প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
টঙ্গীর একটি মাদরাসায় সাত বছর বয়সী এক শিশুকে শিক্ষক চুমু দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় শিশুটির বাবার অভিযুক্ত শিক্ষককে থাপ্পড় মারার ঘটনা নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান এ বিষয়ে তার মতামত প্রকাশ করেছেন। শনিবার (২৪ অক্টোবর) তিনি নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে এই ঘটনার উপর মন্তব্য করেন। শিশুদের নিরাপত্তা, মাদরাসাশিক্ষা ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক নেতাদের আচরণ নিয়েও তিনি কথা বলেছেন।
রাশেদ খান তার পোস্টে উল্লেখ করেন, "চুমু দেওয়া একজন শিক্ষকের কাজ নয়, এমনকি একজন রাজনৈতিক নেতারও কাজ নয়।" টঙ্গীর মাদরাসায় শিশুটিকে চুমু দেওয়ার অভিযোগ এবং পরবর্তীতে শিশুটির বাবার অভিযুক্ত শিক্ষককে থাপ্পড় মারার ঘটনা জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
তিনি বলেন, "ঘটনাটি সামনে আসার পর অনেক অভিভাবকই তাদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।" রাশেদ খান আরও বলেন, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিছু ব্যক্তি মাদরাসাশিক্ষার বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে, তিনি মনে করেন, কোনো ব্যক্তির অপরাধের দায় পুরো মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার ওপর চাপানো উচিত নয়। শিশুটির বাবাও তার বক্তব্যে বিষয়টি তুলে ধরেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দেশের মাদ্রাসাশিক্ষকেরা এ ধরনের ঘটনার প্রতিকার খুঁজে বের করতে উদ্যোগী হবেন এবং জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।
নিজের পোস্টে রাশেদ খান লেখেন, "প্রতিটি বাবা-মায়ের কাছে সন্তান পবিত্র আমানত।" তিনি বলেন, "সেই সন্তানের প্রতি কেউ কুনজর দিলে অভিভাবকদের ক্ষুব্ধ হওয়া স্বাভাবিক।" তবে, তিনি এ ধরনের ঘটনায় দায়িত্বশীল আচরণ ও সচেতনতার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার কথা বলেন।
পোস্টে রাশেদ খান আরও দাবি করেন, "একটি দলের প্রধান নেতা প্রকাশ্যে চুমু দেওয়ার সংস্কৃতি চালু করেছেন।" তার মতে, ওই নেতা হয়তো শিশু বা অন্য কারো প্রতি স্বাভাবিক স্নেহ-ভালোবাসা প্রকাশের উদ্দেশ্যেই এমন আচরণ করেন।
তবে তিনি সতর্ক করেন যে, কোনো নেতার আচরণে প্রভাবিত হয়ে অন্য কেউ একই ধরনের আচরণ করতে পারেন। আবার সুযোগসন্ধানী কেউ শিশুদের প্রতি অসৎ উদ্দেশ্য নিয়েও এমন আচরণ করতে পারে। টঙ্গীর ঘটনাকে এ ধরনের আচরণের পরিণতির উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
রাশেদ খান স্পষ্ট করেন, "ওই রাজনৈতিক নেতা নেতিবাচক উদ্দেশ্যে চুমু দেন—এমন দাবি তিনি করছেন না।" তবে, বর্তমান সামাজিক বাস্তবতায় শিশু কিংবা অন্য কারো প্রতি এ ধরনের আচরণ বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সবশেষে তিনি আশা প্রকাশ করেন, টঙ্গীর ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রধান নেতাও নিজের আচরণ সংশোধনের বিষয়টি বিবেচনা করবেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন