প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শুক্রবার যশোর সদর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত মন্তব্য করেছেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার সকল জনগণের মুখে হাসি ফোটাতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর জনগণ ভোট দিয়ে এই সরকারকে নির্বাচিত করেছে। অতীতে জনগণ অসাধু কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাদের মেলবন্ধনে দেখেছে কীভাবে তাদের অর্থ লোপাট হয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকারের সময় জনগণের অর্থ নিয়ে ছিনতাই করার কোনো সুযোগ নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘জনগণের প্রাপ্য অধিকার তাদের বুঝিয়ে দেওয়া হবে এবং আমরা কোনো ব্যক্তিবিশেষ নয়, বরং সমগ্র জনগণের মুখে হাসি ফোটাতে চাই।’
আজ শুক্রবার যশোর সদর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
সদর উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের রোগীদের জন্য ফ্যান, হুইলচেয়ার ও ট্রলি, পল্লী উদ্যোক্তা ঋণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার সামগ্রী, কৃষি উদ্যোক্তাদের মাঝে প্রক্রিয়াজাতকরণ সরঞ্জামাদি, নগদ অর্থ সহায়তা ও শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়।
এর আগে, প্রতিমন্ত্রী উপজেলা পরিষদ চত্বরে বৃক্ষরোপণ করেন। পাশাপাশি মুন্সী মেহেরুল্লাহ ময়দানে জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের আয়োজনে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষমেলা ও শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন এবং মেলায় শ্রেষ্ঠ স্টল ও উদ্যোক্তাদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।
যশোর সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আরও জানালেন, বিএনপি কখনো উন্নয়নে বৈষম্য করে না।
তিনি বলেন, ‘উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিএনপি কখনো হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে পার্থক্য করে না এবং ধর্মীয় বা রাজনৈতিক বিশ্বাস বিবেচনা করে না। আমাদের যখন অনুদান দেওয়ার দায়িত্ব আসে, তখন একটি অনুদান কারবালা কবরস্থানে এবং অপরটি নীলগঞ্জ মহাশ্মশানে দেওয়া হয়েছে।’
ছবি: বাসস
অতীতে ত্রাণ অথবা কার্ড পাওয়ার জন্য প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হতো উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এই বঞ্চনার সংস্কৃতি বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি সবার জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নিশ্চিত করতে চান। এখানে রাজনৈতিক বা ধর্মীয় বিশ্বাস বিবেচনায় নিয়ে কেউ কার্ড পাবে আর কেউ পাবে না-এমনটাও হওয়ার কোনো সুযোগ নেই; প্রকৃত যোগ্যরাই এই কার্ড পাবেন।’
মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ’প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী অঙ্গীকার হলো- একটি মাদকমুক্ত ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। যশোরকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত করতে রাজনৈতিক কিংবা সামাজিক শক্তি যত প্রভাবশালীই হোক না কেন- সেটি আমার নিজ দলের কেউ হলেও কোনো আপস করা হবে না। মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূল করতে গিয়ে প্রশাসনের যে সকল কর্মকর্তা ব্যর্থ হবেন, আপনাদের নতুন ঠিকানা খুঁজে নিতে হবে।’
এ সময় তিনি যশোর সদর উপজেলার প্রতিটি স্কুল ও কলেজে পর্যায়ক্রমে কম্পিউটার ল্যাব আধুনিকায়ন এবং লাইব্রেরিতে নতুন বই সংগ্রহের জন্য পর্যাপ্ত অর্থসহায়তা প্রদানের ঘোষণা দেন।
অনুষ্ঠানে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের জন্য ১০০টি ফ্যান, ১০টি করে ট্রলি ও হুইলচেয়ার, প্রতিবন্ধী কেন্দ্রের জন্য ১০টি হুইলচেয়ার, ৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব আধুনিকায়নের জন্য ল্যাপটপ, প্রিন্টার ও ফটোকপি মেশিনসহ ডিজিটাল ডিভাইস বিতরণ করা হয়।
এছাড়া ১৭৫ জনের মাঝে ৪ হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা, ১০ জনের মাঝে গৃহনির্মাণের চেক, ৫০ জন দরিদ্র ব্যক্তির মাঝে খাদ্যসামগ্রী, ৩ জন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার মাঝে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা করে ক্ষুদ্র ঋণ এবং ৬ জন কৃষি উদ্যোক্তার মাঝে প্রক্রিয়াজাতকরণ সরঞ্জামাদি প্রদান করেন প্রতিমন্ত্রী।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন