প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে পরিচয়ের শুরু। এরপর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু বিয়ের পরই একের পর এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠে আসে। ভারতের গণমাধ্যম এনডিটিভি জানাচ্ছে, অভিযোগের মধ্যে অর্থ আত্মসাৎ থেকে শুরু করে আরও বড় বিষয় রয়েছে।
উত্তরপ্রদেশের কানপুরের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ, শারীরিক নির্যাতন এবং ধর্ম পরিবর্তনে চাপ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন থাইল্যান্ডের এক নারী।
অভিযোগকারী নারীর নাম আপসর্ন। তিনি থাইল্যান্ডে একটি রেস্তোরাঁ ও ক্যান্টিন পরিচালনা করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কানপুরের চামড়া ব্যবসায়ী ইরফানের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে তাদের অনলাইন কথোপকথন প্রেমের সম্পর্কের দিকে এগিয়ে যায়।
আপসর্নের দাবি, ইরফান তাকে জানিয়েছিলেন যে তিনি অবিবাহিত। পরে ইরফান থাইল্যান্ডে আসেন তার সঙ্গে দেখা করতে। এক পর্যায়ে তার বিশ্বাস অর্জন করে প্রায় দুই বছর আগে থাইল্যান্ডেই তাকে বিয়ে করেন।
তবে বিয়ের পর থেকেই ইরফান ব্যবসা ও বিভিন্ন আর্থিক প্রয়োজনের কথা বলে তার কাছে টাকা চাইতে শুরু করেন বলে অভিযোগ করেছেন আপসর্ন। তার দাবি, নিজের রেস্তোরাঁর আয় এবং আত্মীয়দের কাছ থেকে ধার করা অর্থ মিলিয়ে ধাপে ধাপে স্বামীকে প্রায় ৬০ লাখ রুপি দেন তিনি।
অভিযোগে বলা হয়েছে, টাকা নেওয়ার পর ইরফান তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন এবং ভারতে ফিরে আসেন।
কয়েক মাস স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ না হওয়ায় আপসর্ন শেষ পর্যন্ত ভারতে আসেন। গত ৬ অক্টোবর কানপুরে ইরফানের বাড়িতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, ইরফান আসলে বিবাহিত। তার ১২ বছরের একটি দাম্পত্য সম্পর্ক রয়েছে এবং তিন সন্তানও আছে বলে অভিযোগ করেন আপসর্ন।
এরপর টাকা ফেরত চাইলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ। আপসর্নের দাবি, ইরফান তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন। এমনকি তার সঙ্গে থাকতে বা টাকা ফেরত পেতে হলে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ এবং বোরকা পরার শর্ত দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
পরে ওই নারী পুলিশের দ্বারস্থ হন। অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (পূর্ব) শিবা সিংয়ের কাছে তিনি পুরো ঘটনা জানান।
পুলিশ জানিয়েছে, তার অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাসঙ্গিক আইনে মামলা করা হয়েছে এবং ইরফানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বর্তমানে বিয়ের নথিপত্র, প্রায় ৬০ লাখ রুপি লেনদেনের তথ্য এবং ধর্ম পরিবর্তনে চাপ দেওয়ার অভিযোগ খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন