প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফুটবল অঙ্গনে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি আলোচিত নাম ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। বিশ্বকাপ ফুটবলের একটি স্বত্ব বিক্রির পরিকল্পনার ভেস্তে যাওয়ার পর তিনি যে চরম বিরোধীতার মুখে রয়েছেন, তা স্পষ্ট। এমন অবস্থায় ফিফা এবং ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ‘প্রতারণার মাধ্যমে’ বিশ্বাস ভঙ্গের অভিযোগ উয়েফা, কনকাকাফ এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন এনেছে।
কনফেডারেশনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ প্রস্তাব নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কের মূল বিষয় ছিল খেলার সততা এবং যারা নেতৃত্বে নির্বাচিত হয়েছেন তাদের সততা। এই প্রকল্পের আওতায় ফিফার সব প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক ও টিকিট বিক্রির স্বত্ব পরিচালনার জন্য একটি নতুন কোম্পানি গঠনের পরিকল্পনা ছিল, যার ২১ শতাংশ মালিকানা একটি বেসরকারি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করার কথা ছিল।
বিভিন্ন কনফেডারেশনের ব্যাপক সমালোচনার মুখে এই উদ্যোগটি বাতিল করা হয়। বিশেষ করে উয়েফা ফিফার সকল প্রতিযোগিতা বয়কটের হুমকিও দিয়েছিল। চিঠিতে বলা হয়েছে, যখন প্রতারণার মাধ্যমে বিশ্বাস ভঙ্গ করা হয়, তখন কোনো ব্যক্তি নিজেকে সেই সমষ্টির ঊর্ধ্বে স্থাপন করেন যারা তাকে দায়িত্ব অর্পণ করেছিল। এরপর সেই কর্তব্যের প্রতি অবহেলা বা তা পরিত্যাগ করার বিষয়টি এসে যায়।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, ফুটবলের নেতৃত্ব জাতীয় বা ব্যক্তিগত সম্পদ নয়। এটি ক্ষমতা কুক্ষিগত করা বা দাবি করার বিষয়টির সঙ্গে যুক্ত নয়। বরং যারা এই দায়িত্ব অর্পণ করেছে, সেই ফুটবল পরিবারের প্রতি সেবার দায়িত্ব পালনই হলো আসল বিষয়। অক্টোবরের বৈঠকের জন্য ফিফা কাউন্সিল একটি প্রতিবেদন উপস্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এছাড়া চিঠিতে উয়েফা-র দেওয়া একটি আইনি সতর্কবার্তার কথাও উল্লেখ রয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই পরিকল্পনার সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো নথিপত্র যেন ফিফা মুছে না ফেলে বা ধ্বংস না করে।
এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় ফিফা একটি বিবৃতি প্রকাশ করে, যেখানে সংস্থাটি এবং ইনফান্তিনোকে ‘দুর্বল বা হেয় প্রতিপন্ন করার’ লক্ষ্যে চালানো সুপরিকল্পিত ও চলমান প্রচেষ্টার তীব্র সমালোচনা করেছে। কনফেডারেশনগুলো জানায়, বিশ্বকাপ স্বত্ব প্রক্রিয়ায় ভুল হওয়ার বিষয়টি ফিফা স্বীকার করলেও, তা যথেষ্ট ছিল না। চিঠিতে বলা হয়, তারা স্বীকার করেনি, প্রস্তাবটিই ছিল মূলত ভুল। ফিফা বিশ্বকাপ সংশ্লিষ্ট কোনো স্বত্ব বা অংশ বিক্রির প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল, তা যে বিচার-বিবেচনার ক্ষেত্রে চরম ব্যর্থতা ছিল, সেটিও তারা স্বীকার করতে পারেনি। এটি কেবল একটি পদ্ধতিগত ভুল পদক্ষেপ ছিল না, বরং ফিফা যাদের সেবার জন্য গঠন করা হয়েছে, সেই প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আস্থার একটি মৌলিক লঙ্ঘন ছিল এটি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন