প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাঙ্গামাটি, ২০ অক্টোবর, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্তৃক ঘোষিত ৫ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের কর্মসূচির অংশ হিসেবে, রাঙ্গামাটি জেলার কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়া এলাকায় বন বিভাগের উদ্ধার করা প্রায় ১০ একর উঁচু-নিচু পাহাড়ি জমিতে ১০ হাজারের অধিক বৃক্ষরোপণ করে দৃষ্টিনন্দন বনায়ন গড়ে তুলেছে রাঙ্গামাটি ঝুম নিয়ন্ত্রণ বন বিভাগ।
এই তথ্যটি বাসস’কে নিশ্চিত করেছেন রাঙ্গামাটি ঝুম নিয়ন্ত্রণ বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মো. তবিবুর রহমান।
তিনি উল্লেখ করেন, তারেক রহমানের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির কার্যক্রমের ঘোষণার পরপরই রাঙ্গামাটি ঝুম নিয়ন্ত্রণ বন বিভাগের পক্ষ থেকে জেলায় বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম শুরু হয়।
তবিবুর রহমান আরও জানান, এই কর্মসূচি বর্তমানে চলমান রয়েছে। বর্তমানে বন বিভাগের পক্ষ থেকে পরিত্যক্ত পাহাড় পরিষ্কার করার পাশাপাশি রোপণকৃত চারাগুলোর পরিচর্যা করা হচ্ছে।
রাঙ্গামাটি জেলা শহর থেকে কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়া সৃজনী স্কুলের রাস্তা দিয়ে মূল সড়ক থেকে প্রায় ২-৩ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে যাওয়ার পর, কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়া মৌজার কলমপতি বিটের খাসখালী রেঞ্জের দখলমুক্ত ১০ একর বনভূমিতে দেখা যায় হাজার হাজার প্রায় ৫০ প্রজাতির রোপণকৃত গাছের চারা। এখানে বনজ, ফলদ ও ওষুধি গাছের চারাসহ বিলুপ্ত বিভিন্ন প্রজাতির চারা নিয়ে গড়ে তোলা হচ্ছে সংরক্ষণমূলক বাগান।
এই বাগানে লাগানো চারার মধ্যে রয়েছে গোদা, গুটগুটিয়া, বৈয়লাম, চাপালিশ, ঢেউয়া, সিভিট কদম, চারমুগড়া, বাঁশপাতা, বট, পাকুড়, জগডুমুর, অর্জুন, সোনালু, উদাল, মায়লারম, ঐরিয়াম ও মুহুয়া, ‘শরিফা, আতা, গোলাপ জাম, ঢাকি জাম, ত্রিপলা, আমলকি, বহেরা, চালতা, কাঁঠাল, দেশী আম, জারুল, দেশী গাব, বিলাতি গাবসহ নানা প্রজাতির গাছ।
এই বাগান তৈরির ফলে স্থানীয় শ্রমজীবী মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হয়েছে। এখানে কাজ করছে স্থানীয় অনেক শ্রমিক।
বাগানে কাজ করা শ্রমিকরা জানিয়েছেন, পাহাড়ের পরিত্যক্ত জমিতে এ ধরনের বাগান তৈরির ফলে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি শ্রমজীবী মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। তারা বলেন, "আমরা এই বাগানে দৈনিক পারিশ্রমিকের ভিত্তিতে কাজ করছি।" শ্রমিকরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এ ধরনের জনবান্ধব কার্যক্রম পরিচালনার জন্য।
ঝুম নিয়ন্ত্রণ বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মো. তবিবুর রহমান বাসস’কে আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়াতে গড়ে তোলা বাগানটি ভবিষ্যতে গবেষণার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাহাড়ি বনজ উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য, বৃদ্ধি, সংরক্ষণ ও বীজ উৎপাদন নিয়ে গবেষণার সুযোগ তৈরি হবে। বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি খাসখালী রেঞ্জ এলাকায় বীজ ও নতুন চারা উৎপাদন করা হচ্ছে এবং উৎপাদিত নতুন চারাগুলো জেলার বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে।
তিনি জানান, দখলমুক্ত ১০ একর বনভূমিটি এখন সবুজায়নের আওতায় আসার পাশাপাশি পাহাড়ে বিলুপ্ত প্রায় গাছের প্রজাতি সংরক্ষণে দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়া খাসখালী রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আব্দুল জলিল বাসস’কে জানান, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী এই রেঞ্জের আওতায় ১০ একর জমিতে প্রায় ১০ হাজার ৫শ’ চারা রোপণ করা হয়েছে। অন্যান্য জবরদখলকৃত বনভূমি দখলমুক্ত করে সেসব জমিও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে এই রেঞ্জের মাধ্যমে বীজ ও নতুন চারা উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। যে সব চারা লাগানো হয়েছে সেগুলো নিয়মিত পরিচর্যার জন্য সার্বক্ষণিক বন বিভাগের লোকজন কাজ করছে।
আমরা আশা করছি ঝুম নিয়ন্ত্রণ বন বিভাগ আশানুরূপ বৃক্ষরোপণের টার্গেট পূরণ করতে পারবে।
রাঙ্গামাটি ঝুম নিয়ন্ত্রণ বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মো. তবিবুর রহমান বাসস’কে আরও বলেন, বন বিভাগের এ বাগানটি সরকার প্রধান ঘোষিত ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি জানান, ইতঃপূর্বে এই বাগানটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের জাতীয় বৃক্ষরোপণ সেলের সদস্য ও টেকনিক্যাল এক্সপার্ট জামাইল বশির জেবি। তিনি এই বাগানটি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
সহকারী বন সংরক্ষক মো. তবিবুর রহমান আরও বলেন, বর্তমান সরকারের কয়েকটি কর্মসূচির মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হলো সারাদেশে ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ।
বৃক্ষরোপণের অংশ হিসেবে সারাদেশে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকার বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে। সরকারি ও ব্যক্তি উদ্যোগে এসব বৃক্ষ লাগানো হয়েছে। সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে কর্মসূচি তদারকি করা হচ্ছে। বেতবুনিয়ার এই বাগানটি সম্পর্কে সবসময় সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
পরিকল্পিত পরিচর্যা ও সংরক্ষণ করা গেলে রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়ার বাগান ভবিষ্যতে পাহাড়ি বনজ উদ্ভিদের বীজ ও চারা সংরক্ষণ, গবেষণায় এবং পাহাড়ের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দেশের এক দশমাংশ অঞ্চল জুড়েই পার্বত্য চট্টগ্রামের অবস্থান। এই অঞ্চলের অব্যবহৃত ও জবরদখলকৃত ভূমি বৃক্ষ রোপণের আওতায় আনা গেলে, তারেক রহমান ঘোষিত সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের যে টার্গেট রয়েছে, তার অনেকাংশ টার্গেট পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
জীববৈচিত্র্য রক্ষা, সবুজায়নসহ বৃক্ষরোপণে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে পাহাড়ের সম্ভাবনাময় অঞ্চলকে কাজে লাগাতে এখন প্রয়োজন সরকারের কার্যকর উদ্যোগ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন