প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দীর্ঘদিন ধরে সাশ্রয়ী খরচে সিজারিয়ানসহ বিভিন্ন অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসাসেবা দেওয়ার দাবি; মৃত্যুর ঘটনা ঘিরে চিকিৎসার প্রতিটি ধাপের নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি**
সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে স্বল্পমূল্যে সিজারিয়ানসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসাসেবা দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মানুষের পাশে রয়েছেন চিকিৎসক ডা. আমির হামজা। তাঁর কাছ থেকে চিকিৎসাসেবা নেওয়া রোগী ও স্থানীয়দের অনেকের বক্তব্যে এমন তথ্য উঠে এসেছে। সাশ্রয়ী খরচে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কারণে স্থানীয় পর্যায়ে তাঁর পরিচিতিও রয়েছে। তবে রেনু বেগমের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হওয়ায় চিকিৎসকের বক্তব্য, দীর্ঘদিনের সেবামূলক কার্যক্রম এবং মৃত্যুর আগে রোগীর চিকিৎসার পুরো ঘটনাপ্রবাহ নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা জরুরি হয়ে উঠেছে।
চিকিৎসা মানুষের মৌলিক অধিকার। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদে সীমিত আয়ের মানুষের জন্য ব্যয়বহুল চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের খরচ বহন করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। এমন বাস্তবতায় ডা. আমির হামজা দীর্ঘদিন ধরে স্বল্প খরচে সিজারিয়ানসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন বলে তাঁর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সাধারণ মানুষের আর্থিক সামর্থ্যের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার এই উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে আলোচিত। তবে একজন চিকিৎসকের পেশাগত ভূমিকা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে তাঁর দীর্ঘদিনের সেবামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা-ঘটনার বাস্তবতা, রোগীর অভিজ্ঞতা এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা-নথিও সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের উত্তর হলতা গ্রামের বাসিন্দা দুলাল মিয়ার স্ত্রী রেনু বেগম (৪৫) জরায়ুর টিউমারের চিকিৎসার জন্য গত ১০ অক্টোবর বরগুনার বামনা উপজেলার ডৌয়াতলা বাজারে ডা. আমির হামজার চেম্বারে যান। চিকিৎসকের পরামর্শে পরদিন তিনি বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া সার্জিকেয়ার ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি হন। সেখানে তাঁর অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়।
অস্ত্রোপচারের পর কয়েক দিন অতিবাহিত হলে রেনু বেগমের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে ১৯ অক্টোবর তাঁকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ অক্টোবর তাঁর মৃত্যু হয়।
এই মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে অস্ত্রোপচার-পরবর্তী চিকিৎসা, রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের সময়কার পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন সামনে এসেছে। এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে চিকিৎসার প্রতিটি ধাপের তথ্য ও নথি যাচাই করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে ডা. আমির হামজার বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি রেনু বেগমের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন। অস্ত্রোপচারের পর রোগীর নিয়মিত পরিচর্যা ও পরবর্তী চিকিৎসার দায়িত্ব ছিল কাকচিড়া সার্জিকেয়ার ক্লিনিকের সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের ওপর। ক্লিনিকের আবাসিক সার্জন প্রয়োজন অনুযায়ী তাঁর কাছ থেকে মুঠোফোনে চিকিৎসাসংক্রান্ত পরামর্শও নিয়েছিলেন বলে তিনি জানিয়েছেন।
চিকিৎসকের এই বক্তব্যের পাশাপাশি অস্ত্রোপচার-পরবর্তী সময়ে রোগীর দায়িত্বে কারা ছিলেন, কী ধরনের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল, রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি কখন থেকে শুরু হয় এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত কখন ও কী পরিস্থিতিতে নেওয়া হয়েছিল—এসব বিষয় যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
রেনু বেগমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে অস্ত্রোপচারের নথিপত্র, রোগীর শারীরিক পরীক্ষার প্রতিবেদন, অস্ত্রোপচার-পরবর্তী পর্যবেক্ষণ, ব্যবহৃত ওষুধের বিবরণ এবং বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ এবং রোগীর পরিবারের বক্তব্যও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে চিকিৎসা-প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ পর্যালোচনা হলে মৃত্যুর কারণ ও চিকিৎসাসংক্রান্ত কোনো অবহেলা ছিল কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
স্বল্পমূল্যে চিকিৎসাসেবা সাধারণ মানুষের জন্য নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে সাশ্রয়ী খরচে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে ডা. আমির হামজার ভূমিকা থাকলে সেটিও যথাযথভাবে মূল্যায়িত হওয়া উচিত। তবে একই সঙ্গে রেনু বেগমের মৃত্যুর ঘটনাটিও কোনোভাবেই উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
একজন চিকিৎসকের দীর্ঘদিনের সেবামূলক কার্যক্রম যেমন মূল্যায়নের দাবি রাখে, তেমনি একজন রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান এবং পরিবারের প্রশ্নের জবাব পাওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
কোনো পূর্বধারণা, অসম্পূর্ণ তথ্য কিংবা একপাক্ষিক বক্তব্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো নয়; বরং চিকিৎসা-নথি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং যাচাইযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে রেনু বেগমের মৃত্যুর প্রকৃত ঘটনা সামনে আসুক—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট মহলের। এতে একদিকে চিকিৎসকের পেশাগত অবস্থান সম্পর্কে স্বচ্ছতা তৈরি হবে, অন্যদিকে একজন মৃত রোগীর পরিবারও ন্যায়সংগতভাবে প্রকৃত ঘটনা জানার সুযোগ পাবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন