প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঝিনাইদহ শহরের কোরাপাড়ায় শিখা (২২) নামে এক যুবতীর রহস্যজনক মৃত্যু ঘটেছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে কোরাপাড়া গ্রামের এক ব্যক্তি মুকুলের ঘর থেকে এক সন্তানের জননী শিখার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রতিবেশীদের অভিযোগ, মুকুল শিখাকে হত্যা করে গলায় ওড়না পেচিয়ে ঝুলিয়ে রাখে। শিখা সদর উপজেলার সাধুহাটী ইউনিয়নের শহিদুল ইসলামের কন্যা।
অভিযোগ রয়েছে, কোরাপাড়া গ্রামের হাকিম মেম্বরের ছেলে গ্রীল মিস্ত্রি মুকুল একজন নারী লোভী ব্যক্তি। বিভিন্ন স্থান থেকে সে নারীদের নিজ বাড়িতে এনে ফুর্তি করতো বলে জানা গেছে। রোববার (৪ অক্টোবর) রাতে শিখাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসে মুকুল। পরে সে বাসর ঘর সাজায়। দুই দিন পর শিখার লাশ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলতে দেখা যায়।
প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, শিখা মামা পরিচয় দিয়ে মুকুলের বাসায় ওঠে। কিন্তু মুকুলের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। ঢাকা থেকে বাসে আসার সময় তাদের পরিচয় হয়। এ সময় মুকুল শিখাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসে। কিন্তু বাড়িতে এসে বিয়ে নিয়ে আলোচনা শুরু হলে এমন ঘটনা ঘটতে পারে বলে প্রতিবেশীরা অভিযোগ করেন।
শিখার পিতা শহিদুল ইসলাম জানান, মেয়ের সঙ্গে তার যোগাযোগ নেই। মাঝে মাঝে মোবাইলে কথা হয়। প্রথমে মেয়েকে বিয়ে দেওয়া হয়। প্রথম স্বামীর ঘর করেনি। তারপর প্রবাসি ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক করে। এসব কারণে মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক রাখেননি। তিনি মনে করেন, শিখাকে হত্যা করা হতে পারে।
শিখার মামা তরিকুল ইসলাম জানান, লাশ উদ্ধারের পর মুকুল বলেছে শিখাকে সে চেনে না। অথচ তার ঘর থেকেই লাশ উদ্ধার হয়েছে। এ সময় শিখার শরীরে থাকা জামা কাপড় ছেঁড়া ছিল। তাই ঘটনাটি রহস্যজনক বলে মনে হচ্ছে। তাছাড়া লাশ উদ্ধারের সময় মুকুল পুলিশ দেখে পালিয়ে যায়। তাই তাদের সন্দেহ, শিখাকে হত্যা করা হয়েছে।
তরিকুল আরও জানান, ঢাকা থেকে আসার পর মুকুল শিখাকে ফোন করে বাসায় ডেকে নেয়। দু’জনার মোবাইলে কললিষ্ট চেক করলে হত্যার মোটিভ জানা যাবে।
ঝিনাইদহ সদর থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রোকনুজ্জামান জানান, ঘরের দরজা ভেঙে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন