প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের গেট খুলে দেওয়ার ফলে তিস্তার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে।
ভারী বৃষ্টিপাত এবং ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের ৪০টি গেট খুলে দেওয়ার পর তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে কিছুটা কমে গেলেও নিচের দিকে পানি বেড়ে গেছে। এর ফলস্বরূপ নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে অন্তত ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে, এমন তথ্য দিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এদিকে, পানির চাপ সামাল দিতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেটও খুলে দেওয়া হয়েছে। যার কারণে নদীতীরবর্তী ওই নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
সোমবার সকালবেলায় লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল রায় জানিয়েছেন, ভারতে গজলডোবা ব্যারাজের ৪০টি গেট খুলে দেওয়ার কারণে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার বিকেলে ব্যারাজের গেটগুলো খুলে দেওয়ার পর তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করে। তবে সোমবার বিকেলে পানি কমে বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নদীভাঙনের ঘটনাও ঘটছে বলে পাউবো জানিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় লালমনিরহাটের পাঁচটি উপজেলায় ১৩টি ঘরবাড়ি নদীর স্রোতে বিলীন হয়ে গেছে।
হঠাৎ তিস্তার পানি বেড়ে যাওয়ার ফলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হলেও নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। পানি বৃদ্ধির কারণে হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী, দোয়ানী, সানিয়াজান, নিজ শেখ সুন্দর, বাঘেরচর, সিঙ্গীমারী, ধুবনী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, ডাউয়াবাড়ি এবং কালীগঞ্জ উপজেলার শৈলমারী, চর বৈরাতী, রুদ্রেশ্বর, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, গোবর্ধন ও স্পারবাঁধ এলাকার চরাঞ্চলের বাদামক্ষেত, আমনের বীজতলা, মিষ্টিকুমড়াসহ বিভিন্ন ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে কৃষকরা বিপাকের মুখোমুখি রয়েছেন।
কালীগঞ্জ উপজেলার কাশীরাম এলাকার বাদামচাষি লোকমান মিয়া দাবি করছেন যে, তিনি তিস্তার চরে ৭০ শতক জমি লিজ নিয়ে চিনাবাদাম চাষ করেছেন। কিন্তু কয়েকদিন ধরে জমিতে পানি জমে থাকার কারণে বাদামে পচন ধরেছে এবং গাছ হলুদ হয়ে যাচ্ছে। এতে ফলনে কমে যাওয়ার পাশাপাশি লোকসানের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কৃষকরা বলছেন, রাতে পানি কমলেও সকালে ফের বাড়ছে। এই পানির ওঠানামায় তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। চলতি মৌসুমে আমন আবাদের জন্য প্রস্তুত করা অনেক বীজতলা পানিতে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাই নতুন করে বীজতলার প্রয়োজন হতে পারে।
হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী গ্রামের কৃষক আনোয়ারুল হক বলেছেন, রবিবার রাতে টানা বৃষ্টির কারণে তিস্তার পানি আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি শুনেছেন যে, ভারতও পানি ছেড়ে দিয়েছে। পানি যদি এভাবে বাড়তে থাকে, তাহলে চরাঞ্চলের ধানের চারা, বাদাম ও মিষ্টিকুমড়াসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবে।
তিস্তার চর রাজপুর এলাকার কৃষক মকবুল হোসেন জানিয়েছেন, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ঘরবাড়িতে পানি তুলে দিয়েছে। ফলে গবাদিপশু এবং সন্তানদের নিয়ে তিনি চরম বিপদে আছেন।
চর বালাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সেন্টু মিয়া জানিয়েছেন, গত দুই দিন ধরে তিনি পানিবন্দি হয়ে আছেন। চেয়ারম্যান-মেম্বার কেউ কোনো খোঁজখবর নিচ্ছেন না।
লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধান বলেছেন, তিস্তার চরাঞ্চলে প্রায় ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। চেয়ারম্যানদের ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তালিকা পেলেই শুকনো খাবার বিতরণ করা হবে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানিয়েছেন, তিস্তার পানি কখনও বিপৎসীমার ওপরে, কখনও নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তাই চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলের কারণে বেলা বাড়ার সঙ্গে নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন