প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আর মাত্র একটি ম্যাচে দেখা যাবে আর্জেন্টিনার ক্ষুদে জাদুকর লিওনেল মেসিকে। এরপরই তিনি আর্জেন্টিনার হয়ে দীর্ঘ ক্যারিয়ারের সমাপ্তি ঘটাবেন। আগামী মঙ্গলবার আফ্রিকার দেশ বেনিনের বিরুদ্ধে শেষবারের মতো আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে জড়াবেন এই বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক। তিনি দলের নেতৃত্ব দেবেন। ম্যাচে ব্যবহৃত অধিনায়কের আর্মব্যান্ডটি বিশেষ মর্যাদায় সংরক্ষণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দ্য নাইজেরিয়ান ভয়েসের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানা যাচ্ছে, মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচটির পর মেসির পরিহিত আর্মব্যান্ডটি দেশের একটি সুরক্ষিত জাদুঘরে রাখা হবে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে আর কোনো খেলোয়াড় এই আর্মব্যান্ড পরিধান করতে পারবেন না। ফলে মাঠের একটি সাধারণ ক্রীড়া সামগ্রী আর্জেন্টিনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্মৃতিচিহ্নে পরিণত হবে।
আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে এর আগে বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক দিয়েগো ম্যারাডোনার ব্যবহৃত আর্মব্যান্ডও অবসরের পর সংরক্ষণ করা হয়েছিল। তবে মেসির ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও বিশেষ। কারণ তাঁর আর্মব্যান্ড জাতীয় পর্যায়ে স্থায়ী স্মারক হিসেবে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আর্জেন্টিনার অনেক সমর্থকের কাছে মেসির অধিনায়কত্ব মাঠের ভূমিকার চেয়ে অনেক বেশি কিছু বোঝায়। তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের কিছু স্মরণীয় মুহূর্তে এই আর্মব্যান্ডটি উপস্থিত ছিল, যার মধ্যে রয়েছে বড় টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনার বহু প্রতীক্ষিত গৌরবময় প্রত্যাবর্তন।
লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা দলের হয়ে শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না। দিনের পর দিন তাকে নানা কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে, ফাইনালে ওঠার পরও ম্যাচ হেরে যাওয়ার মতো বড় কষ্ট এবং দেশের মানুষের তীব্র সমালোচনার শিকার হতে হয়েছে। কিন্তু তিনি কখনোই হাল ছাড়েননি।
অবশেষে তাঁর অসাধারণ নেতৃত্ব ও পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি আর্জেন্টিনাকে বড় বড় আন্তর্জাতিক ট্রফি (কোপা আমেরিকা ও বিশ্বকাপ) এনে দেন। দেশের জন্য তাঁর এই অবদান, লড়াই ও জেদ তাঁকে আজ আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ও ভালোবাসার মানুষে পরিণত করেছে।
অতএব, এই আর্মব্যান্ডটি সংরক্ষণ করার অর্থ হলো এমন একজন মহান খেলোয়াড়কে সম্মান জানানো, যাঁর অবদান শুধুমাত্র গোল করা, গোল করানো বা ট্রফি জেতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি আসলে মেসির অসাধারণ নেতৃত্ব এবং আর্জেন্টিনার জার্সির প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসার একটি জীবন্ত স্মৃতিচিহ্ন হয়ে আজীবন টিকে থাকবে।
ভক্তদের কাছে এই আর্মব্যান্ডটি স্থায়ীভাবে সুরক্ষিত থাকা একটি বড় ব্যাপার ও গর্বের বিষয়। ফুটবল ইতিহাসে খুব কম খেলোয়াড়ই আছেন, যাঁদের ব্যবহৃত জিনিস দেশের জাতীয় সম্পদ বা ক্রীড়া ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে এভাবে জাদুঘরে রাখার সম্মান দেওয়া হয়।
মেসির এই অধিনায়কের আর্মব্যান্ডটি আসলে আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে সোনালী ও কখনো না ভোলার মতো একটি অধ্যায়ের প্রতীক হয়ে আজীবন টিকে থাকবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন