প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাণিজ্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন আপাতত কিছুটা সময় পেয়েছে, তবে বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের দুই বৃহৎ অর্থনীতির মধ্যে দীর্ঘদিনের কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা মেটাতে সেই সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। খবরটি প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং একটি জাঁকজমকপূর্ণ শীর্ষ বৈঠক শেষ করেন। বৈঠক শেষে ট্রাম্প জানান, চলতি বছরেই দুই নেতা আরও দুবার বৈঠক করবেন।
যদিও দুই নেতা বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা করেছেন, তথাপি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, তাইওয়ান, প্রতিরক্ষা, বিরল খনিজ এবং শিল্পনীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তীব্র মতবিরোধ বিদ্যমান রয়েছে।
এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের ড্যানিয়েল রাসেল মন্তব্য করেন যে, দুই দেশের সম্পর্কের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এখনো তীব্র মতবিরোধ চলছে।
দ্য এশিয়া গ্রুপের পরামর্শক ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা ড্যানিয়েল ক্রিটেনব্রিঙ্ক বলেন, দুই দেশের নেতার মধ্যে অন্তত বছরের শেষ পর্যন্ত সম্পর্কের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে সন্দেহ নেই।
তবে তিনি সতর্ক করেন যে, দীর্ঘমেয়াদে এই যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখতে হলে আরও কিছু বাস্তব এবং দৃশ্যমান ফলাফল দেখতে হবে।
ক্রিটেনব্রিঙ্কের মতে, আগের বৈঠকগুলোতে চীন যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার অনেকটাই যথাযথভাবে পালন করেনি বলে মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কর্মকর্তা। এই কারণে মার্কিন প্রশাসনের ভেতরে চীনের কর্মকাণ্ড নিয়ে গভীর হতাশাও রয়েছে।
গত বছর দক্ষিণ কোরিয়ায় ট্রাম্প ও সি চিন পিংয়ের বৈঠকের পর দুই দেশ একটি বাণিজ্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন পরস্পরের পণ্যের ওপর ব্যাপক হারে শুল্ক আরোপ করেছিল। একপর্যায়ে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি শুল্কের হার ১০০ শতাংশেরও বেশি হয়ে যায়।
চুক্তির আওতায় চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি পরিমাণে সয়াবিনসহ কৃষিপণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দেয়। একই সঙ্গে এক বছরের জন্য বিরল খনিজ উপাদান রপ্তানিতে বিধিনিষেধ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বেইজিং।
চুক্তিটির মেয়াদ মূলত নভেম্বর মাসে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে দুই দেশ চলতি সপ্তাহে এর মেয়াদ বাড়িয়ে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার শুক্রবার সিএনবিসিকে বলেন, ওয়াশিংটন এই ধরনের মেয়াদ বাড়ানোর সময়কে মূলত ‘কমপ্লায়েন্স পিরিয়ড’ বা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সময় হিসেবে দেখছে।
ক্রিটেনব্রিঙ্ক বলেন, মার্কিন কর্মকর্তাদের দৃষ্টিতে চীন চুক্তিটি টিকিয়ে রাখার জন্য যতটুকু প্রয়োজন, মোটামুটি ততটুকুই করছে, এর বেশি নয়।
তার ভাষায়, দীর্ঘমেয়াদে এ ধরনের পরিস্থিতি টেকসই নয়।
পিটারসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিকসের মেরি লাভলি বলেন, স্বল্প সময়ের জন্য চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো ছিল যুক্তরাষ্ট্রের পছন্দের সিদ্ধান্ত।
তার মতে, চীন আরও দীর্ঘ সময়ের জন্য চুক্তি নবায়ন করতে চেয়েছিল। তবে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের বড় একটি কারণ হলো বিরল খনিজ বা মাটির উপাদান দিয়ে তৈরি চুম্বকের সরবরাহ। তাই ওয়াশিংটন পরিস্থিতিকে খুব বেশি সময়ের জন্য চীনের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইছে না।
লাভলি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ শুল্ক আরোপের হুমকি এখন চীনের ওপর আগের মতো কতটা প্রভাব ফেলছে, সেটিও স্পষ্ট নয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন