প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পূর্ব ইউরোপের দেশ মলদোভা বর্তমানে চলমান তীব্র খরা এবং বৈশ্বিক বিভিন্ন সংঘাতের কারণে পানির মারাত্মক ঘাটতি ও বিদ্যুৎ সংকটে ভুগছে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য দেশজুড়ে পানি ও জ্বালানি খাতে আগামী ৬০ দিনের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।
মলদোভান পার্লামেন্টের ১০১টি আসনের মধ্যে ৫৪টি ভোটের মাধ্যমে এই জরুরি অবস্থার প্রস্তাব পাস করা হয়। আগামী শনিবার থেকে এই নির্দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হতে যাচ্ছে।
দেশটির পরিবেশ মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, মলদোভা অঞ্চলের প্রধান পানির উৎস ‘দিনিস্টার’ এবং ‘প্রুট’ নদীতে পানির পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে, যা একটি ভয়াবহ ‘হাইড্রোলজিক্যাল সংকট’ সৃষ্টি করেছে। স্বাভাবিক অবস্থায় ইউক্রেনের নোভোডনিস্ত্রোভস্ক জলাধার থেকে প্রতি সেকেন্ডে অন্তত ৬০ ঘনমিটার পানি প্রবাহের প্রয়োজন, কিন্তু বর্তমানে তা মাত্র ২২ ঘনমিটার পাওয়া যাচ্ছে। পানির সংকট মোকাবিলায় অপ্রয়োজনীয় কাজে পানি ব্যবহারে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে, জানিয়েছেন পরিবেশমন্ত্রী জর্জ হাইডার।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী ভাসিলে তোফান এই সংকটকে এক ‘পারফেক্ট স্টর্ম’ বা বহুমুখী বিপদের সংমিশ্রণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, খরার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেন যুদ্ধ এবং জ্বালানি শোধনাগারগুলোর ধ্বংসযজ্ঞের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। শীতের ঠিক মুখে জ্বালানি ও পানির সংকট একত্রে উপস্থিত হওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, উল্লেখ্য যে, ইউক্রেনের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে রাশিয়ার সাম্প্রতিক হামলার পর থেকেই প্রতিবেশী দেশ মলদোভার বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে। নতুন এই জরুরি অবস্থার ফলে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সংকট মোকাবিলায় বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণের আশা করছে দেশটির সরকার।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন