প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় কুমার নদে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্বকর্মা পূজা উপলক্ষে এই নৌকা বাইচের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম। তিনি এ সময় বলেন, “গ্রাম বাংলার সংস্কৃতি মানেই বাংলাদেশের সংস্কৃতি। এ সংস্কৃতি লালন করতে হবে।”
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় ভাঙ্গা পৌরসভার খাদ্যগুদামসংলগ্ন কুমার নদের তীরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। নৌকা বাইচ পুনরায় চালু হওয়ায় তিনি ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুলের উদ্যোগকে স্বাগত জানান।
সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ভাঙ্গার ঐতিহাসিক নৌকা বাইচ দেখে দেশের মানুষ অনুপ্রাণিত হবে। গ্রাম বাংলার লোকসংস্কৃতি ধরে রাখতে এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত করা প্রয়োজন। নৌকা বাইচ দেখতে আসা হাজারো দর্শনার্থীকেও তিনি ধন্যবাদ জানান।
ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও নৌকা বাইচের প্রধান উদ্যোক্তা মো. শহিদুল ইসলাম খান বাবুল।
শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, দীর্ঘদিন পর ভাঙ্গাবাসীর প্রাণের দাবি নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে দল-মত ও ধর্মের ভেদাভেদ ভুলে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, লোকসংস্কৃতির শেকড়ের টানে নৌকা বাইচের পাশাপাশি গ্রাম বাংলার জারি, সারিসহ বিভিন্ন লোকসংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে হবে। আগামী বছর আরও ব্যাপক পরিসরে নৌকা বাইচ আয়োজন করা হবে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও ফরিদপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আফজালুর রহমান খান পলাশ এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. শামীমুজ্জামান। এছাড়া ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান, ভাঙ্গা থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব মোল্লা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফজলে সোবাহান শামীম, যুবদলের সভাপতি ওসমান মুন্সীসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
নৌকা বাইচে অন্তত ১৫টি নৌকা অংশ নেয়। প্রতিটি নৌকার মাঝি-মাল্লারা ভিন্ন রঙের পোশাক পরিধান করেন। কিছু কিছু নৌকার দৈর্ঘ্য ছিল ১২০ থেকে ১৪০ ফুট পর্যন্ত। বৈঠার ছন্দে জমে ওঠে প্রতিযোগিতা।
নৌকা বাইচ দেখতে কুমার নদের দুই তীরের ভবনগুলোর ছাদে ভিড় করেন দর্শনার্থীরা। অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে নৌকা ভাড়া করে নদীর দুই পাশে অবস্থান নেন। নদীর ওপরের সেতুগুলোতেও ছিল বিপুল মানুষের সমাগম।
বাইচকে কেন্দ্র করে কুমার নদের দুই তীরে কয়েকশ ভাসমান দোকান বসে। মিষ্টি, খেলনা ও বিভিন্ন গৃহস্থালি পণ্য নিয়ে এসব দোকানে বেচাকেনা হয়।
ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম নৌকা বাইচ পুনরায় আয়োজনের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, বিএনপি নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আইয়ুব আলী মোল্লা বলেন, দীর্ঘদিন পর কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ হওয়ায় ভাঙ্গার মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণে এবারের আয়োজন সফল হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন