প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পের পর ধসে পড়া একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আট দিন আটকে থাকার পর এক ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
লা গুয়াইরায় একটি ধসে পড়া শপিং মলের পার্কিং লটের ২৯ ফুট ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া হার্নান আলবার্তো গিল ফ্লোরেসকে এক ‘অলৌকিক’ অভিযানে উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলোর কয়েক দিনব্যাপী সূক্ষ্ম প্রচেষ্টার পর বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) তিনি উদ্ধার হন।
জরুরি কর্মীরা ১৪০ টন ধ্বংসস্তূপের নিচে হার্নান গিলকে প্রথম শনাক্ত করার ১০০ ঘণ্টারও বেশি সময় পর তাকে বের করতে সক্ষম হন।
এর আগে চিলির একজন দমকলকর্মী এই উদ্ধার অভিযানটিকে ‘নিঃসন্দেহে আমার মোকাবিলা করা সবচেয়ে জটিল এবং প্রযুক্তিগতভাবে কঠিন’ বলে বর্ণনা করেছিলেন।
২৪ জুন ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা ভূমিকম্পে প্রায় ২,৩০০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয় এবং এখনও হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
‘সৌভাগ্যবশত, অ্যাম্বুলেন্সে জনাব হার্নানকে পাওয়ার পর তার অবস্থা স্থিতিশীল ছিল,’ উদ্ধারকাজে সহায়তাকারী ভেনেজুয়েলান রেড ক্রসের প্যারামেডিক লুইস রদ্রিগেজ ঘটনাস্থল থেকে রয়টার্সকে বলেন।
‘পুরো যাত্রাপথে তিনি সচেতন, মনোযোগী এবং সহযোগিতা করছিলেন, এবং তার সমস্ত শারীরিক লক্ষণ স্বাভাবিক ছিল, জানান তিনি।
কোস্টা রিকান রেড ক্রসের একজন প্যারামেডিক অ্যালান ম্যাড্রিগাল ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেন যে, এই কঠিন অবস্থার মধ্য দিয়ে গিল ‘একেবারে নিখুঁতভাবে বেরিয়ে এসেছেন।’
ম্যাড্রিগাল হলেন সেই উদ্ধারকারী যিনি রোববার ধ্বংসস্তূপ থেকে বেরিয়ে আসার সময় গিলের সাহায্যের জন্য ক্ষীণ আর্তনাদ শুনেছিলেন।
তিনি স্মরণ করে বলেন, ‘এটি একটি আবেগঘন মুহূর্ত ছিল।’
তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, প্রথমে তিনি নিজের কানকেই বিশ্বাস করতে পারেননি এবং তিনি শুধু কল্পনা করছেন না, তা নিশ্চিত করার জন্য একজন সহকর্মীকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন।
ভূমিকম্প দুটি আঘাত হানার সময় গিল পার্কিং লটের বেসমেন্টের একটি ছোট কংক্রিটের বুথে ডিউটিতে ছিলেন।
জরুরি উদ্ধারকারী দল জানিয়েছে, তারা গিলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন এবং তাকে পানি, খাবার ও ওষুধ দিচ্ছিলেন, যা একটি হোস পাইপ ও সিরিঞ্জের মাধ্যমে তাকে দেয়া হচ্ছিল।
তাঁর কাছে পৌঁছানোর জন্য উদ্ধারকারীরা যে প্রবেশপথ তৈরি করেছিল, তার কিছু অংশ বেশ কয়েকবার ধসে পড়েছিল, যা উদ্ধারকারী এবং গিল উভয়ের জন্যই এই কাজের বিপদকে তুলে ধরে।
সারারাত ধরে, অনুসন্ধানকারী দলগুলো অবশেষে জীবিত ব্যক্তিটির সঙ্গে দৃষ্টি সংযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হয়।
ধ্বংসাবশেষের মধ্যে যেখানে গিল আটকা পড়েছিলেন, সেখানে ঢোকানো একটি ছোট ক্যামেরায় ধারণ করা ফুটেজে, একজন চিলির দমকলকর্মীকে তাকে ক্যামেরার দিকে মাথা ঘোরাতে বলতে শোনা যায়।
ভিডিওতে দেখা যায়, বুধবার ভবনটির ধসে পড়া বেসমেন্টে থাকা একটি সার্চ ক্যামেরার মাধ্যমে উদ্ধারকারীরা প্রথমবারের মতো গিলের দেখা পান।
বৃহস্পতিবার পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, ধ্বংসস্তূপ থেকে গিলের মাথা ও কাঁধ অর্ধেক বেরিয়ে আছে। তাকে একটি মাস্ক পরা অবস্থায় এবং একটি রক্তাক্ত চোখসহ দেখা যায়।
সূত্র: বিবিসি, সিএনএন
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন