিৎসার পথে সহায়তার জন্য সঙ্গে দেন একজন আনসার সদস্য।
একজন অজ্ঞাপরিচয় মানুষের জন্য গভীর রাতে এমন উদ্যোগ শুধুমাত্র দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের ঘটনা নয়; এটি বিপদের মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানোরও একটি দৃষ্টান্ত। যার পরিচয় জানা নেই, যার সঙ্গে কোনো আত্মীয়তার বন্ধন নেই, তার প্রয়োজনকেই গুরুত্ব দিয়েছেন ইউএনও।
প্রশাসনিক দায়িত্বের পরিচয় পদবি দিয়ে। কিন্তু সেই দায়িত্বের মানবিক রূপ প্রকাশ পায় মানুষের বিপদের সময়ে। কলগাছিয়ার সেই রাতের ঘটনা মনে করিয়ে দেয়, জনসেবা কেবল কার্যালয়ের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কখনো কখনো বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াতে হয় গভীর রাতেও, যখন চারপাশের মানুষ ঘুমিয়ে থাকে।
রাতে যখন সবাই ঘুমায়, তখনো কোথাও কেউ বিপন্ন থাকেন। তার পাশে কেউ এগিয়ে এলে অন্ধকারের মধ্যেও জ্বলে ওঠে মানবতার আলো। আড়াইহাজারের ইউএনও মো. আসাদুর রহমানের গভীর রাতের এই উদ্যোগ সেই মানবিকতারই একটি গল্প।
ইউএন আসাদুর রহমান জানান, ‘এটা আমার দায়িত্ব থেকে করেছি। কাজটি করে আমার ভালো লেগেছে।’
এমএইচ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের কাউখালীতে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের যৌথ আয়োজনে "ঘর থেকে শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি"এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বেলা সাড়ে এগারোটায় কাউখালীতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা এবং ফায়ার সার্ভিসের এক বিশেষ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রেহানা আক্তারের নেতৃত্বে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় মিলিত হয়।
আলোচনা সভার পূর্বে উপজেলা পরিষদ চত্বরে কাউখালী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা বাসাবাড়িতে হঠাৎ গ্যাস সিলিন্ডারে আগুন লেগে গেলে তা কীভাবে দ্রুত ও নিরাপদ উপায়ে নিয়ন্ত্রণে আনা যায়, তার ওপর একটি বাস্তবভিত্তিক মহড়া প্রদর্শন করেন। উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও কর্মকর্তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এই মহড়া উপভোগ করেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেহানা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন,
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মফিজুর রহমান, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার প্রদীপ কুমার হালদার, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার মোঃ মাসুম মিয়া, ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ সাজেদুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি শাহ ইমরান ফারুক, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, কাউখালী প্রেস ক্লাবের সভাপতি রিয়াদ মাহমুদ সিকদার প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের সভাপতি উপজেলা নিবার্হী অফিসার রেহেনা আক্তার বলেন,
যেকোনো প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনার প্রধান হাতিয়ার হলো আগাম সচেতনতা ও সতর্কতা। এ বছরের প্রতিপাদ্য 'ঘর থেকে শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি' আমাদের স্পষ্ট বার্তা দেয় যে, দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি প্রতিটি পরিবার ও নিজ ঘর থেকেই শুরু করতে হবে। আমরা যদি আমাদের বাসাবাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার, বৈদ্যুতিক সংযোগ কিংবা দুর্যোগকালীন সতর্কতার ব্যাপারে সচেতন থাকি, তবে বড় ধরনের বিপদ এড়ানো সম্ভব।
উপজেলা প্রশাসন থেকে আমরা সাধারণ মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস ও স্বেচ্ছাসেবকদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিশ্চিত করছি। প্রতিটি নাগরিকের সম্মিলিত সচেতনতাই পারে একটি নিরাপদ ও দুর্যোগ সহনশীল কাউখালী উপহার দিতে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিটে স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এপিসিএস) স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। এর পাশাপাশি, রাশিয়ার বাইরে রোসাটমের নির্মিত কোনো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রথমবারের মতো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে ‘অপারেটর ইনফরমেশন সাপোর্ট সিস্টেম’ (ওআইএসএস)। আধুনিক এ প্রযুক্তি বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপদ ও দক্ষ পরিচালনা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় অপারেটরদের সরাসরি সহায়তা করবে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন (রোসাটম)-এর মিডিয়া উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, রোসাটমের ‘অটোমেটেড কন্ট্রোল সিস্টেমস’ (আরএএসইউ) দ্বারা সরবরাহিত স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় ৪৩টি সিস্টেমের অধীনে প্রায় ২০ হাজার যন্ত্রপাতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব যন্ত্রপাতির মাধ্যমে চুল্লির স্থিতিশীলতা এবং পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন প্রক্রিয়ার ৭ হাজারের বেশি প্যারামিটার সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে। এতে কেন্দ্রটির নিরাপত্তা, নির্ভরযোগ্যতা ও সামগ্রিক দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে।
নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসান জানিয়েছেন, এই ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ অপারেটর ইনফরমেশন সাপোর্ট সিস্টেম (ওআইএসএস)। বিদ্যুৎ ইউনিটের ‘ডিজিটাল টুইন’ প্রযুক্তির সহায়তায় আরএএসইউ এটি তৈরি করেছে। প্রথম ইউনিটে ইতোমধ্যে সিস্টেমটি সংযুক্ত করা হয়েছে এবং স্টার্টআপ কার্যক্রমেও এটি ভূমিকা রাখছে। পর্যায়ক্রমে দ্বিতীয় ইউনিটেও এটি বাস্তবায়ন করা হবে।
ওআইএসএস ৩৬০টি প্রক্রিয়াসংশ্লিষ্ট সিস্টেম থেকে তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য বিচ্যুতি আগেভাগেই শনাক্ত করতে সক্ষম। পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় সম্পর্কে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে এটি ৮০টিরও বেশি নির্দেশিকা ব্যবহার করে অপারেটরদের পরামর্শ দেবে।
রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সেই লিখাচেভ মন্তব্য করেছেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র শুধুমাত্র রাশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে সহযোগিতার বৃহত্তম প্রকল্পগুলোর একটি নয়, বরং আধুনিক স্বয়ংক্রিয়করণ ও নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও এটি একটি অগ্রণী প্রকল্প। বিদেশে রোসাটমের নির্মিত কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্রে এই প্রথম অপারেটর ইনফরমেশন সাপোর্ট সিস্টেম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই প্রযুক্তি জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দিতে সাহায্য করবে, পরিচালন ব্যয় কমাবে এবং কন্ট্রোল রুমের কর্মীদের নির্ভুল সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে।
উল্লেখ্য, জেনারেশন ৩+ প্রযুক্তির দুটি ভিভিইআর-১২০০ চুল্লি নিয়ে নির্মিত হচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। প্রকল্পটির সার্বিক নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে রোসাটমের প্রকৌশল শাখা অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মানিকগঞ্জের শিবালয়ে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০২৬ উপলক্ষে উপজেলার যমুনা নদী তীরবর্তী তেওতা ইউনিয়নের জাফরগঞ্জ সাপুরিয়া এলাকায় মাছ ঘাটে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) মানিকগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শেখ মনিরুল ইসলাম মনির এর নেতৃত্বে এ অভিযানটি সম্পন্ন হয়।
এ সময় জেলা মৎস্য দপ্তরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন এবং শিবালয় সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার সাথী রানী নিয়োগী, মৎস্য দপ্তরের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের সদস্যরাও এই অভিযানে সহায়তা প্রদান করেন।
অভিযান চলাকালে ৫০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। জব্দকৃত জালের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৭,৫০,০০০ (সতেরো লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা, ২৫ কেজি ইলিশ মাছ এবং একটি মাছ ধরার নৌকা জব্দ করা হয়।
পরবর্তীতে জব্দকৃত অবৈধ জাল নদীর তীরে জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। এছাড়াও প্রাপ্ত ২৫ কেজি ইলিশ স্থানীয় ২টি এতিমখানায় বিতরণ করা হয়, এবং জব্দকৃত নৌকা উপজেলা প্রশাসনের জিম্মায় রাখা হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সাথী রানী নিয়োগী মন্তব্য করেন, "মা ইলিশ রক্ষা করুন, ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি করুন।" তিনি আরও বলেন, দেশের মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ ও ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে অবৈধভাবে মৎস্য আহরণবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ