প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. জিয়াউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, বিদেশ যেতে আগ্রহী অভিবাসীদের মধ্যে ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা রয়েছে। অনেকে অবৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অভিবাসী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে এ প্রবণতা বাংলাদেশের ভাবমূর্তির জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীতে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার বাংলাদেশ আয়োজনের একটি কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এই কর্মশালাটি ‘মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’ বিষয়ক ছিল। ব্রিটিশ হাইকমিশনের সহায়তায় আয়োজিত কর্মশালায় জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।
ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ গন্তব্য দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করছে।
একই সঙ্গে মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের মতো আন্তঃদেশীয় ও সংঘবদ্ধ অপরাধ মোকাবেলায় সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিষয়টির বিভিন্ন দিক সম্পর্কে গণমাধ্যমের সুস্পষ্ট ধারণা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান এখন একটি বৈশ্বিক সমস্যা।
তিনি এ নিয়ে আরও বলেন, এই আন্তঃদেশীয় ও সংঘবদ্ধ অপরাধ মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। ২০২৬ সালের নতুন আইন প্রণয়ন সেই প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
নতুন আইনে ট্রাইব্যুনালের ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। কর্মশালায় নতুন আইন নিয়ে মূল আলোচনা করেন জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, নতুন আইনে অভিবাসী চোরাচালানকে পৃথক অধ্যায় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক প্রটোকলের সঙ্গে বাংলাদেশের আইনি কাঠামোর সামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে।
নতুন আইনে গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রক্রিয়াগত পরিবর্তনও আনা হয়েছে বলে তিনি জানান। মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান ট্রাইব্যুনালের বিচারক এবং তদন্ত কর্মকর্তাদের ক্ষমতা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ধর্ষণ ও হত্যার মতো আনুষঙ্গিক অপরাধ, যা আগে ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারের বাইরে ছিল, এখন সংশ্লিষ্ট আনুষঙ্গিক অপরাধ হিসেবে ট্রাইব্যুনালে বিচারযোগ্য করা হয়েছে।
এআই ব্যবহার করে তৈরি হচ্ছে ভুয়া তথ্য। কর্মশালায় ইমিগ্রেশনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আবু নোমান বলেন, অপরাধী চক্রগুলো বিদ্যমান ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে মানুষকে চোরাচালানের মাধ্যমে বিদেশে পাঠাচ্ছে। ভিসা সংগ্রহের জন্য জাল নথি তৈরির পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে মিথ্যা তথ্য তৈরির ঘটনাও ঘটছে।
তিনি বলেন, মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের বিদেশযাত্রা ঠেকানোসহ বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা রয়েছে।
কর্মশালায় নৈতিক ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বিষয়ে সেশন পরিচালনা করেন বাংলা সম্পাদক মো. এস কে তানভীর মাহমুদ। তিনি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নিয়ে আলোচনা করেন।
তিনি জানান, মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে অনেক সময় অপরাধ ও অপরাধীর দিকটি বেশি গুরুত্ব পায়। কিন্তু এসব ঘটনায় ভুক্তভোগী এবং বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা, অধিকার ও সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তাও সমান গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা উচিত।
কর্মশালায় মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের ক্রমবর্ধমান জটিল ও আন্তঃদেশীয় প্রকৃতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। আইন প্রয়োগের দৃষ্টিকোণের পাশাপাশি ভুক্তভোগী ও বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা এবং তাদের সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।
শেষ পর্বে বাস্তবভিত্তিক বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে কেস আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের ভবিষ্যৎ প্রতিবেদনে আলোচনার বিষয়গুলো প্রয়োগ করে মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান বিষয়ে আরও তথ্যসমৃদ্ধ, দায়িত্বশীল ও ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক প্রতিবেদন তৈরির আহ্বান জানানো হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন