০৫:৩৩ পি.এম
মুম্বাইয়ের ওরলি এলাকায় একটি কনসার্টে অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে এক ব্যক্তি মারা গেছে এবং তার বান্ধবীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনা ঘটে শনিবার গভীর রাতে এনএসসিআই ডোম ওরলিতে অনুষ্ঠিত ‘ক্লাংকুয়েনস্টলার অল নাইট লং’ নামক সঙ্গীতানুষ্ঠানে।
সূত্র জানায়, ২৮ বছর বয়সী বৃষভ গাঙ্গুরদে, যিনি মাহিমের বাসিন্দা, এবং তার বান্ধবী সেই অনুষ্ঠানে মদ্যপ অবস্থায় উপস্থিত ছিলেন। জনাকীর্ণ সেই স্থানে তারা অসুস্থ বোধ করতে শুরু করলে তাদের তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই গাঙ্গুরদে মারা যান। পুলিশ এক বিবৃতিতে জানায়, গাঙ্গুরদে ব্রীচ ক্যান্ডি হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছিল। এর পাশাপাশি, পুলিশ জানায়, তার বান্ধবীকে চিকিৎসার জন্য জাসলক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন।
আরও পড়ুন: রূপগঞ্জে পুলিশের কনস্টেবলের রগ কাটল মাদক কারবারিরা
প্রমাণের অভাবে পুলিশ আপাতত ‘ড্রাগ’- সংশ্লিষ্টতার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে। গাঙ্গুরদের মৃত্যুর তদন্ত অব্যাহত থাকায় তারা ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ক্যামেরা ও অন্যান্য সরঞ্জাম খতিয়ে দেখছে।
এদিকে, প্রাথমিক তদন্তে মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে হৃদরোগকে ইঙ্গিত করা হচ্ছে। তবে পুলিশ ময়নাতদন্ত এবং ফরেনসিক প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছে।
এপ্রিলের পর এটি দ্বিতীয় একটি ঘটনা যেখানে কনসার্টে অতিরিক্ত মাদক সেবনের কারণে মৃত্যু ঘটেছে। সেই সময় গোরেগাঁওয়ের নেসকো সেন্টারে একটি কনসার্টে দুজন এমবিএ শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছিল।
সূত্র জানায়, গোরেগাঁও ট্র্যাজেডি এবং নিরাপত্তা ও ভিড় ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে স্থানীয় পুলিশ প্রথমে ওরলির কনসার্টের অনুমতি দেয়নি। তবে স্থানীয় পুলিশের আপত্তি সত্ত্বেও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরে অনুমোদন দেন।
আরও পড়ুন: নির্বাচনে ভরাডুবির পর রুবিওর পদত্যাগের গুঞ্জন, হোয়াইট হাউস নাকচ করেছে
কনসার্টের স্থানে চারটি মদের স্টল ছিল, যা সবগুলোই আবগারি বিভাগ কর্তৃক অনুমোদিত ছিল। কনসার্টটি সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলেছিল এবং প্রতিটি টিকিটের মূল্য ছিল ৪,০০০ টাকা। এই অনুষ্ঠান সময়মতো শেষ হয়।
কনসার্টের জন্য মদ পরিবেশনের লাইসেন্স এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্রগুলো এখন নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ একটি আকস্মিক মৃত্যু প্রতিবেদন (এডিআর) দায়ের করেছে এবং এই ঘটনায় আয়োজকসহ অন্তত আটজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। টিকিটের সম্ভাব্য অবৈধ কালোবাজারির জন্য আয়োজকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এছাড়াও, তদন্ত করা হচ্ছে যে, একটি সঙ্গীতানুষ্ঠানের আড়ালে কোনো গোপন রেভ পার্টির পরিকল্পনা করা হয়েছিল কিনা এবং প্রমাণ গোপন করার উদ্দেশ্যে কনসার্টে দর্শকদের তাদের মোবাইল ফোনের ক্যামেরা টেপ দিয়ে আটকে রাখতে বলা হয়েছিল কিনা।
আরও পড়ুন: মাদক, বাল্যবিবাহ ও অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে সকলকে আসতে হবে: রাশেদ খাঁন
সূত্র: এনডিটিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন