প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারী বর্ষণের ফলে ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করতে আসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমীন।
গত তিন দিনের ভারী বর্ষণে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢল এবং সমুদ্রের জোয়ারের কারণে পানি আটকে পড়ে, ফলে বাঁশখালীর প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এই সংবাদ ‘আমার দেশ’ অনলাইনে প্রকাশিত হওয়ার পর জরুরি সভার আয়োজন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমীন।
তিনি ‘আমার দেশ’-এর প্রতিনিধিকে বলেন, “প্রত্যেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এবং সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে ইউএনও কার্যালয়ে জরুরি সভা করেছি। সবার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী জনগণকে সতর্ক করতে মাইকিং করা হচ্ছে। অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষের কাছে সরাসরি গিয়ে তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। সেই সঙ্গে পানিবন্দী মানুষদের দ্রুত স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সেখানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।”
তিনি জনগণকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেন এবং প্রশাসনের সহযোগিতা নেওয়ার জন্য আহ্বান জানান।
এদিকে বন বিভাগের তথ্যমতে, বাঁশখালীতে প্রায় ৪০ হাজার পরিবার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করছে। ভারী বৃষ্টির কারণে এসব পরিবারের মধ্যে আতঙ্ক এবং প্রাণহানির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
অনিয়ন্ত্রিত বসতি স্থাপন, জীবিকার তাগিদ এবং মাথা গোঁজার ঠাঁই না পাওয়ার কারণে বহু মানুষ পাহাড় কেটে সেখানে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি তৈরি করেছেন। বর্ষাকালে একটানা প্রবল বর্ষণে পাহাড়ের মাটি আলগা হয়ে ধসের আশঙ্কা দেখা দেয়। অতীতে বাঁশখালীর শীলকূপসহ বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধসে শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
বাঁশখালী ইকোপার্কের পরিচালক ও ফরেস্ট রেঞ্জার ইসরায়েল হক বলেন, “ঝুঁকি এড়ানোর জন্য উপজেলা প্রশাসন এবং বন বিভাগের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমীন মহোদয় নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা স্যারের নির্দেশনা অনুযায়ী ইতোমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছি।”
জানা যায়, ঝুঁকিপূর্ণ বসতি সরাতে এর আগে বেশ কয়েকবার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে, কিন্তু পুনর্বাসনের অভাবে মানুষ আবারও পাহাড়ের ঢালে ফিরে আসে। বাঁশখালীর পাহাড়ি অঞ্চল শীলকূপ, চাম্বল, পুঁইছড়ী, নাপোড়া, জলদী, পাইরাং, গুনাগরী, কালীপুর, সাধনপুর এবং পুকুরিয়া এলাকায় বহু মানুষ পাহাড়ের পাদদেশে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে।
এদিকে আগামী ১২ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা এবং উপজেলায় টানা ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। ফলে পাহাড়ধস, পাহাড়ি ঢল এবং নিচু এলাকায় আকস্মিক জলাবদ্ধতা বা বন্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পূর্বাভাসে সংস্থাটি জানায়, কয়েক দিন ধরে নিয়মিত ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ধসের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনাও ঘটেছে। সুতরাং পাহাড়ি অঞ্চলের বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন