প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মন্তব্য করেছেন যে, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের ছাগল দুইটি খাওয়া উচিত ছিল।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই কথা বলেন পাটওয়ারী। এর আগে তিনি রংপুর অভিমুখে লংমার্চ উপলক্ষে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির জরুরি প্রস্তুতি সভায় অংশগ্রহণ করেন।
পাটওয়ারী বলেন, আসিফ নজরুলের একটি ছাগল খাওয়া হয়েছে, কিন্তু তার মতে দুটিই খাওয়া উচিত ছিল। একটি বাদ দেওয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের ধিক্কার জানান। তিনি আসিফ নজরুলকে ‘খুব ভালো মানুষ নন’ বলেও মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, আসিফ নজরুল অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গরু, ছাগল ও মুরগি পালন শুরু করেছিলেন এবং এসব প্রাণী যেখানে রাখা হতো সেখানে পুলিশের সিকিউরিটিও দাঁড় করিয়েছিলেন।
এনসিপির এই নেতা মন্তব্য করেন, ছাগল খাওয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা সুযোগ পেলে আরেকটি ছাগলও খেতে পারেন।
এর আগে ‘ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন’ টকশোতে আসিফ নজরুল নিজের মেয়ের পোষা ছাগল চুরির ঘটনা নিয়ে কথা বলেন। তিনি ঘটনাটিকে তার জীবনের অন্যতম ‘হৃদয়বিদারক ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
টকশোতে আসিফ নজরুল জানান, হেয়ার রোডের সরকারি বাসায় একা থাকার কারণে সাড়ে ৯ বছরের ছোট মেয়ের সঙ্গী হিসেবে ছাগলটি কিনে দেওয়া হয়েছিল। ছাগলটির সঙ্গে মেয়ের গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। প্রতিদিন মেয়েটির স্কুলে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকত ছাগলটি এবং স্কুল থেকে ফেরার পর তার সঙ্গে খেলাধুলা করত। এমনকি মেয়েটি ফোনের ওয়ালপেপারে মায়ের ছবির বদলে ছাগলটির গলা জড়িয়ে ধরে থাকা ছবি ব্যবহার করত।
ছাগলটি চুরি হওয়ার পর মেয়েটি প্রচণ্ড ট্রমাটাইজড হয়ে পড়ে বলেও জানান আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, কাঁদতে কাঁদতে বমি করে দেয় এবং টানা দেড় দিন কিছু না খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে।
আসিফ নজরুল বলেন, ঘটনাটিকে রাজনৈতিক প্রতিশোধ হিসেবে প্রচার করা হলেও মূলত মজা করার জন্যই ছাগলটি নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তবে একটি শিশুর পোষা প্রাণী চুরি করে খেয়ে ফেলার ঘটনাকে তিনি অত্যন্ত নির্মম ও অমানুষিক হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, ছাত্রনেতাদের রাজনৈতিক শত্রুতা বা প্রতিবাদস্বরূপ ছাগলটি চুরি করে খাওয়ার বিষয়টি সঠিক নয়।
২০২৪ সালের শেষ দিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা থাকাকালে হেয়ার রোডের সরকারি বাংলো থেকে আসিফ নজরুলের ছোট মেয়ের পোষা ছাগল উধাও হওয়ার ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহলের জন্ম দিয়েছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন