প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের গড়মাটি গ্রামে ৪ শতাধিক জামাই স্ত্রী-সন্তানের সঙ্গে বাস করছেন। অনেকেই এই গ্রামকে মজা করে ‘জামাইদের গ্রাম’ বলে সম্বোধন করেন। গত প্রায় ৫০ বছর ধরে এখানে জামাইদের বসবাসের এই রীতি প্রচলিত হয়ে আছে।
স্থানীয়দের মতে, ওই গ্রামে নারীর সংখ্যা পুরুষের চেয়ে বেশি। এছাড়া জামাই আদোর ও অন্যান্য কারণের জন্য এখানে ব্যতিক্রমী রীতির প্রচলন ঘটে।
তথ্য অনুসারে, গোপালপুর ইউনিয়নে মোট ১৩টি গ্রাম বিদ্যমান। এর মধ্যে ৫টি গ্রামে পুরুষের সংখ্যা বেশি, কিন্তু বাকি ৮টি গ্রামে নারীর সংখ্যা বেশি, যার মধ্যে গড়মাটি গ্রাম অন্যতম। গড়মাটি গ্রামের মোট জনসংখ্যা ৬ হাজার ৭৫৬, যার মধ্যে পুরুষ ৩ হাজার ১২০ এবং নারী ৩ হাজার ৬৩৬ জন।
গড়মাটি গ্রামের অনেক পরিবারে প্রথম সন্তান মেয়ে। বাবামায়ের সঙ্গে মেয়েদের সম্পর্ক স্বাভাবিকভাবেই বেশি উন্নত। এর ফলে মেয়েরাই বাবা-মায়ের প্রতি বেশি মনোযোগ পায়। অনেক পরিবারের ছেলেরা বিয়ের পর আলাদা সংসার গড়ে বাবা-মায়ের প্রতি তেমন দায়িত্ব নেন না, তাই মেয়েদেরকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য নূরজাহান খাতুন জানান, অনেক মেয়ের স্বামী বিদেশে থাকেন, ফলে তারা শ্বশুরবাড়ির জায়গায় বাবার বাড়িতে থাকতে পছন্দ করেন। স্বামীরা দেশে ফিরে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে মেয়ের বাবা-মায়ের জমিতে ঘরবাড়ি নির্মাণ করেন এবং সেখানে বসবাস করেন। আবার কিছু মেয়ে শাশুড়ির নির্যাতন সইতে না পেরে স্বামীসহ বাবার দেওয়া জমিতে ঘর বানিয়ে সংসার করছেন। পাশাপাশি ওই গ্রামে পেঁয়াজ-রসুনসহ বিভিন্ন লাভজনক কৃষিপণ্য উৎপাদন হওয়ায় কৃষিজীবী পরিবারগুলো সেখানে বসবাসে আগ্রহী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জামাই জানালেন, গড়মাটিতে তার মতো ৪ শতাধিক জামাই বসবাস করছেন, কিন্তু ঘরজামাই সংখ্যা খুবই কম। অধিকাংশেই নিজস্ব বাড়িতে বসবাস করছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন