প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার একটি ঘটনায় প্রেমিকার ফোন নম্বর চাওয়ার কারণে এক উবার ইটস ডেলিভারি চালককে গুলি করার অভিযোগে পুলিশ এক যুবককে গ্রেফতার করেছে। অভিযোগ উঠেছে, ওই চালক প্রেমিকার সঙ্গে কথা বলার পর তার ফোন নম্বর চাইতে ফিরে আসেন। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্ত যুবক তাকে গুলি করেন। গুলির ফলে চালকের নিতম্বে আঘাত লাগে। খবর এনডিটিভির
অভিযুক্ত যুবকের নাম খুসলেন সারুলতুয়া (৩৩)। তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, প্রাণঘাতী অস্ত্র দিয়ে গুরুতর হামলা এবং মাদক পাচারের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে তাকে মিয়ামি-ডেড কাউন্টির টার্নার গিলফোর্ড নাইট সংশোধনাগারে জামিন ছাড়া আটক রাখা হয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৩টার দিকে মিয়ামি-ডেডের পার্ল ডেডল্যান্ড অ্যাপার্টমেন্টে গুলির শব্দ শোনা যায়। পুলিশকে খবর দেওয়ার পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, সেখানে কয়েকজনের মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল, এরপর তারা সেখান থেকে চলে যায়। একই সময়ে গুলিবিদ্ধ এক ব্যক্তি ব্যাপটিস্ট হেলথ সাউথ মিয়ামি হাসপাতালে পৌঁছান।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ডেলিভারি চালক পুলিশকে জানান, ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা আগে তিনি অ্যাপার্টমেন্টের এক নারীর কাছে খাবার পৌঁছে দিয়েছিলেন। সে সময় তাদের মধ্যে কিছু কথাবার্তা হয়। নারীটির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তিনি রাত ৩টা ২৫ মিনিটের দিকে সেখানে ফিরে যান ফোন নম্বর নেওয়ার আশায়।
কিন্তু ওই নারী ফোন নম্বর দিতে রাজি হননি। এরপর চালক নিজের গাড়ির দিকে হেঁটে যাওয়ার সময় একটি শেভ্রোলেট করভেট গাড়ি নিয়ে সেখানে হাজির হন সারুলতুয়া। অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি বন্দুক তাক করে চালককে মাটিতে শুয়ে পড়তে বলেন। এরপর গুলি ছুড়লে চালকের ডান নিতম্বে আঘাত লাগে। পরে বন্দুক দিয়ে তার মাথার পেছনে আঘাত করেন অভিযুক্ত, যার ফলে মাথায় প্রায় দুই ইঞ্চি লম্বা ক্ষত তৈরি হয়।
চালককে উঠে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়ে তার মাথায় বন্দুক তাক করেন সারুলতুয়া। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমি তোমাকে মেরে ফেলব।’ অভিযুক্তের প্রেমিকা তাকে থামানোর চেষ্টা করেন এবং চিৎকার করে গুলি না চালাতে বলেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে যে, সারুলতুয়া চালককে লক্ষ্য করে গাড়ির চারপাশে ধাওয়া করতে থাকেন।
পুলিশ গাড়ির নম্বরপ্লেটের সূত্র ধরে সারুলতুয়াকে শনাক্ত করে। পরে ছবির মাধ্যমে তাকে শনাক্ত করেন ভুক্তভোগী চালক। এরপর অভিযুক্তকে অ্যাপার্টমেন্ট থেকেই গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের মাদক ও ওষুধ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে কেটামিন, কোকেন, এমডিএমএ, সাইলোসাইবিন মাশরুম, গাঁজা, অ্যাডেরল, অক্সিকোডোন, অ্যামফেটামিন, জ্যানাক্স, ১৬টি সিয়ালিস বড়ি এবং ‘পিংক কোকেন’ নামে পরিচিত মাদকের দুটি প্যাকেট।
আদালতে হাজির করা হলে সারুলতুয়া দাবি করেন, উদ্ধার হওয়া সামগ্রীগুলো তার প্রেসক্রিপশনের ওষুধ।
এদিকে, উবার নামক খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, অভিযোগগুলো গুরুতর এবং তারা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন