প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঠাকুরগাঁওয়ের একটি বিনোদন কেন্দ্রে অনৈতিক কাজের অভিযোগে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অভিযান চালিয়েছে। অভিযানের সময় বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে খেলনা পিস্তল, ওয়াকিটকি, ইয়াবা, বৈদ্যুতিক শক মেশিন, রড এবং যৌন উপকরণ। অভিযানের ফলস্বরূপ এক নারীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেল ৫টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়নের দক্ষিণ ঠাকুরগাঁও এলাকায় স্বপ্ন জগত পার্কে অভিযান পরিচালিত হয়। ডিবি পুলিশ জানায়, অভিযানের পর গ্রেফতারকৃত তিনজনকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। কিছুক্ষণ সেখানে থাকার পর তাদের আবার স্বপ্ন জগত পার্কে নেওয়া হয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে পার্কে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুহুল আমিনের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত স্থাপন করা হয়। আদালত তিনজনের প্রত্যেককে ১,৫০০ টাকা জরিমানা এবং দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন: সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এবং স্বপ্ন জগত পার্কের মালিক গোলাম সরওয়ার চৌধুরীর বড় ছেলে সাঈদ চৌধুরী (৩২), পৌর শহরের সরকারপাড়া এলাকার মৃত মকসেদ আলীর মেয়ে রিয়া আক্তার (২৮) এবং জামাল উদ্দীনের ছেলে ফরহাদ হোসেন জিকো (৩০)। ডিবি পুলিশের দেয়া তথ্য অনুসারে, অভিযানের সময় পার্কের ভেতর থেকে একটি খেলনা পিস্তল, চারটি ওয়াকিটকি, দুটি রড, তিনটি ইয়াবা বড়ি, একটি বৈদ্যুতিক শক মেশিন এবং যৌন উপকরণ জব্দ করা হয়। পুলিশ আরও জানায়, অভিযানের সময় রিয়া আক্তারকে আপত্তিকর এবং মাদকাসক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। ফরহাদ হোসেন জিকোকে তাদের সহযোগী হিসেবেও গ্রেফতার করা হয়েছে। স্বপ্ন জগত পার্ককে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেছেন कि বিনোদন কেন্দ্রে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর পার্ক এলাকায় নারী-পুরুষের সন্দেহজনক আনাগোনা বেড়ে যায়। কিছু স্থানীয়দের দাবি হলো, সেখানে মাদক সেবনের পাশাপাশি মাদক কেনাবেচার এবং জুয়ার আসর বসার অভিযোগও পাওয়া গেছে। এসব বিষয় নিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা-সমালোচনা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বেড়ে গেছে। পার্কে বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষের আনাগোনা এবং নির্দিষ্ট কিছু স্থানে দীর্ঘ সময় অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। ডিবির সাম্প্রতিক অভিযানের মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া ইয়াবা, ওয়াকিটকি, খেলনা পিস্তল, বৈদ্যুতিক শক মেশিনসহ বিভিন্ন সরঞ্জামের পর স্থানীয়দের পুরোনো অভিযোগগুলো আবার নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। এসব সরঞ্জাম কেন সেখানে রাখা হয়েছিল এবং পার্কে আরও কোন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হচ্ছিল কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এ বিষয়ে পার্ক কর্তৃপক্ষের মন্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুহুল আমিন বলেছেন, ‘অভিযানে উদ্ধার হওয়া সরঞ্জাম ও গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে গ্রেফতার তিনজনকে জরিমানা ও কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘পার্কটিতে কী ধরনের কর্মকাণ্ড চলছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জনস্বার্থের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন