প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ৯ অক্টোবর, ২০২৬ : সরকারি অর্থের অপচয় রোধ, আর্থিক ঝুঁকি আগেভাগে চিহ্নিত করা এবং জনসেবা সচল রাখতে অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী ও স্থায়ী করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার।
অর্থ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ‘সরকারি খাতে অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া: স্থায়িত্ব ও করণীয়’ শীর্ষক তিনদিনের একটি কর্মশালায় এ বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
অর্থ বিভাগের স্ট্রেংদেনিং পাবলিক ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম টু এনাবল সার্ভিস ডেলিভারি (এসপিএফএমএস)-এর আওতায় গাজীপুরের একটি হোটেলে (৮ থেকে ১০ অক্টোবর) ইন্টারনাল অডিট অ্যান্ড অডিট ফলো-আপ স্কিম কর্মশালাটি আয়োজন করা হয়।
কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থসচিব মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার। তিনি সংশোধিত ‘মডেল ঝুঁকিভিত্তিক অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা সনদ ও নির্দেশিকা ২০২৬’ উন্মোচন করেন। এই সনদে সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিরীক্ষকদের দায়িত্ব, প্রতিবেদন প্রদানের প্রক্রিয়া এবং পেশাগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করার কাঠামো তুলে ধরা হয়েছে।
অর্থসচিব মন্তব্য করেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষাব্যবস্থা কার্যকর করা একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তিনি এ উদ্যোগকে কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থায় পরিণত করতে সকলকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, প্রশাসনিক অনুমোদন সাপেক্ষে তিন বছরে তিন ধাপে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোতে স্থায়ী নিরীক্ষা ইউনিট বা অধিদপ্তর গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ জন্য নির্দিষ্ট জনবল, নিয়োগবিধি, পেশাগত প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
কর্মশালায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, গণপূর্ত অধিদপ্তর, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নিরীক্ষা কার্যক্রমের অগ্রগতি ও সীমাবদ্ধতা তুলে ধরা হয়। এসব অধিদপ্তর বিভিন্ন ঝুঁকি চিহ্নিত করার পাশাপাশি জনবল সংকট, দক্ষতার ঘাটতি, দুর্বল সমন্বয় এবং স্থায়ী সাংগঠনিক কাঠামোর অভাবের কথা জানায়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ৯৩টি, গণপূর্ত অধিদপ্তর ৭০টি, এলজিইডি ৭৮টি ব্যয়কেন্দ্রে নিরীক্ষার মাধ্যমে ৩০০টি পর্যবেক্ষণ, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ৪১টি এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর ৮২টি ঝুঁকি চিহ্নিত করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর ছয়টি করে নিরীক্ষা প্রতিবেদন সম্পন্ন করেছে।
কর্মশালায় ২০২৬-২০৩১ সালের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কর্মপরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা করা হয়। এতে স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, পর্যাপ্ত বাজেট, পেশাগত দক্ষতা এবং অভ্যন্তরীণ ও বহিঃনিরীক্ষকদের মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন