প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তিনজন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন, যাঁরা নিজেদের কর্ম ও উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁদের জীবনসংগ্রাম এবং ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা শোনার পর প্রধানমন্ত্রী প্রশংসা করেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন নায়লা শারাফ, যিনি বুয়েট থেকে পাস করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নিয়েছেন, মো. আলতাফ হোসেন, যাঁর দুই হাত নেই কিন্তু বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন, এবং রেজাউল কিবরিয়া বাবুল, যিনি নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন।
সাক্ষাৎকালে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তাঁরা। প্রধানমন্ত্রী তাঁদের জীবনসংগ্রাম, ব্যতিক্রমী উদ্যোগ এবং সমাজের কল্যাণে পরিচালিত কার্যক্রম মনোযোগ দিয়ে শোনেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।’
নায়লা শারাফের ব্যতিক্রমী পেশা নির্বাচনের বিষয়টি আলোচনায় আসে। তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে পড়ালেখা শেষ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। পরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়েও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নেন।
নায়লা গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ করতে তিনি নিজেই শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করেন।
অন্যদিকে, নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেন জন্ম থেকেই দুই হাতহীন। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাঁকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। পা দিয়ে লেখালেখি শিখে ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল।
নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থ দিয়ে গড়ে তোলা বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে এবং সেখানে ১০ জন শিক্ষক রয়েছেন। আলতাফ পা দিয়েই লেখালেখি ও বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর কথা শুনে নতুন স্কুল ভবন নির্মাণের আশ্বাস দেন।
ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুল দীর্ঘদিন ধরে নিজ উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ করে এলাকায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম দিয়ে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন।
পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলার পর সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ শুরু করেন বাবুল। তাঁর লাগানো অনেক গাছ এখন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তাঁদের প্রত্যেকের উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাঁদের নিজ নিজ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে উৎসাহ দেন এবং সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন