প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নেপালের ভোটেকোশি নদীতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার ফলে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ১২৭ জনে পৌঁছেছে। ৪ হাজার ৮৫৮ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টা পর্যন্ত নেপাল পুলিশের সর্বশেষ তথ্যে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। উদ্ধার অভিযানে হাজারো মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও নিখোঁজদের পরিবারের মধ্যে উৎকণ্ঠা বাড়ছে।
নেপাল পুলিশের তথ্যমতে, বন্যার উৎপত্তিস্থল রাসুয়ায় ৪৫টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নুয়াকোটে ১৫৫, ধাদিংয়ে ৫৯, চিতওয়ানে ৩৪৮, গোর্খায় ৬৬, তানাহুনে ৩৮, নাওয়ালপারাসি পূর্বে ২১৭, নাওয়ালপারাসি পশ্চিমে ১৯০ এবং প্রতিবেশী ভারতে ৯টি মরদেহ পাওয়া গেছে। চিতওয়ান ও নাওয়ালপারাসির বিভিন্ন এলাকা থেকে সবচেয়ে বেশি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে ১ হাজার ১১৩টির ময়নাতদন্ত ও আইনগত শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ৯৫টি মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি এমন ৯১১টি মরদেহের বিস্তারিত তথ্য নেপাল পুলিশের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে, যাতে নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনরা ছবি ও তথ্য মিলিয়ে তাদের প্রিয়জনকে শনাক্ত করতে পারেন।
বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধার, অনুসন্ধান, ত্রাণ বিতরণ ও মরদেহ ব্যবস্থাপনায় ৭ হাজার ৯১২ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৫৪১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। দুর্গম ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অনুসন্ধানের পাশাপাশি আটকে পড়া পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং বন্যার পানিতে ও ধ্বংসাবশেষে বন্ধ হয়ে যাওয়া সড়ক সচল করার কাজও চলছে।
এদিকে বিপর্যয়ের মাত্রা বাড়ায় নিখোঁজদের উদ্ধারে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অভিযান চালাচ্ছে উদ্ধারকারী দল। বন্যায় সড়ক, সেতু, বসতবাড়ি, সীমান্ত বাণিজ্যকেন্দ্র ও জলবিদ্যুৎ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে নদীর তীরবর্তী ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্পসংলগ্ন এলাকাগুলোতে ধ্বংসাবশেষের নিচে আটকে থাকা ব্যক্তিদের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নেপালের সরকারি ও আন্তর্জাতিক সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী পার্বত্য এলাকায় বরফ ও পাথরের বিশাল ধসের পর ভীষণ গতিতে পানির স্রোত নেমে আসে। ওই স্রোত ভোটেকোশি ও ত্রিশূলী নদী অববাহিকায় প্রবেশ করে নিম্নাঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পের আশঙ্কা করা হলেও পরবর্তী পর্যবেক্ষণে বরফ-পাথরের ধস ও তা থেকে সৃষ্ট প্রবল জলপ্রবাহকেই দুর্যোগের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বন্যার পর নিখোঁজ ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক মরদেহ দীর্ঘ সময় পানিতে ও কাদামাটির নিচে থাকায় পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হচ্ছে। এ কারণে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ মরদেহের তথ্য সংরক্ষণ, ছবি সংগ্রহ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বংশগত নমুনার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে।
এদিকে নতুন করে বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে ত্রাণ পৌঁছানো, যোগাযোগব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামতের কাজ চলছে। এক সপ্তাহ পরও হাজারো মানুষের সন্ধান না মেলায় উদ্ধার অভিযানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে নেপাল সরকার।
ভারতও উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তা বাড়িয়েছে। বুধবার নেপালে পঞ্চম দফায় একটি ত্রাণবাহী বিমান পাঠিয়েছে দেশটি; এতে উদ্ধার সরঞ্জাম, ওষুধ এবং ১১ সদস্যের একটি উদ্ধারকারী দল রয়েছে। ফলে ভয়াবহ এ দুর্যোগ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহায়তাও ক্রমে জোরদার হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন