প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে ইউক্রেন সামরিক দিক থেকেও বড় চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে। সিএনএনের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দেশটির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত শেষ হয়ে গেছে। এর ফলে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করার সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সিএনএনকে পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছেন। সূত্রটির মতে, ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতির কারণে সাম্প্রতিক রুশ হামলায় ছোড়া অধিকাংশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে পারেনি ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
গত মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত রাশিয়ার হামলায় কিয়েভের তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। খারকিভের জ্বালানি অবকাঠামোতেও হামলা চালানো হয়। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই হামলায় কিয়েভে চারজন নিহত এবং ২৫ জন আহত হন।
প্যাট্রিয়ট ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত। এটি রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম অল্প কয়েকটি ব্যবস্থার মধ্যে অন্যতম। তবে এসব ক্ষেপণাস্ত্রের উচ্চমূল্য এবং বিশ্ববাজারে সরবরাহের সীমাবদ্ধতা মজুত গড়ে তোলার কাজকে কঠিন করে তুলেছে। ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধের কারণে বিভিন্ন দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের চাহিদা বেড়ে গেছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের স্বল্পতা নিয়ে কয়েক মাস ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন। গত আগস্টে সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, প্রয়োজনের তুলনায় ইউক্রেনের হাতে তখন খুব অল্পসংখ্যক ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। তিনি ঘাটতি পূরণে মিত্রদেশগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করতে হচ্ছে বলেও জানান।
পরে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লাইসেন্স পাওয়ার আশা প্রকাশ করেন জেলেনস্কি। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এতে সম্মতি না দেওয়ায় উদ্যোগটি আর এগোয়নি।
বুধবার দেওয়া এক বিবৃতিতে জেলেনস্কি আবারও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র চেয়েছেন। তিনি বলেন, "শক্তি প্রয়োগ, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং আগ্রাসী পক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।"
রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় ইউক্রেনের হামলা বন্ধ করতে ট্রাম্প প্রশাসনের চাপকে কেন্দ্র করে দুই দেশের বিরোধ আরও জোরালো হয়েছে। জেলেনস্কির যুক্তি, "রাশিয়া যদি ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালিয়ে যায়, তাহলে ইউক্রেনের পাল্টা আক্রমণ বন্ধ করার দাবি ন্যায্য হতে পারে না।"
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ করতে হলে ইউক্রেনকে আরও প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করতে হবে।
এদিকে, ইউক্রেনের জন্য ইউরোপীয় দেশগুলোর অস্ত্র কেনার ব্যবস্থা এবং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় বন্ধ করে দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সিএনএনকে এ তথ্য জানিয়েছেন ইউরোপের দুই কর্মকর্তা। তবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইউক্রেনের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান বন্ধ হয়নি।
ক্ষেপণাস্ত্রের সংকটের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক যোগাযোগব্যবস্থা স্টারশিল্ড নিয়েও সমস্যায় পড়েছে ইউক্রেন। ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স পরিচালিত এই স্যাটেলাইট যোগাযোগব্যবস্থায় সীমাবদ্ধতার কারণে ইউক্রেনের সামরিক অভিযান, রসদ পরিবহন এবং ড্রোন পরিচালনার কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে বলে দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার স্টারশিল্ডের কার্যক্রম আংশিকভাবে স্বাভাবিক হলেও সব সমস্যা মেটেনি। স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের মালিকানাধীন ও নিয়ন্ত্রণাধীন স্টারশিল্ডের ব্যবহার বা গতি সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা মার্কিন সামরিক বাহিনী ও প্রেসিডেন্টের রয়েছে।
সিএনএনকে ইউক্রেনের এক সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, স্টারলিংকের কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়ায় বুধবার তাঁদের ইউনিটের কিছু আক্রমণকারী ড্রোন নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারেনি।
ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে যাওয়া, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং সামরিক যোগাযোগব্যবস্থায় সীমাবদ্ধতা—এই সব মিলিয়ে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। তথ্যসূত্র: সিএনএন
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন