প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আজ, ২৭ জুন, পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক বধির-অন্ধ দিবস। এই বিশেষ দিনটি দৃষ্টি এবং শ্রবণ—এই দুটির মধ্যে গুরুতর প্রতিবন্ধকতা নিয়ে বেঁচে থাকা মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও সমাজে অন্তর্ভুক্তির গুরুত্ব অন্বেষণ করার জন্য পালন করা হচ্ছে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুসারে, ২৭ জুনকে আন্তর্জাতিক বধির-অন্ধ দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, আজকের এই দিনটি বিশ্বখ্যাত লেখক ও সমাজকর্মী হেলেন কেলারের জন্মদিন উপলক্ষে উদযাপিত হচ্ছে। তিনি দৃষ্টি ও শ্রবণ—দুই ধরনের প্রতিবন্ধকতা নিয়ে বেঁচে থেকেও ভূবনজুড়ে লাখো মানুষের অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছেন।
জাতিসংঘের বক্তব্য অনুযায়ী, বধির-অন্ধত্ব কেবল দৃষ্টি ও শ্রবণশক্তি হারানোর বিষয় নয়, বরং এটি একটি স্বতন্ত্র প্রতিবন্ধকতা। এক ইন্দ্রিয়ের সীমাবদ্ধতা অন্য ইন্দ্রিয় দ্বারা পূরণ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়। এর ফলেই শিক্ষা, যোগাযোগ, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান সহ দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদের আলাদা ধরনের সাহায্যের প্রয়োজন হয়।
বাংলাদেশে বধির-অন্ধ ব্যক্তিরা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছেন। তাদের জন্য এখনো একটি নির্ভরযোগ্য জাতীয় তথ্যভান্ডার নেই, যার ফলস্বরূপ কতজন মানুষ এই প্রতিবন্ধকতা নিয়ে জীবনযাপন করছে, তার সঠিক সংখ্যা বের করা সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন, পরিসংখ্যানের অভাবে নীতিনির্ধারণ, সরকারি সেবা ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে তারা অনেক সময় অবহেলিত হয়ে যান।
দেশে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দোভাষী, পথপ্রদর্শক এবং যোগাযোগ সহায়তাকারীর সংখ্যা অনেক কম। এর কারণে অনেক বধির-অন্ধ ব্যক্তি শিক্ষা গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া কিংবা সরকারি ও বেসরকারি সেবা গ্রহণে সমস্যায় পড়ছেন। তাদের অনেক পরিবারেরও প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং সচেতনতার অভাবে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
প্রতিবন্ধী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর মতে, বধির-অন্ধ ব্যক্তিদের জন্য আলাদা শিক্ষা ব্যবস্থা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের সুযোগ ও প্রশিক্ষিত সহায়তাকারী নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এই ক্ষেত্রে সরকারি নীতিমালায় এই প্রতিবন্ধকতাকে স্বতন্ত্রভাবে গুরুত্ব দিয়ে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও জোরালোভাবে জানানো হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বধির-অন্ধ দিবসের মূল বার্তা হলো— কাউকে অদৃশ্য করে রাখা নয়, বরং সমান অধিকার, প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করা। সচেতনতা বৃদ্ধি ও কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশেও বধির-অন্ধ ব্যক্তিদের জন্য আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন