প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
> ফিচার
> তথ্য-প্রযুক্তি
মহাকাশে প্রথমবারের মতো একটি প্রকৃত চিনির অণুর সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এই আবিষ্কারটি পৃথিবীতে চিনির উৎস এবং প্রাণের উৎপত্তির রহস্য উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে গবেষকদের ধারণা।
বিজ্ঞাপন
সোমবার বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী নেচার অ্যাস্ট্রোনমিতে প্রকাশিত এক গবেষণায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। এই গবেষণাটি পরিচালনা করেন স্পেনের সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোবায়োলজির অ্যাস্ট্রোকেমিস্ট ড. ইজাসকুন জিমেনেজ-সেরা।
গবেষকেরা জানিয়েছেন, মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির আন্তঃনাক্ষত্রিক মাধ্যম যেখানে নক্ষত্রগুলোর মাঝখানে ধুলিকণা ও গ্যাস ছড়িয়ে রয়েছে, সেখানে এই চিনির অণু শনাক্ত করা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে ধারণা করছিলেন যে, এই অঞ্চলে জটিল জৈব অণু তৈরির জন্য প্রাকৃতিক রাসায়নিক কারখানা হিসেবে কাজ করছে।
গবেষণার প্রধান, ড. জিমেনেজ-সেরা বলেন, চিনির অণুর উপস্থিতির প্রমাণ হাতে পাওয়ার মুহূর্তটি ছিল অত্যন্ত রোমাঞ্চকর। কিন্তু নিশ্চিত হওয়ার জন্য গবেষক দলটি বারবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালায়, যাতে বিশ্লেষণের ফলাফল অন্য কোনো অণু বা পর্যবেক্ষণগত ভুল না হয়। শেষ পর্যন্ত সব বিশ্লেষণে একই ফলাফল পাওয়া যায়।
গবেষণার সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকলেও ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) অ্যাস্ট্রোকেমিস্ট ব্রেট ম্যাকগুয়ার এই আবিষ্কারকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, গবেষকদের তথ্য ও বিশ্লেষণ স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে আন্তঃনাক্ষত্রিক মাধ্যমে সত্যিই চিনির অণুটি রয়েছে।
বিজ্ঞানীরা দীর্ঘকাল ধরে জানতেন যে, পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশের জন্য চিনি অপরিহার্য। কারণ আরএনএ ও ডিএনএ গঠনের জন্য বিভিন্ন ধরনের চিনির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে পরীক্ষাগারে পৃথিবীর প্রাথমিক পরিবেশ অনুকরণ করে এসব চিনির অণু তৈরি করা সম্ভব হয়নি।
এর আগে গ্রহাণু ও উল্কাপিণ্ডে গ্লুকোজ ও রাইবোজসহ বিভিন্ন ধরনের চিনির অস্তিত্ব পাওয়া গেলেও, সেগুলোর মূল উৎস কোথায় তা অজানাই ছিল। সর্বশেষ এই নতুন গবেষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, নক্ষত্র ও গ্রহ গঠনেরও আগে আন্তঃনাক্ষত্রিক পরিবেশেই এসব চিনির অণু তৈরি হতে পারে। গবেষকদের ধারণা, পরবর্তীতে গ্রহাণু ও ধূমকেতুর মাধ্যমে কোটি কোটি টন চিনি পৃথিবীতে এসে পৌঁছায়।
গবেষণার ফলাফলে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, পৃথিবীর প্রাথমিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রায় ৫ লাখ টন থেকে ৫ কোটি টন পর্যন্ত এই ধরনের চিনি মহাজাগতিক বস্তুগুলোর মাধ্যমে পৃথিবীতে পৌঁছাতে পারে।
গবেষকদের মত, এই আবিষ্কার শুধু পৃথিবীতে প্রাণের উৎপত্তির ব্যাখ্যা করেই থেমে থাকছে না, বরং মহাবিশ্বের অন্য কোথাও প্রাণের সম্ভাবনাকেও আরও জোরালো করেছে। যদি আন্তঃনাক্ষত্রিক মাধ্যম স্বাভাবিকভাবে জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান তৈরি করে, তাহলে গ্যালাক্সির অন্যান্য অঞ্চলেও এই ধরনের রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রাণের বিকাশ ঘটার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
এখন গবেষকদের লক্ষ্য আরএনএ ও ডিএনএ তৈরিতে ব্যবহৃত আরও জটিল চিনি যেমন রাইবোজ ও ডিঅক্সিরাইবোজ অনুসন্ধান করা। তাদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতের গবেষণা মহাবিশ্বে প্রাণের উৎপত্তি সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উন্মোচন করবে।
সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন