প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ৬ নভেম্বর, ২০২৬ : আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান মন্তব্য করেছেন যে আইন পেশায় সফলতার জন্য মানবিক মূল্যবোধ, পেশাগত দক্ষতা, সততা এবং পূর্ণ অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, "একজন মানুষ বিপদে পড়ে আইনজীবীর কাছে এলে নিজের আস্থা, বিশ্বাস, ভরসা, প্রত্যাশা ও স্বপ্ন তার কাছে সমর্পণ করেন।" তাই, মক্কেলের আর্থিক সামর্থ্যকে বিবেচনা না করে, আইনজীবীর প্রধান কর্তব্য হচ্ছে তার পক্ষে যথাযথ আইনি যুক্তি উপস্থাপন এবং পেশাগত দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করা।
আজ রাজধানীর বসুন্ধরায় ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের (আইইউবি) অডিটোরিয়ামে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন বিষয়ক ১৭তম হেনরি ডুনান্ট মেমোরিয়াল মুট কোর্ট প্রতিযোগিতা ২০২৬-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি) এবং আইইউবি যৌথভাবে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, "আইন পেশা অত্যন্ত কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং।" এই পেশায় শুধুমাত্র অর্থ উপার্জনের দিকে মনোযোগী হলে চলবে না; বরং প্রয়োজন পূর্ণকালীন অঙ্গীকার, পেশাদারিত্ব, অধ্যবসায় ও গবেষণা। আদালতে প্রতিটি শব্দ ও যুক্তির গুরুত্ব রয়েছে। তাই একজন আইনজীবীকে যথাযথ গবেষণার মাধ্যমে নির্ভুল তথ্য ও শক্তিশালী আইনি যুক্তি উপস্থাপনের প্রস্তুতি নিতে হবে।
মক্কেল কত টাকা পারিশ্রমিক দিলেন, সেটি নয়; বরং তার পক্ষে যথাযথ আইনি যুক্তি তুলে ধরতে পেরেছেন কি না, সেটিই একজন আইনজীবীর কাছে মুখ্য হওয়া উচিত।
মন্ত্রী আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও মানবাধিকারের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরে বলেন, "মানবাধিকার মানুষের মৌলিক অধিকার নিয়ে বিস্তৃতভাবে কাজ করে।" অন্যদিকে, যুদ্ধ বা সশস্ত্র সংঘাতের পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের প্রয়োগের প্রশ্নটি সামনে আসে। তবে, সময়ের সঙ্গে যুদ্ধের ধরণ, ভাষা ও কৌশলে পরিবর্তন এসেছে।
আগে যুদ্ধের প্রধান উপকরণ ছিল অস্ত্র, বোমা ও গুলি; বর্তমানে অর্থনৈতিক চাপ, বাণিজ্যিক বিরোধ, বাণিজ্য বন্ধ এবং ভিসা বিধিনিষেধের মতো বিষয়ও রাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টির উপায় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বিকাশও নতুন-নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। পরিবর্তিত বিশ্ববাস্তবতায় আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের প্রয়োগ, দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে।
আইনমন্ত্রী তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, "প্রতিটি প্রজন্মের নিজস্ব স্বপ্ন, প্রত্যাশা ও দায়িত্ব রয়েছে।" মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর গণ-অভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান ভিন্ন ভিন্ন প্রজন্মের আকাক্সক্ষা ও দায়িত্বের প্রতিফলন।
তরুণদের মেধা, প্রজ্ঞা, যুক্তি, পরিশ্রম ও অঙ্গীকার দিয়ে দেশের নেতৃত্ব গ্রহণ করতে হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য বিশ্ব গড়ে তুলতে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক এম. তামিম সভাপতিত্ব করেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান দিদার এ হোসেন, বাংলাদেশে আইসিআরসির হেড অব ডেলিগেশন নিকোলাস ফ্লুরি এবং আইইউবির স্কুল অব ল’-এর উপদেষ্টা অধ্যাপক বোরহান উদ্দিন খান বক্তৃতা করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন