প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তরুণ রিমেল মিয়া বিষণ্ণ পরিবারের জন্য আশা তৈরি করতে চেয়েছিলেন। তিনি নিজের অসহায় পরিবারের হাল ধরতে এবং বৃদ্ধ বাবা-মায়ের শেষ বয়সের একমাত্র আশ্রয় হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু প্রতারণা এবং ভাগ্যবিড়ম্বনা তাকে ইউক্রেনের একটি ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি জীবনযাপনে বাধ্য করেছে।
দীর্ঘ প্রায় এক বছর পরে তার কোনো খবর না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে মৃত মনে করেছিল। কিন্তু ঠিক সেই সময়, যখন পরিবার হতাশ হয়ে পড়েছিল, তখন ইউক্রেনের একটি ডিটেনশন সেন্টার থেকে জুমের মাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তার জীবিত থাকার খবর আসে। এই খবর পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে নানা অনুভূতি তৈরি করেছে।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ছাপড়হাটী ইউনিয়নের উত্তর মরুয়াদহ গ্রামের সৈয়দ আলী ও রেখা বেগমের চার সন্তানের মধ্যে রিমেল দ্বিতীয়। এই পরিবারে অভাব-অনটন অব্যাহত ছিল। বড় ভাই এরশাদ আলী ঢাকায় গার্মেন্টসে কাজ করে, তৃতীয় ভাই রুবেল মিয়া সৌদি আরবে কর্মরত এবং ছোট ভাই সোহেল মিয়া স্থানীয় বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণির ছাত্র।
পরিবারের চরম আর্থিক সংকট এবং সংসারের দশা বিবেচনায় রিমেল বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি ২০২২ সালে শোভাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। পরে ২০২৪ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পর বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতি নেন এবং বিভিন্ন এনজিও ও আত্মীয়স্বজন থেকে প্রায় ছয় লাখ টাকা চড়া সুদে ধার নেন। শেষে ২০২৫ সালের মার্চে রাশিয়ার নির্মাণশ্রমিকের কাজের ভিসায় দেশ ছেড়ে চলে যান তিনি।
রাশিয়ায় পৌঁছানোর পরে প্রারম্ভিক অবস্থায় তার জীবন মোটামুটি ভালো চলছিল। মাসিক ৭০০ ডলার বেতনের চাকরি পেয়ে পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। কিন্তু ছয় মাস পর তিনি সেই চাকরি হারান এবং আইনি প্রশ্নে আধিপত্যের সম্মুখীন হন।
হতাশ হয়ে তিনি এক দালালের সঙ্গে পরিচিত হন, যিনি তাকে একটি আকর্ষণীয় বেতনের কাজের প্রস্তাব দেন। সরল মনে রিমেল সেই চাকরির লোভে পড়ে যেয়ে রুশ ভাষায় লেখা চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন। কিন্তু এই একটি ভুল সিদ্ধান্তের কারণে তার জীবন থেকে সব কিছু নিঃশেষ হয়ে যায়।
সেই চুক্তিতে স্বাক্ষর করে তাকে রুশ সেনাবাহিনীর কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পাঠানো হয়। তিনি যে চুক্তিপথে সই করেন, তা ছিল রুশ ভাষায় লেখা এবং সেখানে উচ্চ বেতনের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনদিনের প্রশিক্ষণের পর তাকে সরাসরি ইউক্রেন যুদ্ধে নিয়ে যাওয়া হয়। যুদ্ধক্ষেত্রে একটানা প্রায় এক মাস দায়িত্ব পালন করে, ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর ইউক্রেনীয় বাহিনীর কাছে তিনি আত্মসমর্পণ করেন।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ফোর্টিফাই রাইটসের এবং ট্রুথ হাউন্ডসের তদন্তে জানা যায়, কৌশলে রাশিয়ায় নিয়ে অনেক বাংলাদেশি যুবককে রুশ সেনাবাহিনীতে যুক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই সম্মুখযুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছে এবং অনেকে গুরুতর আহত হয়েছে।
রিমেল এবং অন্য বাংলাদেশিরা যারা বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন, তারা বাংলাদেশ সরকারের দ্রুত কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় নিরাপদে দেশে ফিরে যেতে চান। একইসাথে তারা রাশিয়ায় কাজের সময় তাদের বকেয়া বেতন এবং অন্যান্য পাওনা অর্থ নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন