প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্বের বিভিন্ন শহরের মতো বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা দীর্ঘকাল ধরে বায়ুদূষণের সমস্যার সম্মুখীন। সর্বশেষ বায়ুর মান সূচক অনুযায়ী, ঢাকার বাতাসের মান অস্বাস্থ্যকর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
আইকিউএয়ারের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (এএকিউআই) অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ৭টা ২৫ মিনিটে ঢাকার স্কোর ছিল ১৫৮। এই স্কোরের ভিত্তিতে, বায়ুর মান অস্বাস্থ্যকর বলে বিবেচিত হচ্ছে। একই সময়ে, দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান সপ্তম।
দূষিত শহরের তালিকায় ১৯৬ স্কোর নিয়ে ভারতের কলকাতা প্রথম অবস্থানে রয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে ভিয়েতনামের হ্যানয় ১৮৮ স্কোর নিয়ে, তৃতীয় স্থানে চীনের রাজধানী বেইজিং ১৭৭ স্কোর নিয়ে, চতুর্থ স্থানে সিঙ্গাপুরের ১৭২ স্কোর এবং পঞ্চম স্থানে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা ১৬৭ স্কোর নিয়ে রয়েছে।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার এই তালিকা প্রকাশ করে থাকে। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিমুহূর্তের বাতাসের মানের ভিত্তিতে একিউআই (এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স) সূচক তৈরি করে, যা একটি নির্দিষ্ট শহরের বায়ুর স্বচ্ছতা বা দূষণের মাত্রা সম্পর্কে তথ্য প্রদান করে। এই সূচক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে কিনা, সে সম্পর্কে জনসাধারণকে অবহিত করে।
একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০ ভালো হিসেবে গণ্য করা হয়। ৫১ থেকে ১০০ সহনীয় বা মাঝারি হিসেবে ধরা হয়। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়। ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত স্কোর অস্বাস্থ্যকর হিসেবে চিহ্নিত হয়। একইভাবে, ২০১ থেকে ৩০০ স্কোর খুবই অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০১-এর বেশি স্কোর দুর্যোগপূর্ণ হিসেবে গণ্য করা হয়।
বায়ুদূষণ গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করে এবং এটি সকল বয়সের মানুষের জন্য ক্ষতিকর। তবে বিশেষ করে শিশু, অসুস্থ ব্যক্তি, প্রবীণ ও অন্তঃসত্ত্বাদের জন্য বায়ুদূষণ অত্যন্ত ক্ষতিকর।
বাংলাদেশে একিউআই নির্ধারণ করা হয় দূষণের ৫টি বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে। সেগুলো হলো, বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), এনও২, সিও, এসও২ ও ওজোন (ও৩)।
২০১৯ সালের মার্চ মাসে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, ঢাকার বায়ুদূষণের তিনটি প্রধান উৎস হলো, ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া এবং নির্মাণ সাইটের ধুলা।
ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বায়ুদূষণের কারণে স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যানসার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের কারণে মৃত্যুহার বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষ মারা যাচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন