প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফিলিস্তিনি বন্দিদের জন্য ইসরায়েলের কেৎসিওত কারাগারের চারপাশে কুমিরভর্তি একটি পরিখা তৈরির পরিকল্পনা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ইসরায়েলের একটি আদালত। জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের বিতর্কিত এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ‘লেট দ্য এনিম্যালস লিভ’ নামের প্রাণিকল্যাণ সংস্থা মামলা করার পর রবিবার জেরুজালেম জেলা আদালত কুমির স্থানান্তরের ওপর একটি অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মরুভূমির একটি অঞ্চলে অবস্থিত কেৎসিওত কারাগারে বহু ফিলিস্তিনি বন্দি রয়েছেন। আবেদনকারী সংস্থাটি দাবি করেছে, কারণ কুমির একটি সংরক্ষিত প্রাণী, তাই নিরাপত্তার কাজে এগুলো ব্যবহার করার আইনগত ক্ষমতা সরকারের নেই। আদালত প্রাণিকল্যাণের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সাময়িক স্থগিতাদেশ দিয়েছে।
তবে আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর নতুন বিতর্কের সূচনা হয়েছে। সমালোচকরা প্রশ্ন তুলছেন, ফিলিস্তিনি বন্দিদের মানবাধিকার ও নিরাপত্তার চেয়ে কুমিরের সুরক্ষাকেই কি বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে? বৈরুতভিত্তিক নীতিবিশেষজ্ঞ হুসেইন শোকর বলেন, কুমির ব্যবহারের পরিকল্পনা মধ্যযুগীয় নিষ্ঠুরতার স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়। তিনি আরব নিউজকে সাক্ষাৎকারে বলেন, উদ্বেগের বিষয় শুধু বেন-গভিরের পরিকল্পনা নয়, বরং আদালতের সিদ্ধান্তও। তার মতে, আদালত প্রাণিকল্যাণের বিষয়ে যতটা গুরুত্ব দিয়েছে, মানবিক দিকটি ততটা গুরুত্ব পায়নি।
মানবাধিকার সংস্থা কেইজ ইন্টারন্যাশনাল-এর পরিচালক মোয়াজ্জাম বেগও এই পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন, একবিংশ শতাব্দীতে কুমিরকে নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ব্যবহারের চিন্তা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং এটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।
প্রতিবেদনটি জানায়, বেন-গভিরের এই প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্রের একটি অভিবাসন আটক কেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কাছে অনুপ্রাণিত। তবে, ওই কেন্দ্রটি অমানবিক পরিবেশ ও পরিবেশগত ক্ষতির অভিযোগে মামলা দায়ের হওয়ার পর গত জুনে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এদিকে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে কেৎসিওত কারাগারের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সাবেক বন্দি এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, সেখানে নির্যাতন, যৌন সহিংসতা, অনাহার এবং চিকিৎসাসেবায় অবহেলার ঘটনা ঘটছে। বি’ৎসেলেম, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থা ইসরায়েলের কারাগার ব্যবস্থায় নির্যাতন ও বন্দিদের প্রতি দুর্ব্যবহারের অভিযোগ নথিভুক্ত করেছে।
ফিলিস্তিনি প্রিজনার্স সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ২৪ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এছাড়া, গাজা থেকেও হাজার হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে।
সমালোচকদের মতে, কারাগারের চারপাশে কুমির ব্যবহারের পরিকল্পনা ফিলিস্তিনিদের প্রতি অমানবিক দৃষ্টিভঙ্গির আরেকটি উদাহরণ এবং এটি মানবাধিকারের ওপর আন্তর্জাতিক উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন