প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঝালকাঠি জেলা কারাগারের ভর্তি ও মুক্ত শাখার কর্মকর্তা মনির হোসেন এবং আইসিটি-মোবাইল বিভাগের কর্মকর্তা অন্তরের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, বন্দিদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, অর্থ দাবি ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন।
অভিযোগকারীদের দাবি, ঝালকাঠি জেলা কারাগারের ভর্তি ও মুক্ত শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনির হোসেন কারাগারে আসা বন্দিদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন। কোনো বন্দির অভিভাবক টাকা-পয়সা দিয়ে গেলে অথবা নতুন কোনো বন্দি সঙ্গে টাকা নিয়ে কারাগারে প্রবেশ করলে তা আত্মসাৎ করার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। কেউ এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করলে তাঁকে গালিগালাজ ও মারধরের শিকার হতে হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এছাড়া ‘শোন অ্যারেস্ট’-এর ভয় দেখিয়ে বন্দি বা তাঁদের স্বজনদের কাছ থেকে টাকা দাবি করার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, কেউ টাকা দিতে অনিচ্ছুক হলে তাঁকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়। জামিনপ্রাপ্ত বন্দিদের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থাকে অবহিত করে হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে।
কারামুক্ত কয়েকজন বন্দির দাবি, মনির হোসেনের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের পরও তাঁর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তাঁরা অভিযোগ করেন।
অন্যদিকে, কারাগারের আইসিটি-মোবাইল বিভাগের কর্মকর্তা অন্তরের বিরুদ্ধেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, কারাগারে বন্দিদের মোবাইল যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত তথ্য ও তাঁদের স্বজনদের মোবাইল নম্বর সংরক্ষিত থাকার সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন কৌশলে বন্দিদের অসুস্থতার কথা বলে তাঁদের পরিবারের সদস্যদের কাছে টাকা দাবি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেন। কোনো বন্দি এসব বিষয়ে কথা বললে তাঁর মোবাইল যোগাযোগসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বন্ধ করে দেওয়ার ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বন্দি ও তাঁদের স্বজনদের দাবি, এসব অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাঁদের বর্তমান কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানান তাঁরা।
এ বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন