প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আহম্মেদের স্বামী সিদ্দিক আবু জাফরের কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে পিবিআই ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে। এই ছয়জনের মধ্যে আবদুর রাজ্জাক ওরফে রিয়াদ রয়েছেন, যিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হিসেবে পরিচিত। তদন্তে দেখা গেছে, চাঁদা দাবি, গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা আদায় এবং সেই অর্থ নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার সত্যতা পাওয়া গেছে।
২০২৫ সালের ১৬ জুলাই রাতে শাম্মী আহম্মেদকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে রিয়াদ ও জানে আলম অপু তার গুলশানের বাসায় যান। তল্লাশির সময় শাম্মীকে না পেয়ে পুলিশ চলে যাওয়ার পর, ওই দুই ব্যক্তি পুনরায় পুলিশ ছাড়া বাসায় প্রবেশ করেন।
চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, বাসার মালিক সিদ্দিক আবু জাফরকে আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। ভয়ের কারণে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ১০ লাখ টাকা দিতে বাধ্য হন। পিবিআইয়ের কাছে ওই টাকা গ্রহণের ভিডিও ফুটেজও রয়েছে।
২৬ জুলাই বাকি ৪০ লাখ টাকা আদায়ের জন্য আসামিরা পুনরায় ওই বাসায় গেলে, মালিকের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ রিয়াদসহ পাঁচজনকে হাতেনাতে আটক করে। পরে ডিবির সহায়তায় পলাতক জানে আলম অপুকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রধান আসামি আবদুর রাজ্জাক রিয়াদ এবং অপর আসামি জানে আলম অপু আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে চার্জশিটে উল্লেখ রয়েছে। জবানবন্দিতে রিয়াদ বলেন, “আমি গরিবের ছেলে, টাকার লোভ সামলাতে পারিনি।” তিনি চাঁদা চেয়েছিলেন বলে জানান।
অপুর জবানবন্দি অনুযায়ী, আদায়কৃত ১০ লাখ টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া হয়। সেই টাকা দিয়ে অপু একটি নতুন মোটরসাইকেল কিনেছিলেন এবং কিছু টাকা দিয়ে ধারদেনা শোধ করেছেন।
তদন্তে উঠে এসেছে যে, ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে আসামিরা নিজেদের সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে পুলিশের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। এরপর বিভিন্ন ব্যক্তিকে হয়রানি ও ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায় করতেন তারা।
পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ফিরোজ আহমেদ মুন্সী গত ১৫ অক্টোবর ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন। মামলাটিতে একজন আসামি শিশু হওয়ায় তার বিচার শিশু আদালতে হবে। আগামী ১০ নভেম্বর মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণের শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। বর্তমানে সব আসামি জামিনে রয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন