প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আগামীকাল শনিবার জাপানের নাগোয়া শহরের মিজুহোপার্ক অ্যাথলেটিক স্টেডিয়ামে জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শুরু হতে যাচ্ছে ২০তম এশিয়ান গেমস ২০২৬। এই টুর্নামেন্ট চলবে আগামী ৪ অক্টোবর পর্যন্ত। ক্রীড়াবিদদের পারফরম্যান্স কেমন হবে, এবং টুর্নামেন্টের গুণগত মান কেমন হবে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। তবে এবারের এশিয়ান গেমসের অব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
ভারতীয় দল নাগোয়ায় পৌঁছানোর পর থেকেই আবাসন ব্যবস্থা নিয়ে এক চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার রাতের একটি ঘটনা বিশৃঙ্খলার সকল সীমা ছাড়িয়ে যায়। ভারতের নারী জিমন্যাস্ট প্রণতি নায়েক এবং তার কোচ অশোক মিশ্র যখন তাদের জন্য নির্ধারিত আবাসনে চেক-ইন করতে যান, তখন তারা একটি অদ্ভুত লজিস্টিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন।
আয়োজকরা তাদের জানান, ক্রুজ শিপে তাদের দুজনের জন্য একই রুম বরাদ্দ করা হয়েছে। অ্যাথলেট এবং সহকারী কর্মীদের মধ্যে এই ধরণের মিশ্র-লিঙ্গের আবাসন ব্যবস্থা নিয়ে অসন্তুষ্ট হয়ে তারা অবিলম্বে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানান।
স্থানীয় আয়োজক এবং দলের কর্মকর্তাদের সাথে ক্রমাগত যোগাযোগের চেষ্টা করা সত্ত্বেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা পরিস্থিতি অমীমাংসিতই থেকে যায়। শেষ পর্যন্ত ভারতীয় অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন-এর জরুরি হস্তক্ষেপের পর রাত প্রায় দেড়টায় বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
তবে বিশৃঙ্খলার এখানেই শেষ ছিল না। অশোক মিশ্র যখন অবশেষে তার আলাদা রুমের চাবি সংগ্রহ করতে যান, তখন হোটেল কর্মীরা তাকে জানান যে রেজিস্ট্রারে তাঁর বুকিং খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এর কারণ ছিল অফিসিয়াল কাগজপত্রের একটি ছোটখাটো প্রশাসনিক ভুল। সিস্টেমে তাঁর নামের রেকর্ড থেকে একটি অক্ষর বাদ পড়ে গিয়েছিল। এই করণিক ভুল সংশোধন এবং তার অ্যাক্রেডিটেশন যাচাই করতে আরো ৪৫ মিনিট সময় লেগে যায়, যার ফলে কোচের রুমে গিয়ে বিশ্রাম নিতে রাত ২টা পেরিয়ে যায়।
এনডিটিভির পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হলে প্রণতি নায়েক নিশ্চিত করে বলেন, ‘হ্যাঁ, আবাসন নিয়ে একটা গোলমাল হয়েছিল। রাত ২টার দিকে এটার সমাধান হয়।’ ভারতীয় দল জাপানে পৌঁছানোর পর থেকেই আবাসন সংক্রান্ত বেশ কিছু সমস্যার কথা সামনে এসেছে। অনেক অ্যাথলেটকে রুম পাওয়ার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে।
এ ছাড়া প্রশিক্ষণ এবং খাবার পাওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। জানা গেছে, ভারতীয় কবাডি দলের সদস্যরাও পৌঁছানোর পর একই ধরণের হোটেল গোলমাল এবং দেরিতে চেক-ইনের সম্মুখীন হয়েছিলেন, যা দলের আগমন পর্বের সময় ব্যাপক প্রশাসনিক ও সমন্বয়হীনতার আরেকটি চিত্র তুলে ধরে।
খেলাধুলা শুরু হতে চলায় অ্যাথলেট এবং সহকারী কর্মীরা আশা করছেন, মাঠের বাইরের এই প্রশাসনিক জটিলতাগুলো এখন কেটে যাবে, যাতে তারা পুরোপুরি পারফরম্যান্সের দিকে মনোযোগ দিতে পারেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন