প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় খলনায়ক আশরাফুল হক ডনকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল, তবে একদিন আগেই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) আদালতে দেওয়া আবেদনে জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে মামলার গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্য তিনি কৌশলে গোপন করেছেন।
তদন্ত সংস্থাটি একই সঙ্গে মামলার ঘটনার সঙ্গে তার জড়িত থাকার বিষয়ে বেশ কিছু তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রিমান্ড শেষ হওয়ার পর ডনকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের পরিদর্শক মজিবুর রহমান।
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আদালতে দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সালমান শাহর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন ডন। ১৯৯২ থেকে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তার সঙ্গে একাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। মামলার এজাহারে থাকা পলাতক আসামিদের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি তাদের চেনেন বলে স্বীকার করলেও ঘটনার বিষয়ে অনেক তথ্য গোপন করেছেন। সালমান শাহর মৃত্যু ও মামলার ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি অত্যন্ত কৌশলে কথা বলেন।
সিআইডি বলছে, ঘটনার আগে, সময় ও পরে ডনের আচরণ ও চালচলন বিশ্লেষণ করে মামলার সঙ্গে তার জড়িত থাকার বিষয়ে বেশ কিছু তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনে তাকে আবারও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মজিবুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ‘তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা একদিন আগেই শেষ তাই কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেছি। পরে প্রয়োজন পড়লে আবার রিমান্ডের আবেদন করা হবে।’
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই শাহ আলম জানান, আসামির পক্ষে কোনো আবেদন ছিল না। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। গত ৯ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেফতার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে তাকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। ২০ আগস্ট তার সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। ২৭ আগস্ট শুনানি শেষে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে গত রবিবার তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় সিআইডি।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের ফ্ল্যাটে সালমান শাহ মারা যান। তার মৃত্যু নিয়ে প্রথমে অপমৃত্যুর মামলা হয়। পরে হত্যা অভিযোগে মামলা রূপান্তরের আবেদন করা হয়।
সিআইডি, বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও পিবিআইয়ের তদন্তে একাধিকবার আত্মহত্যার কথা বলা হলেও পরিবারের পক্ষ থেকে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়। গত বছরের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম নতুন করে হত্যা মামলা করেন। এজাহারে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সালমান শাহকে হত্যার অভিযোগ করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন