প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে ইসরায়েলের বরাদ্দকৃত কোটি কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা বন্ধের পক্ষে ভোট দিয়েছেন ১০০ জনের বেশি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির আইনপ্রণেতা। এই ভোটটি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মধ্যে ইসরায়েল ইস্যুতে গভীর আদর্শিক মতপার্থক্য ও বিভক্তি পুনরায় সামনে এনেছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) প্রতিনিধি পরিষদে একটি সংশোধনী প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে জানা গেছে।
এই সংশোধনী প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছিলেন রিপাবলিকান পার্টির কট্টর সদস্য থমাস ম্যাসি। তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর সমালোচক এবং ইতোমধ্যে ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা বিপুল আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তুলে আসছেন। আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, ম্যাসির এই প্রস্তাবের পক্ষে ১০৩ জন ডেমোক্র্যাট সদস্য ভোট দিলে, তার দলের কোনো রিপাবলিকান সদস্য এতে সমর্থন দেননি।
তবে প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত ৩১৪টি বড় ব্যবধানের বিপক্ষে ভোটে বাতিল হয়ে যায়। ম্যাসির এই প্রস্তাবের বিপক্ষে ৯৮ জন ডেমোক্র্যাট সদস্য ভোট করেছেন এবং ১০ জন আইনপ্রণেতা ‘উপস্থিত’ ভোট দেওয়ার মাধ্যমে কোনো পক্ষে অবস্থান নিতে বিরত ছিলেন।
এই সংবেদনশীল ইস্যুতে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বও আড়াআড়িভাবে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের প্রধান নেতা হাকিম জেফরিস এবং ডেমোক্র্যাটিক ককাসের চেয়ারম্যান পিট আগুইলার প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটিক হুইপ ক্যাথরিন ক্লার্ক প্রস্তাবের পক্ষে তথা ইসরায়েলের সামরিক সহায়তা বন্ধের পক্ষে নিজেদের অবস্থান প্রকাশ করেছেন।
এই ভোটের ফলাফল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রগতিশীল অংশের নেতাদের কাছে একটি ঐতিহাসিক ও বড় ধরনের পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত বলে দেখছেন। তাদের দাবি, মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ইতিহাসে এটি প্রথমবারের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠ ডেমোক্র্যাট সদস্য এভাবে ইসরায়েলের জন্য বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা আটকে দেওয়ার পক্ষে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরলেন। মাত্র দুই বছর আগে একই ধরনের একটি মার্কিন প্রস্তাবের পক্ষে ৩৭ জন ডেমোক্র্যাট সদস্য সমর্থন জানালে, এবার তা তিন গুণ বেড়ে গেছে।
দলীয় নেতৃত্ব পূর্বেই বুঝতে পেরেছিল যে এই বিশেষ ইস্যুতে সদস্যদের মধ্যে বড় ধরনের মতবিরোধ রয়েছে। তাই ভোটের আগে কোনও নির্দিষ্ট অবস্থান নিতে বা দলের সিদ্ধান্তের পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য সদস্যদের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়নি। দলের নেতা হাকিম জেফরিস সবাইকে নিজ নিজ বিবেক ও এলাকার মানুষের মনোভাব অনুযায়ী স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। ভোটের আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে ডেমোক্র্যাট সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মধ্যে ব্যক্তিগত বৈঠকও করেন।
ডেমোক্র্যাটিক হুইপ ক্যাথরিন ক্লার্ক প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেওয়ার পর বলেন, তিনি মনে করেন মূলত সংশোধনিটি কিছুটা ত্রুটিপূর্ণ ছিল। কারণ, এতে সামরিক সহায়তার সঙ্গে গাজায় ফিলিস্তিনি শরণার্থী ও যুদ্ধবিধ্বস্ত বেসামরিক মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা বন্ধের বিষয়টিও যুক্ত ছিল।
অন্যদিকে, প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেওয়া ডেমোক্র্যাট সদস্য মার্ক পোকান জানান, ‘এটি এমন একটি প্রস্তাব ছিল, যা কখনোই পাস হওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা ছিল না। তবে হাকিম জেফরিসের বড় কৃতিত্ব হলো, তিনি সবাইকে নিজের বিবেক অনুযায়ী ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন