প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পদ্মার পাড় ভাঙছে পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে। ভাঙনের চিত্র দীর্ঘ হচ্ছে চাপ চাপ মাটি ধসে। মুহূর্তের মধ্যে প্রায় ১০০ মিটার এলাকা নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। বুধবার (২৮ জুলাই) দুপুরে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পদ্মার মধ্যে চকরাজাপুর ইউনিয়নের চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের উত্তরে কালিদাসখালী এলকায় এই ভাঙন দেখা যায়।
জানা গেছে, চকরাজাপুর ইউনিয়নের ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কালিদাসখালী ও লক্ষীনগর চরের মানুষ ঘরবাড়ি অন্যত্রে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন এবং হুমকির মধ্যে রয়েছে ২০-২৫টি বাড়ি। এ বিষয়ে চকরাজাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বর শহিদুল ইসলাম বলেন, এক সপ্তাহ আগে পদ্মার পানি বাড়তে শুরু করেছে। সেই সাথে ভাঙনও শুরু হয়েছে। এবারের ভাঙনে যে জমিগুলো কবলে পড়েছে, তার অধিকাংশ ছিল আম, মেহগনি গাছ ও বাড়িঘর। এই ওয়ার্ডের মোট ভোটার সংখ্যা এক হাজার ২৬২ জন। পরিবার ছিল চার শতাধিক। তবে নদী ভাঙনের কারণে ইতিমধ্যে প্রায় দেড় শতাধিক পরিবার বিভিন্ন স্থানে চলে গেছে।
৩ নম্বর কালিদাসখালী চরের ও চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা জানিয়েছেন, এক সপ্তাহের মধ্যে অনেকের বাড়ি ও আম বাগান নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। অনেকেই হুমকির মধ্যে রয়েছে। এবারের ভাঙনের ফলে মনে হচ্ছে কালিদাসখালী ও লক্ষীনগর নামে আর কোন চিহ্ন থাকবে না।
চকরাজাপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বর ফজলুল হক জানান, চকরাজাপুর নামে আর কোন চিহ্ন নেই। ইতিমধ্যে বিলিন হয়ে গেছে। এই ওয়ার্ডের তিন ভাগের দুই ভাগ পদ্মা গর্ভে চলে গেছে। বর্তমানে ভাঙন শুরু হয়েছে, এভাবে চলতে থাকলে কিছু দিনের মধ্যে এ ওয়ার্ডও বিলিন হয়ে যাবে।
এদিকে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বর আনোয়ার শিকদার বলেন, কয়েক বছরে আমার প্রায় ৩০ বিঘা জমি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। এই ওয়ার্ডের কোন চিহ্ন অবশিষ্ট নেই। এ ওয়ার্ডের ৩ শতাধিক পরিবার দুই বছরের মধ্যে অন্যত্র চলে গেছেন। চকরাজাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আজিজুল আযম বলেন, প্রতি বছর ভাঙনের কবলে পড়ে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে বর্তমানের ভাঙনের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাম্মী আক্তার বলেন, পদ্মার ভাঙনের খবর পেয়েছি। আমি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন