প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করতে পোল্ট্রি ও প্রাণিসম্পদ খাতে অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার বন্ধ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, উৎপাদন ব্যয় কমানো, মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করা এবং ভোক্তাদের নিরাপদ প্রোটিন সরবরাহের জন্য খামারি, ফিড উৎপাদনকারী ও সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) গাজীপুর সদরের পিটিআই অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য আইন, ২০১০ বাস্তবায়ন ও মান নিয়ন্ত্রণ জোরদারকরণ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, যদি খামারিরা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে উৎপাদন ও ওষুধ ব্যবহার করেন, তাহলে উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ফলে খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ে এবং উৎপাদন ব্যয়ও বৃদ্ধি পায়। এ বিষয়ে মাঠপর্যায়ে খামারিদের সচেতন করতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, দেশের পোল্ট্রি ও প্রাণিসম্পদ খাতের মূল চালিকাশক্তি হলো প্রান্তিক খামারিরা। তাদের টিকিয়ে রাখা এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে খামারিদের কৃষক কার্ডের আওতায় আনা হয়েছে, যাতে তারা সহজ শর্তে ঋণ, বিদ্যুৎ সুবিধা ও সরকারি প্রণোদনা পেতে পারেন।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন শুধু খামারিদের স্বার্থে নয়, বরং পুরো জাতির স্বার্থে জরুরি। সরকার চায় উৎপাদন ব্যয় সহনীয় পর্যায়ে থাকুক এবং ভোক্তারা ন্যায্যমূল্যে নিরাপদ খাদ্য পান।
বাংলাদেশের পোল্ট্রি খাতে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে দেশ থেকে হ্যাচিং ডিম রপ্তানি শুরু হয়েছে। দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রাণিজ পণ্য রপ্তানি বাড়ানোর লক্ষ্যেও সরকার কাজ করছে।
কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ে উদ্যোক্তা বাড়লে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং দেশের অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে।
ভেজাল খাদ্য ও মাদকের বিস্তার রোধে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ করে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি ও খামারিদের সমস্যা সমাধানে সরকার মাঠপর্যায়ে ধারাবাহিকভাবে মতবিনিময় করছে। উৎপাদন ব্যয় কমানো, সহজ শর্তে ঋণপ্রাপ্তি এবং বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
গাজীপুরে ঘোড়ার মাংস বিক্রির অভিযোগের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার এ বিষয়ে সতর্ক রয়েছে। এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর, গাজীপুর আয়োজিত কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. শাকিল আহমেদ, পুলিশ সুপার মো. জসীম উদ্দিন পিপিএম (বার) এবং বাংলাদেশ ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের (ফিয়াব) সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক।
কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য দেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (সম্প্রসারণ) ড. বেগম শামছুননাহার আহম্মদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সদর উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. এস. এম. হারুন-অর-রশিদ। এ সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা এবং স্থানীয় প্রাণিসম্পদ খামারিরা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন