প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নির্মাণাধীন একটি প্রকল্প থেকে রড চুরির ঘটনায় ৬ জন চোরকে হাতেনাতে ধরে পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন বসুন্ধরার নিরাপত্তারক্ষীরা।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ৬ নম্বর গেট থেকে তাদের আটক করা হয়। পরের দিন ভাটারা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে চোরদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে কঠোর নজরদারি ও দ্রুত পদক্ষেপের কারণে বসুন্ধরার নিরাপত্তারক্ষীরা প্রশংসা কুড়িয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। এ ঘটনায় নিরাপত্তাকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়েছেন এক বাসিন্দা।
মঙ্গলবার এমডি রাকিব নামের ওই বাসিন্দা ফেসবুকে লিখেছেন, ‘গত ৮ অক্টোবর আমার কাকার প্রজেক্ট থেকে রড চুরি হয়েছিল। গতকাল (সোমবার) রাতে চোরদের হাতেনাতে ধরে তারা তাদের নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন। নিরাপত্তার রক্ষক হিসেবে আপনাদের এই তৎপরতা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বসুন্ধরা সিকিউরিটি টিমকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন!’
এ ছাড়া ওই পোস্টের কমেন্টেও বসুন্ধরার নিরাপত্তা রক্ষীদের প্রশংসা করতে দেখা গেছে।
আসাদুজ্জামান মুন্না নামের একজন লিখেছেন, ‘সত্যিই গার্ডগুলো খুব সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে। এরা পুলিশের থেকেও বেশি নিরাপত্তা প্রদান করে।’
আরেকজন লিখেছেন, ‘বসুন্ধরা এলাকায় সকল প্রশাসনিক ভাইদের আচার-ব্যবহার অনেক ভালো। ওরা সবাই নিঃস্বার্থে সততার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।’
জিডি সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ অক্টোবর দিবাগত রাতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এন-ব্লক থেকে একটি সংঘবদ্ধ চোর চক্রের ৬ জন বিপুল পরিমাণ রড চুরি করে নিয়ে যায়। ঘটনার পর চারপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে চুরির কাজে ব্যবহৃত গাড়ি এবং চোরদের শনাক্ত করা হয়। চোরদের পুনরায় ধরতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার সকল সিকিউরিটি গেটে চুরির কাজে ব্যবহৃত গাড়িটির নম্বর নোট করানো হয়। পরে গত সোমবার রাতে ওই চোর চক্রটি আবারও চুরির উদ্দেশে প্রবেশ করলে ৬ নম্বর গেটে দায়িত্বরত নিরাপত্তারক্ষীরা তাদের সিমেন্ট বোঝাই একটি ট্রাকসহ হাতেনাতে আটক করেন।
জিডিতে আরো বলা হয়, আটক চোররা দীর্ঘদিন ধরে এই আবাসিক এলাকার বিভিন্ন স্থানে এবং বিভিন্ন নির্মাণাধীন প্লটে নানা কায়দায় বড়বড় চুরি সংঘটিত করে আসছিল। আটকদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে বিগত দিনে ঘটে যাওয়া অন্যান্য চুরির ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে ভাটারা থানা পুলিশের কাছে তাদের হস্তান্তর করা হয়েছে।
এর আগে, গত ২২ সেপ্টেম্বর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় সংঘবদ্ধ মোটরসাইকেল চোরচক্রের ৩ সদস্যকে আটক করেন বসুন্ধরার নিরাপত্তারক্ষীরা। পরে আটক ব্যক্তিদের ও উদ্ধার করা আলামত প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে ভাটারা থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
তারও আগে, গত আগস্ট মাসে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনায় গোলাম রাফি খান নামে একজনকে আটক করা হয়। ছিনতাইয়ের ঘটনার ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে তাকে আটক করে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার নিরাপত্তাকর্মীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বসুন্ধরা এলাকায় হেঁটে যাওয়া এক নারীর ব্যাগ ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়। তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের ছবিও সংগ্রহ করা হয়। আটকের পর গোলাম রাফি খান স্বীকারোক্তি দেন। সেখানে তিনি নিজেকে ইয়াবাসেবী বলে দাবি করেন। পরে আইনগত ব্যবস্থা নিতে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন