প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ আজ প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফরের জন্য আয়োজিত জনসভাস্থল পরিদর্শনে গিয়েছেন। তিনি সকাল সাড়ে ১০টায় সেখানে উপস্থিত হন। পরিদর্শনের সময় তিনি পরশুরাম উপজেলার খেয়াঘাট, মুহুরী নদীর তীরবর্তী এলাকা এবং প্রস্তাবিত জনসভাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
এ সময়, তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সফরের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, "প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে ফেনীর পরশুরাম ও সংলগ্ন এলাকার মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।" তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সুষ্ঠু, নিরাপদ ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
ফরহাদ হোসেন আজাদ আরও বলেন, "মুহুরী-কহুয়া নদী অববাহিকার মানুষের দীর্ঘদিনের বন্যা, জলাবদ্ধতা ও নদীভাঙনের সমস্যা সমাধানে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গৃহীত প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।" তিনি জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নদীতীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি মানুষের জানমাল ও কৃষিজমি বন্যার ক্ষয়ক্ষতি থেকে অধিকতর সুরক্ষিত হবে।
তিনি বলেন, "পানি শুধু মানুষের জীবন-জীবিকার জন্য অপরিহার্য নয়, একটি এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গেও সরাসরি সম্পৃক্ত।" প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, বন্যা ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমানো গেলে কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরো গতিশীল হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে গৃহীত প্রস্তুতির পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুণগত মান, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং স্থানীয় জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। স্থানীয় জনগণের মতামত ও প্রয়োজনকে বিবেচনায় নিয়ে টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।
সফর শেষে, প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি বলেন, "প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ফেনীর মানুষের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।" বিশেষ করে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি নিষ্কাশন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বন্যা ও জলাবদ্ধতার সমস্যা মোকাবেলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে। এর ফলে কৃষি উৎপাদন, যোগাযোগব্যবস্থা, স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য এবং মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা আরো স্থিতিশীল হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তিনি আরও বলেন, "আমরা চাই ফেনীর মানুষকে বন্যা ও জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে স্থায়ীভাবে সুরক্ষা দিতে।" পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এ লক্ষ্যেই প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, প্রধানমন্ত্রীর সফর এ অঞ্চলের পানি ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করবে।
প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম মজনু, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবদিনসহ জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন