প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা খাদ্যগুদামে সরকারি চাল চুরি ও বিতরণে অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করেছে। গতকাল বুধবার দুপুরে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বুলবুল আহমেদের নেতৃত্বে এই অভিযানটি সম্পন্ন হয়।
অভিযানের সময় খাদ্যগুদামের নথিপত্রে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পায়। সেখানে দেখা যায়, দেড় বছর আগে মারা যাওয়া ফিলিপনগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নইমুদ্দিন সেন্টুর নামে ১০৭ বস্তা বা ৩ দশমিক ২১০ টন চাল উত্তোলনের তথ্য রয়েছে।
গতকাল দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা খাদ্যগুদামে অভিযানটি পরিচালিত হয়। এই অভিযানের সময় সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচির খাদ্যশস্য বিতরণ ও সংরক্ষণের নথিপত্র যাচাই করা হয়। এ সময় বেশ কিছু নথিপত্রে অসংগতি ধরা পড়েছে বলে জানিয়েছে দুদক।
দুদকের কুষ্টিয়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বুলবুল আহমেদ জানিয়েছেন, তদন্তের সময় নথিপত্রে গুরুতর অসংগতি পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে দুদকের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তদন্ত অব্যাহত থাকবে।
দুদক সূত্রে জানা যায়, ফিলিপনগর ইউনিয়নের দুস্থ নারীদের জন্য বরাদ্দ করা চাল বিতরণ-সংক্রান্ত নথি যাচাই করার সময় মৃত সাবেক চেয়ারম্যান নইমুদ্দিন সেন্টুর নামে গত ১৩ অক্টোবর ১০৭ বস্তা (৩.২১০ টন) চাল গ্রহণের ভুয়া তথ্য কর্মকর্তারা দেখতে পান। অথচ তিনি দেড় বছরেরও বেশি সময় আগে মারা গেছেন। মৃত ব্যক্তির নামে কীভাবে চাল উত্তোলন দেখানো হলো, কারা এর পেছনে জড়িত এবং ওই চাল কোথায় নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।
এর আগে, দৌলতপুর উপজেলা খাদ্যগুদামে সরকারি চাল বিতরণ ও সংরক্ষণে অনিয়ম এবং চাল চুরির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নিয়ে গত মঙ্গলবার দৈনিক সমকালে সংবাদ প্রকাশিত হয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পর ওই দিনই এক আদেশে ভারপ্রাপ্ত খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা সেলিম রেজাকে তাঁর দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়।
জেলা খাদ্য কর্মকর্তা আল ওয়াজিউর রহমান সেলিম রেজাকে প্রত্যাহারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, অভিযোগের বিষয়ে অধিকতর তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পেলে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন