প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
‘রূপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ শ্লোগানে রাজবাড়ী জেলায় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাতীয় মৎস্য পক্ষ পালিত হয়েছে।
এই উপলক্ষে আজ রোববার দুপুরে জেলার প্রশাসক আফরোজা পারভীন এর নেতৃত্বে জেলা অফিসার্স ক্লাবের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন করা হয়। এ সময় বর্ণিল ব্যানার, ফেস্টুন এবং নানা রঙের টি-শার্ট পরিহিত বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে এতে অংশগ্রহণ করে।
এরপর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীনের সভাপতিত্বে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পুলিশের সুপার মোহাম্মদ মঞ্জুর মোর্শেদ, জেলা সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ, বিএনপি নেতা গাজী আহসান হাবীব, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির রাজবাড়ী ইউনিটের সহ-সভাপতি অধ্যাপক মনজুরুল আলম দুলাল, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহবুব উল হক, গোয়ালন্দ উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আনোয়ারুল হক, জেলা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির কর্মকর্তাগণ এবং মৎস্যজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক বক্তব্যে বলেন, দেশের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে আইনের প্রয়োগের সঙ্গে সঙ্গে জেলেদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারলে মৎস্য উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে। আমরা আশাবাদী।
সভায় বক্তাগণ বলেন, জাতীয় মৎস্য পক্ষের এই আয়োজন মৎস্য সম্পদের টেকসই উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। দেশের অর্থনীতিকে আরও সমৃদ্ধ করতে মৎস্য সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, সংরক্ষণ এবং উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে সম্ভব।
মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন অনুষ্ঠানকালে জেলার মৎস্যজীবীদের পক্ষ থেকে সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলা হয়, মাছের টেকসই উৎপাদন ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করার জন্য এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহবুব উল হক বাসসকে জানিয়েছেন, চলতি বছরে রাজবাড়ী জেলায় মোট ৩৩ হাজার ২৫২ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদিত হয়েছে। জেলার বার্ষিক মাছ চাহিদা ২৪ হাজার ৮৩৪ মেট্রিক টন। ফলে উৎপাদন চাহিদার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি মাছ উৎপাদিত হয়।
তিনি আরো জানান, গত বছর জেলা তথা ২৯৫ জন জেলেকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। সেইসঙ্গে ৮ হাজার ৭৬৫ জন জেলেকে ৬৫৯ মেট্রিক টন খাদ্য ও ৪৫০ কেজি রেণু পোনা বিতরণ করা হয়েছে।
মৎস্য কর্মকর্তা আরও জানান, মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে পদ্মা নদীতে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এর ফলে জেলায় ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের উৎপাদন ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন